নেটফ্লিক্সে ‘দ্য ক্রাউন’ সিরিজের চতুর্থ সিজন চলছে। ব্রিটিশ রাজপরিবারের গল্প নিয়ে আলোচিত এই সিরিজে এবার দেখা যাবে ৮০-এর দশকে যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও রাজপরিবারের চরিত্রদের। এই সিজনের প্রায় পুরোটা জুড়েই চিত্রায়ণ করা হয়েছে ব্রিটিশ রাজপরিবারের যুবরানী ডায়ানার উপাখ্যান। সিরিজের বিভিন্ন এপিসোড নিয়ে লিখেছেন পরাগ মাঝি
দ্য ক্রাউন সিরিজের চতুর্থ সিজনের শুরুর দিকেই দেখা যাবে কিশোরী ডায়ানাকে। তার নামের সঙ্গে তখনো প্রিন্সেস উপাধি যুক্ত হয়নি। পারিবারিক উপাধিসহ তার নাম তখন ডায়ানা স্পেনসার। কিশোরী ডায়ানা স্পেনসারের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন ইমা কোরিন। সেই বয়সেই ব্রিটিশ রাজপুত্র চার্লসের সঙ্গে তার পরিচয় ঘটে। ‘দ্য ক্রাউন’ সিরিজের এই অংশে প্রিন্স চার্লসের ভূমিকায় অভিনয় করছেন জোশ ও’কনর। এই সিজনে ১০টি এপিসোডে গত ৮০-এর দশকে রাজপরিবারের সদস্যদের ভূমিকা দেখা যাবে। দেখা যাবে, চার্লসের সঙ্গে ডায়ানার বিয়ে এবং তাদের সম্পর্কের ভাঙনও।
ডায়ানা ছাড়াও সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী লৌহমানবী মার্গারেট থ্যাচারের উত্থান ও পতনও দেখা যাবে এবারের সিজনে। পরিচালক গিলিয়ান এন্ডারসন ঐতিহাসিক চরিত্র মার্গারেট থ্যাচারকে একজন নির্মম ও আপসহীন নেত্রী হিসেবে চিত্রায়িত করেছেন। সিরিজের মূল চরিত্রটি থাকবে রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথকে কেন্দ্র করেই। সিজনের শেষের দিকে রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ সম্পর্কে প্রিন্স চার্লসের একটি ডায়ালগে শোনা যাবে, ‘তিনি আমাদের সবার অক্সিজেন।’
এই সিরিজের বেশির ভাগ সংলাপই কাল্পনিক। তবে, এখানে যেসব ঘটনাপ্রবাহ দেখানো হবে তার সবগুলোই ঐতিহাসিক ও বাস্তব। এবারের সিজনে প্রায় দুই দশকের ঘটনাপ্রবাহে দেখা যাবে ফকল্যান্ডের যুদ্ধ, মার্গারেট থ্যাচারের শাসনামল, ডায়ানার বিয়ে ও তার স্বাধীনচেতা চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ।
পুত্রবধূর খোঁজে রানী
সিজনের শুরুর প্রথম এপিসোডেই ১৯৭৯ সালের নির্বাচনে মার্গারেট থ্যাচারকে বিজয়ী হতে দেখা যাবে। টেলিভিশনের পর্দায় তার বিজয় দেখে রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথকে উদ্দেশ করে তার স্বামী ফিলিপকে বলতে শোনা যাবে, ‘এটাই হয়তো এই দেশের শেষ চাওয়া। দুই নারী মিলেই এবার দোকান চালাবে।’
ফিলিপের এ কথার উত্তরে রানীকে বলতে শোনা যাবে ‘সম্ভবত এটিই প্রয়োজন দেশের।’
