মাদারীপুরের বিভিন্ন এলাকায় এক সময় সবুজ পানের বরজের সমারোহ ছিল। বন্যায় সেই সবুজ বরজ আর নেই। মাদারীপুরের ৪টি উপজেলায় এই বছরের বন্যার পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে পানের বরজ।
এতে করে লোকসানের মুখে পড়েছেন চাষিদের। এনজিও ও ব্যাংক থেকে নেয়া ঋণের দায়ে বিপাকে পড়েছেন তারা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাদারীপুরে চলতি মৌসুমে ৩৭৮ হেক্টর জমিতে পান চাষ হয়েছিল। চলতি বছর ভারি বর্ষণ ও দীর্ঘস্থায়ী বন্যার কারণে জেলায় ১০১ হেক্টর জমির পান বরজের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
আগে বিভিন্ন গ্রাম থেকে প্রতি বছর কোটি টাকার পান ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় রপ্তানি হতো।
বিগত বছরের মতো এ বছর লাভের আশায় পান চাষ করেছিলেন চাষিরা। কিন্তু জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে শতাধিক পানের বরজ। জলবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে পানের গাছ, লতা ও পান নষ্ট হয়ে গেছে। এতে প্রায় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
বেশির ভাগ চাষিই এখন লোকসানের মুখে। কীভাবে দেনা পরিশোধ করবেন সেই চিন্তায় দিশেহারা তারা। এখন দেনার পরিশোধের চিন্তায় অসহায় হয়ে পড়েছেন চাষিরা।
পান চাষি সাইদুল বলেন, এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে জমিতে পানের বরজ করেছি। জোয়ারের পানিতে লাখ লাখ টাকার পান নষ্ট হয়ে গেছে। সব হারিয়ে এখন আমি আমার পরিবার দিশেহারা।
আরেক চাষি আমিন জানান, ঋণ নিয়ে এখন সেটা গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন পুনরায় শুরু করেছি কিন্তু শেষ পর্যন্ত করতে পারবো কিনা নিশ্চিত না। তবে আমাদের সরকারি সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন।
মাদারীপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করা হয়েছে। পান চাষের জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এতে কিছুটা হলেও ক্ষতির পরিমাণ কমবে। ঘুরে দাঁড়াবে কৃষকরা।