জলাশয় ইজারাদারের কাছে ছাত্রলীগ সভাপতির চাঁদা দাবির অভিযোগ

পাবনার সাঁথিয়া সরকারি জলকরে ইজারাদারের কাছে চাঁদা না পেয়ে বাধা প্রদান ও হুমকির অভিযোগ উঠেছে করমজা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। 

সাঁথিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত অভিযোগে জানা যায়, সাঁথিয়া উপজেলার আরাজি আফড়া মৌজায় পালিদহ, কাটিয়াদহ, কাছুমগাড়ী, জিয়ালগাড়ী ও গরুচুনা কেস নম্বর ৯০ বিলসহ জলকর উপজেলা ভূমি অফিস থেকে সর্বোচ্চ মূল্যে ভ্যাটসহ ৯৭ হাজার ২শ টাকায় গত ১৫ নভেম্বরে ১ বছরের মেয়াদে খাস কালেকশনের দায়িত্ব পান আফড়া গ্রামের রফিকুল ইসলাম।

লিজ গ্রহণের পর কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে বিলে মাছ ধরার জন্য গেলে বেশ কয়েকটি মামলার আসামি করমজা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আরিফুল ইসলাম ও তার সহযোগী ১৫-২০ জনকে লইয়া রফিকুলের সঙ্গে থাকা লোকজনকে ঘিরে ধরে ও চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা ভয়ভীতি ও গুলি করে প্রাণ নাশের হুমকি দিয়ে জলকর এলাকা থেকে জোরপূর্বক তাড়িয়ে দেয়।

রফিকুল ও তার লোকজন ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে প্রাণভয়ে জলকর থেকে চলে এসে পরের দিন বিষয়টি উপজেলা সহকারী (ভূমি) অবগত করে অভিযোগ দায়ের করেন। আবেদনের অনুলিপি রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর দেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এ ব্যাপারে করমজা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আরিফুল ইসলাম এর কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি জানান, চাঁদা চাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। ওরা জামায়াতের রাজনীতির করে বলেই আমার বিরুদ্ধে এই ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

অভিযোগকারী রফিকুল ইসলাম বলেন, কোন কিছুতে ফাঁসাতে না পারলেই এখন জামায়াত-শিবির বলা একটি কালচারে পরিণত হয়েছে। আমরা জামায়াত করি কিনা তা একটু খোঁজ নিলেই প্রমাণ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফয়সাল রায়হান অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ সত্যতার প্রমাণ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।