এবার ‘দ্য ক্রাউন’ সিরিজের প্রথম এপিসোডে আর্ল মাউন্টব্যাটেন অব বার্মার (মিয়ানমার) হত্যাকাণ্ডও দেখা যাবে। তিনি ছিলেন রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের স্বামী প্রিন্স ফিলিপের চাচা। আয়ারল্যান্ডের সমুদ্র উপকূলে একটি মাছ ধরার নৌকার মধ্যে বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। আইরিশ রিপাবলিকান আর্মির সদস্যরাই এই হত্যাকাণ্ড ঘটায়। উত্তর আয়ারল্যান্ডে ব্রিটিশ শাসন অবসানের জন্য সংগ্রাম করছিল এই সংগঠনটি।
আর্ল মাউন্টব্যাটেনের মৃত্যুর খবর জানিয়ে আয়ারল্যান্ডের মুল্লাঘমোর থেকে দ্য টাইমস পত্রিকার সাংবাদিক লিখেছিলেন, ‘আজ সকালের অকল্পনীয় বিস্ফোরণ সমুদ্রতীরবর্তী শান্ত শীতল এই গ্রামটিকে বজ্রপাতের মতো স্তব্ধ করে দিয়েছে। তীরে দাঁড়িয়ে ঘটনাটিকে প্রত্যক্ষ করা এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, ওই স্থানে এক মিনিটের মতো তিনি নৌকাটি দেখেছিলেন। পরবর্তী মিনিটে এটি জ্বলন্ত ম্যাচের কাঠির মতো পানির ওপর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে গেছে।’
চতুর্থ সিজনের দ্বিতীয় এপিসোডে প্রিন্স চার্লসকে দেখা যাবে ত্রিশে পা রাখা এই যুবক হিসেবে। তার উপযুক্ত একটি পাত্রী খোঁজায় তখন রাজপরিবার ব্যস্ত। রানী ও তার সহচররা এ ব্যাপারে প্রায়ই আলাপ-আলোচনা করছেন। ডায়ানা স্পেনসারকে দেখেই তারা বিশ্বাস করতে শুরু করেন এই মেয়েটিই চার্লসের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত। ডায়ানা তখন সদ্য ১৬ বছরে পা রেখেছেন। তার বড় বোন সারাহর সঙ্গে প্রিন্স চার্লসের মন দেওয়া-নেওয়ার কিছু ঘটনাও ঘটছে তখন। সে সময়ই ডায়ানার সঙ্গে প্রথমবারের মতো পরিচয় ঘটে চার্লসের।
রূপকথার শুরু যেখানে
তৃতীয় এপিসোডের শুরুর দিকেই প্রিন্স চার্লস তার মা রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথকে জানান যে, তিনি ডায়ানাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছেন। রানী তখন দারুণ উত্তেজনা নিয়ে পুত্রকে জিজ্ঞেস করেন, ‘তুমি হাঁটু গেড়ে বসেছিলে তো?’
রানীর প্রশ্নে পুত্র চার্লস জবাব দেন, ‘আমি ভেবেছিলাম পদমর্যাদার দিক থেকে প্রিন্স অব ওয়ালেস শুধু সার্বভৌমত্বের সামনেই নতজানু হতে পারে।’
এই এপিসোডে ডায়ানা ও চার্লসের বাগদান-পরবর্তী একটি সাক্ষাৎকারের সত্যিকারের ফুটেজগুলোই সংযোজন করা হয়েছে। ১৯৮১ সালে ওই সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছিল। সত্যিকারের সেই সাক্ষাৎকারে সঞ্চালক যখন তাদের প্রণয়াসক্তি নিয়ে মন্তব্য করেন তখন প্রিন্স চার্লস কিছুটা অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া জানান। ডায়ানা অবশ্য পরবর্তী সময়ে ওই সাক্ষাৎকারকে ‘বীভৎস’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘চার্লসের উত্তর আমাকে সত্যিকার অর্থেই আঘাত দিয়েছিল।’
ব্রিটিশ রাজপুত্র ও ডায়ানার বাগদান নিয়ে নিউ ইয়র্ক টাইমস যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল তা থেকে জানা যায়, বাগদানের পরপরই অস্ট্রেলিয়ায় একটি লম্বা সফরে চলে যান প্রিন্স চার্লস। দ্য ক্রাউন সিরিজে ডায়ানাকে এমন একজন নিঃসঙ্গ কিশোরী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়, যিনি তার দুর্দান্ত নতুন পরিবেশে হারিয়ে গেছেন।
তৃতীয় এপিসোডেই ডায়ানার মধ্যে প্রথমবারের মতো বুলিমিয়া রোগের লক্ষণ দেখা যায়। এটি এমন একটি মানসিক রোগ যে, এতে আক্রান্ত ব্যক্তি মানসিক অবসাদে ভুগে বেশি খেয়ে ফেলেন এবং অনুশোচনায় ভোগেন। ১৯৯৭ সালে ডায়ানার মৃত্যুর বছরেই ব্রিটিশ রাজপরিবারের জীবনী সংগ্রাহক অ্যান্ড্রু মর্টনের প্রকাশিত একটি টেপে ডায়ানা জানান, বাগদানের এক সপ্তাহের মধ্যেই বুলিমিয়ায় আক্রান্ত হতে শুরু করেন তিনি। কিছুদিনের মধ্যেই তিনি এও জেনে যান যে, চার্লস তার বন্ধুপত্নী ক্যামিলা পার্কারের সঙ্গে পরকীয়ায় মজেছেন। এই পরিস্থিতি তাকে আরও অস্থির করে তোলে।
রানীর শয়নকক্ষে ফ্যাগান
দ্য ক্রাউন সিরিজের চতুর্থ এপিসোডে পর্দায় আবারও মার্গারেট থ্যাচার ফিরে আসেন এবং সাপ্তাহিক একটি মিটিংয়ে রানীর সামনেই তাকে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়। তার ছেলে মার্ক সাহারা মরুভূমিতে হারিয়ে গিয়েছিলেন। এ প্রসঙ্গে সে সময় ‘দ্য টাইমস’ পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয় ‘তাকে ছেলের কথা জিজ্ঞেস করা হলে লন্ডনে একটি জনসমাগমের মধ্যে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচার।’ কান্নাজড়িত কণ্ঠে থ্যাচার সে সময় বলেছিলেন, ‘আমি দুঃখিত, কোনো সংবাদই নেই। আমি খুব উদ্বিগ্ন।’
পরে অবশ্য মার্ক থ্যাচারকে সাহারা মরুভূমি থেকে উদ্ধার করা হয় এবং উদ্ধারের পর পারিবারিক আবহের মধ্যে থাকা মার্কের একটি ছবি প্রকাশ করে শিরোনাম করে প্রধান পত্রিকাগুলো। সে সময়ই মূলত ফকল্যান্ড যুদ্ধের সূচনা হয়। দক্ষিণ আটলান্টিক সাগরে ছোট ছোট কয়েকটি দ্বীপ মিলেই ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ। আর্জেন্টিনা এই দ্বীপপুঞ্জ দখল করে নিলে তীব্র এবং কঠোর জবাব দিয়েছিলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচার। এপিসোডে দেখা যায়, ফকল্যান্ড থেকে আর্জেন্টাইন সেনাদের উচ্ছেদ করার জন্য তীব্র লড়াইয়ের আহ্বান জানান পুত্র হারিয়ে যাওয়ার শোকে কাতর থ্যাচার। তবে ইতিহাস বলছে, ১৯৮২ সালের জানুয়ারি মাসে ছয় দিনের জন্য হারিয়ে গিয়েছিলেন মার্ক থ্যাচার আর ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জটি আর্জেন্টিনা দখল করে নেয় সে বছরের মার্চে।
সিরিজের পঞ্চম এপিসোডের শুরুতেই ব্রিটিশ রাজপ্রাসাদ বাকিংহ্যাম প্যালেসের ভেতরে রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ এক দিন ঘুম থেকে উঠেই দেখেন তার শয়নকক্ষে এক ব্যক্তি। সত্যিকারের এই অনুপ্রবেশকারী ব্যক্তির নাম ছিল ফ্যাগান। ১৯৮২ সালে দ্য টাইমস পত্রিকার এক প্রতিবেদন থেকে এ প্রসঙ্গে জানা যায়, রানীর কাছ থেকে ছয় ফুট দূরত্বে অবস্থান করছিলেন ফ্যাগান এবং দাবি করেন, তিনি রানীকে ভালোবাসেন। একটি ভাঙা কাচের টুকরো দিয়ে আত্মহত্যা করারও হুমকি দেন তিনি।
দ্য ক্রাউন সিরিজে ফ্যাগানকে দেখানো হয়েছে থ্যাচার আমলের এক অসহায় ব্যক্তি হিসেবে। যিনি বেকার-ভাতা গ্রহণের জন্য লাইনে গিয়ে দাঁড়ান এবং রাষ্ট্রের বঞ্চনার শিকার হন। এ অবস্থায় তার এলাকার এক স্থানীয় প্রতিনিধি তাকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে রানীর কাছে নালিশ জানাতে বলেন। এরপরই বাকিংহ্যাম প্যালেসে অনুপ্রবেশ করার মতো দুঃসাহস দেখান ফ্যাগান।
সত্যিকারের ফ্যাগান ২০১২ সালে দি ইন্ডিপেনডেন্টকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘আমি সত্যিই জানি না ঠিক কী কারণে এমন কাণ্ড করেছিলাম। ম্যাজিক মাশরুম খাওয়ার ফলেই সম্ভবত মাথায় এমন ভূত চেপেছিল।’
অস্ট্রেলিয়া ট্যুর
সিজনের ষষ্ঠ এপিসোডে দেখানো হয়েছে ১৯৮৩ সালে প্রিন্স চার্লস ও ডায়ানার বহুল আলোচিত অস্ট্রেলিয়া ভ্রমণ। সে সময় এই ভ্রমণ নিয়ে ব্রিটেনের দ্য টাইমস পত্রিকায় খুব বেশি আলোচনা না হলেও ডায়ানা ও চার্লসের প্রায় প্রতিটি পদক্ষেপেরই খবর জানাচ্ছিল অস্ট্রেলিয়ার গণমাধ্যম।
সিরিজের মধ্যে দেখানো হয়েছে, এক বছর বয়সী শিশু প্রিন্স উইলিয়ামকে অস্ট্রেলিয়া সফরে না রাখার জন্য ডায়ানা খুবই রাগান্বিত। সে সময় অস্ট্রেলিয়ার পত্রিকা ‘দ্য এজ’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশের সময় ডায়ানাকে কিছুটা অস্বচ্ছন্দ, কিছুটা বিষাদগ্রস্ত এবং বিমানবন্দরে ফটোসেশনের সময় আলোকচিত্রীদের ক্যামেরার সামনে তার চোখ অবনত দেখা গেছে। পত্রিকাটির প্রতিবেদক এও লিখেছিলেন, ‘এখানে এমনও জল্পনা চলছে যে, পুত্রকে রেখে আসার জন্য তার খুব মন খারাপ। কিন্তু তাতে কী হয়েছে, একজন কম বয়সী গর্বিত মায়ের হাসি ক্যামেরার সামনে তিনি দিতেই পারতেন।’
সিরিজের সপ্তম এপিসোডে দৃশ্যপটে হাজির হন আবেদনময়ী, কিন্তু নিঃসঙ্গ ও চেইন স্মোকার প্রিন্সেস মার্গারেট। এপিসোডের শুরুতে অবশ্য তার ফুসফুসে একটি ভয়ংকর অস্ত্রোপচার চালাতে দেখা গেছে। ২০০২ সালে তার অভ্যাস সম্পর্কে দ্য টেলিগ্রাফ লিখেছিল, ‘তিনি প্রতিদিন ৬০টিরও বেশি কড়া ধরনের চেস্টারফিল্ড সিগারেট সেবন করতেন।’
