শনিবার ঘোষিত কেন্দ্রীয় যুবলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে উপ-ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক পদটি নিয়ে পটিয়া উপজেলার যুবলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে ধূম্রজাল তৈরি হয়েছে।
ঘোষিত কেন্দ্রীয় যুবলীগের কমিটিতে ৭৯ নম্বর সিরিয়ালে ‘উপ-ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক’ পদে মো. আবদুর রহিমের নাম রয়েছে। আবদুর রহিম কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সম্পাদক, পশ্চিম পটিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, পটিয়া উপজেলা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবলীগের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
তবে যুবলীগের নতুন কমিটির তালিকায় তার নাম থাকলেও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে একটি ফোন নম্বর নিয়ে। রবিবার যুবলীগের কমিটির তালিকায় তার নামের পাশে হাতে লেখা একটি ফোন নম্বর দেখতে পাওয়া যায়। ফোন নম্বরটি তার নয় বলে জানান আবদুর রহিম।
তবে ওই ফোন নম্বরসহ পৃষ্ঠাটি ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকে উপজেলা যুবলীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্ত ছড়িয়ে পড়ে। আবদুর রহিমের কর্মী-সমর্থকরা মনে করেন, ‘রহিম ভাই তৃণমূলের পরীক্ষিত নেতা। এ নেতার বিচরণ উপজেলাসহ জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলেও। তিনি এবারের দক্ষিণ জেলা যুবলীগের সভাপতি পদের প্রার্থী’।
তবে তার নামের পাশে উল্লিখিত নম্বরে এ প্রতিবেদক ফোন দিলে অপরদিকে যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তিনিও নিজেকে আবদুর রহমান বলে দাবি করেন।
তিনি বলেন, যুবলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে আমাকে উপ-ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক পদটি দেওয়া হয়েছে। তবে প্রিন্টিং মিসটেকের কারণে নামটি ভুল এসেছে। তাই মোবাইল নম্বর দিয়ে কনফার্ম করা হয়েছে।
তবে আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা যুবলীগের পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি বঙ্গবন্ধুর মাজার জেয়ারত করতে যাব, আমি সেখান থেকে ফিরে সংশোধিত কাগজটি আপনাকে দেব।
এ ব্যাপারে যুবলীগ নেতা মো. আবদুর রহিম জানান, আমি পটিয়া উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলাম, এর আগে কেন্দ্রীয় ছাত্র লীগের সহ-সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। বর্তমানে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী যুবলীগের নির্বাহী সদস্য হিসেবে রাজনীতিতে সক্রিয়। আমার মতো তৃণমূলের একজন কর্মীকে যুবলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদে মূল্যায়ন করায় জননেত্রী শেখ হাসিনা, যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাঈনুল হোসেন খান নিখিল ভাইয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। ভবিষ্যতে অতীতের মতো সংগঠনের নীতি আদর্শকে ধারণ করে পরিচ্ছন্ন যুবলীগের কমিটমেন্ট বাস্তবায়নে কাজ করে যাব ইনশা আল্লাহ।
তবে ফেইসবুকে তার নামের পাশে ভিন্ন ব্যক্তির ফোন নম্বর ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় তিনি বিব্রত নন বলে জানান।
এ বিষয়ে পটিয়া উপজেলা যুবলীগের তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা জানান, যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির উপ-ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক পদে নাম আসা মো. আবদুর রহিমের বাড়ি উপজেলার কোলাগাঁও ইউনিয়নের মোহাম্মদ নগর এলাকায়। অন্যদিকে তার নামের পাশে থাকা মোবাইল নম্বর ব্যবহারকারী এবং ওই পদের দাবি করা আবদুর রহমানের বাড়ি একই উপজেলার পৌর সদরের বাহুলী এলাকায়।
নেতাকর্মীরা জানান, তবে আবদুর রহমানকে যুবলীগের লোক হিসেবে কেউ চেনে না। যুবলীগের কোনো কমিটিতেও তিনি নেই। কোনো কর্মসূচিতেও তাকে কখনো দেখা যায়নি।
তাদের ধারণা, মেয়াদোত্তীর্ণ উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সঙ্গে আবদুর রহিমের বিরোধ রয়েছে। তারা ষড়যন্ত্র মূলকভাবে এ কাজ করতে পারেন।
উল্লেখ্য, শনিবার কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্যাডে সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মাইনুল হোসেন খান নিখিল স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কেন্দ্রীয় যুবলীগের ২০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করেন। গণমাধ্যমে পাঠানো সেই তালিকায় কারো নামের পাশে ফোন নম্বর উল্লেখ ছিল না।
তবে উপ-ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে পটিয়ার যুবলীগ নেতা মো. আবদুর রহিমসহ ওই পৃষ্ঠায় থাকা কয়েকজনের নামের পাশে হাতে লেখা ফোন নম্বর যুক্ত করা আছে। অন্যান্য ফোন নম্বর বিষয়ে তথ্য যাচাই সম্ভব হয়নি।