ঠাকুরগাঁওয়ে ডিলারদের বিরুদ্ধে সরকার নির্ধারিত মূল্য অপেক্ষা বেশি দামে টিএসপি সার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। কৃষকদের দাবি, সরকারিভাবে প্রতি বস্তা সার ১১শ টাকায় নির্ধারণ করা হলেও ১৪শ থেকে ১৪৫০ টাকায় তা বিক্রি করছেন ডিলাররা। যথাযথ তদারকির অভাবেই চাষিদের সঙ্গে এমনটা করছেন তারা। এ ছাড়া রসিদের মাধ্যমে সার বিক্রির নিয়ম থাকলেও ডিলাররা তা মানছেন না বলে দাবি করেছেন খুচরা সার ব্যবসায়ীরা। এ ঘটনায় কৃষি বিভাগ ও ডিলাররা পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিচ্ছে। ডিলারদের দাবি, বাজারে টিএসপি সারের সংকট রয়েছে। আর কৃষি বিভাগ বলছে, পর্যাপ্ত পরিমাণ সারের সরবরাহ আছে।
সদর উপজেলার আবু বক্কর সিদ্দিক নামে এক কৃষক জানান, এ বছর ৩ বিঘা জমিতে আলু চাষ করবেন তিনি। বীজ রোপণের আগে খোচাবাড়ি হাটে টিএসপি সার কিনতে গেলে বস্তাপ্রতি ১৪৫০ টাকা দাম চায় দোকানদার। এ ঘটনায় ৯৯৯ নম্বরের ফোন দিয়ে অভিযোগ করলে ভোক্তা অধিকার অফিসে যোগাযোগ করতে বলা হয়। শেষে বিরক্ত হয়ে ওই দামেই সার কেনেন তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক খুচরা ব্যবসায়ী বলেন, ‘কবীর এন্টারপ্রাইজের ম্যানেজার রফিকুল ইসলামের কাছে সার কিনতে গেলে তিনি প্রথমে টিএসপি সারের মূল্য চান ১৪০০ টাকা। টাকার রসিদ চাইলে দিতে অস্বীকৃতি জানান তিনি।’
খোচাবাড়ি হাটের খুচরা সার বিক্রেতা ইয়াকুব আলী বলেন, ‘ডিলারদের কাছ থেকে এক বস্তা সার ১৪০০ টাকায় কিনে বাইরে ১০-২০ টাকা লাভ করে বিক্রি করতে হয়।’ রহিমানপুর ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল গনি বলেন, ‘সার নিয়ে কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ে তদারকি নেই। ডিলাররা নিজেদের সুবিধার্থে সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে।’ নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির কারণ জানতে চাইলে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার লাহিড়ী হাটের খচুরা সার ব্যবসায়ী পবন সিংহ বলেন, ‘ডিলাররা বিক্রি করছে সাড়ে ১৩শ থেকে ১৪৪০ টাকা দরে। তাই তারা অল্প লাভে টিএসপি সার বিক্রি করছেন। এ সময় তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, ‘রাঘব-বোয়ালদের না ধরে চুনোপুঁটি ধরে কী হবে? ডিলারদের সিন্ডিকেটের কারণে বাজার ঊর্ধ্বগতি।’
বিএডিসির সার ও বীজ ডিলার সমিতির ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সভাপতি এনামুল হক সরকার বলেন, ‘সার ডিলারদের কোনো সিন্ডিকেট নেই। চাহিদা অনুযায়ী টিএসপি সার পাওয়া যাচ্ছে না। ডিলারের কাছ থেকে নির্ধারিত দরেই বিক্রি হচ্ছে। খুচরা পর্যায়ে গিয়ে হয়তো কেউ বেশি দাম নিচ্ছে।
বিসিআইসি ডিলার সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এস এম শামসুজ্জামান দুলাল বলেন, টিএসপির বরাদ্দ কম। সরবরাহ বাড়লে দর কমবে।’ গড়েয়ার সার ডিলার মামুন বলেন, আমদানিকারকদের কাছ থেকে আমাদের বেশি দরে সার কিনতে হয়। তাদেরও কারসাজি রয়েছে।’
ঠাকুরগাঁও জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আফতাব হোসেন বলেন, টিএসপি সারের সংকট নেই। চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ পাওয়া গেছে এবং তা উত্তোলনও হয়েছে। কেউ বেশি দামে বিক্রি করলে অভিযোগ পাওয়া সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।