আজারবাইজানের সঙ্গে শান্তিচুক্তির পর নাগরনো-কারবাখ ছাড়ছে আর্মেনীয়রা। পাহাড়ি অঞ্চলটি ঢেকে গেছে কালো ধোঁয়া। নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস বেঁধে আর্মেনিয়ার পথে হাঁটছেন অসংখ্য মানুষ। আর যাওয়ার আগে পুড়িয়ে দিচ্ছেন নিজেদের ঘরবাড়ি।
তবে চুক্তি অনুসারে নাগরনো-কারবাখ ছাড়তে সময় আরও বাড়িয়ে দিয়েছে আজারবাইজান। পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় এবং আবহাওয়া প্রতিকূল থাকায় আজেরি সরকার এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে ডয়চে ভেলে এক প্রতিবেদনে জানায়।
সোভিয়েত যুগের অবসানের পর থেকে আন্তর্জাতিকভাবে আজারবাইজানের অংশ হিসেবে স্বীকৃত নাগরনো-কারাবাখ। কিন্তু আর্মেনিয়া এতদিন সেটা নিজেদের দখলে রেখেছিল। আর্মেনীয় জাতিগোষ্ঠীর লোকেরা সেখানে নিজেদের বিচ্ছিন্নতাবাদী সরকারও প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে অঞ্চলটি নিয়ে ছয় সপ্তাহের তুমুল লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়ে দুই দেশ। মুখোমুখি এ লড়াইয়ের পর নাগরনো-কারবাখের বিশাল অংশ পুনর্দখল নেয় আজারবাইজান।
যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে সরে আসতে রাশিয়ার মধ্যস্থতায় শান্তিচুক্তিতে স্বাক্ষর করেন আর্মেনীয় ও আজেরি সরকার। যাতে মূলত আজারবাইজানেরই লাভ হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী প্রায় ৩০ বছর আর্মেনিয়ার দখলে থাকা বেশ কিছু আজেরি ভূখণ্ড ছাড়তে হচ্ছে।
শান্তি চুক্তির পর বিভিন্ন এলাকা থেকে আর্মেনিয়ার সেনা এবং সাধারণ মানুষকে ফিরে যাওয়ার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় দিয়েছিল আজারবাইজান। ১৫ নভেম্বর তা শেষ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু এখনো সকলে এলাকা ছাড়তে পারেননি। ফলে তাদের আরো ১০ দিন সময় দেওয়া হয়েছে বলে আজারবাইজান জানিয়েছে।
রবিবার আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ জানান, অধিকাংশ এলাকাই পাহাড়ি। আবহাওয়া ভালো নয়। যাতায়াতের রাস্তাও ভালো নয়। এই সব কিছু বিবেচনা করেই আর্মেনিয়াকে আরো ১০ দিন সময় দেওয়া হয়েছে।
এদিকে আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ানের পদত্যাগের দাবিতে দেশটিতে বিক্ষোভ হচ্ছে। রাজয়ের দায় স্বীকার করলেও পদত্যাগে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তিনি। বলেছেন, আরও ভূখণ্ড হাতছাড়া হওয়া ঠেকাতে চুক্তি না করে তার অন্য কোনো উপায় ছিল না।
এমন পরিস্থিতিতে পাশিনিয়ানকে হত্যা করে ক্ষমতা দখলের একটি চেষ্টা নস্যাৎ করে দেওয়ার দাবি করেছে আর্মেনিয়ার ন্যাশনাল সিকিউরিটি সার্ভিস (এনএসএস)।
আরও পড়ুন: