টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে অধিকাংশ মাধ্যমিক বিদ্যালয় সরকারি নির্দেশ অমান্য করে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অ্যাসাইনমেন্ট ফি ও বেতন আদায় করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, করোনাকালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষা বাতিল করে ৩০ কর্মদিবসের একটি সিলেবাসের ভিত্তিতে সাপ্তাহিক অ্যাসাইনমেন্ট পরীক্ষার ব্যবস্থা করেছে শিক্ষা অধিদপ্তর। এই অ্যাসাইনমেন্টের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে মির্জাপুর উপজেলার অধিকাংশ মাধ্যমিক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অ্যাসাইনমেন্ট ফি ও বকেয়া বেতন আদায় শুরু করে।
একসঙ্গে ৮-৯ মাসের বেতন এবং ফি দিতে হিমশিম খাচ্ছেন করোনায় কর্মহীন এবং দরিদ্র অভিভাবকরা। এ অবস্থায় বেতন মওকুফের জন্য অনেক অভিভাবক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং পরিচালনা পরিষদের সদস্যদের কাছে ধরনা দিচ্ছেন প্রতিনিয়ত। কিন্তু অর্থ আদাকারী ওইসব বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের সিদ্ধান্তে অটল।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলার মজিদপুর গ্রামের একজন অভিভাবক জানান, বংশাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণিপড়–য়া তার মেয়ের প্রতি অ্যাসাইনমেন্ট বাবদ ২৪০ টাকা করে নিচ্ছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
উপজেলা সদরের পুষ্টকামুরী গ্রামের এক অভিভাবক জানান, তার মেয়ে মির্জাপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মেয়ের অ্যাসাইনমেন্ট জমা দেওয়ার সময় বকেয়া বেতন পরিশোধ করতে বলেছে।
এ বিষয়ে বংশাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক আমজাদ হোসেন বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্টের কভার পেজ, খাতা ও প্রশ্ন সরবরাহ করছি। তাই খরচ বাবদ কিছু টাকা নিচ্ছি।’ গেড়ামারা গোহাইলবাড়ি সবুজ সেনা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোজাম্মেল হোসেন বলেন, ‘আমরা অ্যাসাইনমেন্ট ফি নিচ্ছি না। শুধু স্কুলের বেতন নিচ্ছি।’ হাট ফতেপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফরিদ হোসাইন বলেন, ‘যেসব শিক্ষার্থী স্বেচ্ছায় বেতন দিচ্ছে আমরা শুধু তাদের বেতনই নিচ্ছি।’
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ বলেন, অ্যাসাইনমেন্ট ফি বাবদ টাকা নেওয়ার কোনো বিধান নেই। স্কুলের বেতন আদায় করার সরকারি কোনো নির্দেশনা পাইনি। সব মাধ্যমিক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে বকেয়া বেতন আদায় বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।