শিশু বেচাকেনার বাজার

কেনিয়ায় শিশু চুরির ঘটনা হরহামেশাই শোনা যায়। শিশুগুলো চুরি হয় আফ্রিকাজুড়ে থাকা বিশাল কালোবাজারের জন্য। কালোবাজারে আফ্রিকার শিশু ৩০০ পাউন্ডেও বেচাকেনা হয়। সম্প্রতি বিবিসির সাংবাদিক জোয়েল গুন্টার ও টম ওয়াটসন এ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন।

প্রতিবেদনের চরিত্র রেবেকার ১০ বছর বয়সী ছেলে নাইরোবির কোথাও আছে এমন বিশ্বাস তার। ২০১১ সালে নাইরুটির সস্তা মাদক হিসেবে পরিচিত জেটফুয়েল কাপড়ে ছিটিয়ে তা নাকে শুঁকে নেশা করেন রেবেকা। সংসারের অভাবের কারণে বয়স্ক এক ব্যক্তির সঙ্গে বিয়ের প্রস্তাবে রাজি হন তিনি। কিন্তু সেই ব্যক্তি তাকে বিয়ে করেনি, উল্টো রেবেকা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। এ সন্তানই তার ছেলে লরেন্স। নাইরোবির রাস্তা থেকে হারিয়ে যায় সে। কেনিয়ায় লরেন্সের হারিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা নতুন কিছু নয়। প্রায় প্রতিদিনই অনেক শিশু হয় হারিয়ে যাচ্ছে, নয়তো ধরে নিয়ে যাচ্ছে চোরেরা। প্রায় এক বছরেরও বেশি সময় ধরে এক অনুসন্ধানে বের হয়ে এসেছে কীভাবে গৃহহীন মায়েদের কাছ থেকে শিশুদের চুরি করা হচ্ছে। বিভিন্ন ক্লিনিক, সরকারি হাসপাতালগুলো থেকে শিশু পাচারের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

আফ্রিকার কালোবাজারগুলোতে কন্যাশিশুকে ৫০ হাজার শিলিং আর ছেলেশিশুকে ৮০ হাজার শিলিংয়ে বিক্রি করা হয়। শিশুরা যত হাত ঘুরতে থাকে ততই দামও বাড়তে থাকে। কেনিয়াতে প্রতি বছর কত সংখ্যক শিশু চুরি হয়, এর কোনো নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান নেই। পাচার হওয়া শিশুদের উদ্ধারে যে সংস্থাগুলো কাজ করে তাদের কাছেও নেই উল্লেখযোগ্য কোনো তথ্য। মারিয়ানা মুয়েন্দোর মতো কিছু বেসরকারি ফাউন্ডেশন এ নিয়ে কাজ করে। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় তাও অনেক কম।

শিশু পাচারের অন্যতম কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে আফ্রিকার যুদ্ধের বাজার। আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে হওয়া যুদ্ধে সৈনিক হিসেবে ওই শিশুদের চাহিদা অনেক বেশি। এর বাইরে সন্তান হওয়া সংক্রান্ত সামাজিক সংস্কারের কারণেও বহু নারীকে রাস্তায় বের হয়ে যেতে হয়। কেনিয়ার সমাজে কন্যাসন্তান হওয়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হয় না। অনেক পরিবারই মেয়েসন্তান হওয়ার কারণে মাকে ঘর থেকে বের করে দেয়। মূলত ওই নারীরা ও তার সন্তান পাচারকারীদের সহজ শিকারে পরিণত হয়।

আফ্রিকা আইয়ের মতে, নাইরোবির অনেক সরকারি সংস্থার মধ্যেই শিশু পাচারকারী চক্র তৎপর। সরকারের অনেক কর্মকর্তাও এর সঙ্গে জড়িত। কিন্তু তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার মতো কোনো পদক্ষেপই নেই দেশটিতে।