কিছু মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কিত সমস্যায়ও ভুগেছিলেন মার্গারেট। রয়্যাল আর্লসউড হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়েই তিনি ক্যাথরিন ও ন্যারিসা নামে হাসপাতালের মধ্যে রাজপরিবারের অবহেলিত আরও দুই সদস্যকে আবিষ্কার করেন। এপিসোডে দেখা যায়, ক্যাথরিন ও ন্যারিসা সম্পর্কে বড় বোন রানী এলিজাবেথের কাছে প্রশ্ন করলে রানী জবাব দেন, ‘হ্যাঁ, এই নামগুলো এবং তাদের ভয়ংকর সমস্যা সম্পর্কে আমিও শুনেছি বলে মনে পড়ছে। কিন্তু তারা তো অনেক আগেই মরে গেছে।’
মার্গারেট বলেন, ‘আমি জেনে গেছি যে, তারা খুব ভালোভাবেই বেঁচে আছে।’ পরে তারা ব্রিটিশ অভিজাত শ্রেণি সম্পর্কিত একটি পঞ্জিকা ঘেঁটেও দেখতে পান যে, সেখানে ওই দুই বোনকে মৃত উল্লেখ করা হয়েছে। বাস্তবে ১৯৮৭ সালে এই দুই বোনের বেঁচে থাকার ঘটনা যখন প্রকাশ্যে আসে তখন ব্রিটিশ ট্যাবলয়েডগুলো বেশ কিছুদিন তাদের নিয়ে মেতে ছিল।
আপটাউন গার্ল
অষ্টম এপিসোডে রানী ও প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচারের মধ্যে বিভিন্ন মতানৈক্য নিয়ে গণমাধ্যমের ভূমিকা দেখানো হয়েছে। নবম এপিসোডে আবারও পর্দার সামনে হাজির হন প্রিন্সেস ডায়ানা। ১৯৮৫ সালে স্বামীর জন্মদিন উপলক্ষে রাজকীয় অপেরা হাউজের এক অনুষ্ঠানে বিলি জোয়েলের ‘আপটাউন গার্ল’ গানের সঙ্গে নাচ পরিবেশন করে চার্লসকে চমকে দেন ডায়ানা। নাচে তাকে সঙ্গ দিয়েছিলেন ওয়েইন সিøপ। ২০১৭ সালে সেই নাচ সম্পর্কে দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকাকে ওয়েইন স্লিপ বলেছিলেন, ‘ডায়ানা স্টেজে ওঠার পর উপস্থিত দর্শকরা সবাই থ হয়ে যায়। নাচের মধ্যে তাকে কোলে নিয়েছিলাম আমি। আর কোলে নিয়ে যখন স্টেজজুড়ে নাচ পরিবেশন করছিলাম তখন নিজেকেই বলছিলাম ভবিষ্যৎ রানীকে ফেলে দিও না দয়া করে।’
ডায়ানার নাচ দেখে চার্লসের মধ্যে কী প্রতিক্রিয়া হয়েছিল সে সম্পর্কে কিছু জানা না গেলেও সিরিজে দেখা গেছে, তিনি ভীত হয়ে পড়েছেন এবং এই নাচকে তিনি বিদ্বেষপূর্ণ ও যন্ত্রণাদায়ক বলে আখ্যায়িত করেছেন। সেই সময়টিতেই তাদের বিয়ে নিয়ে নানা রকমের কানাঘুষা শুরু হয়ে যায়। নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনেও এর কিছুটা আঁচ পাওয়া যায়।
সর্বশেষ এপিসোডে ১৯৮৯ সালে নিউ ইয়র্কে ডায়ানার নিঃসঙ্গ ভ্রমণের প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়। পৃথিবীতে তখন মহামারী আকারে দেখা দিয়েছে এইডস। নিউ ইয়র্কের একটি হাসপাতালে তিনি এইডস আক্রান্ত রোগীদের সঙ্গে দেখা করেন।
ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, সেই সময়গুলোতে এইডস রোগীদের প্রতি সাধারণ মানুষের আচরণকে দারুণভাবে প্রভাবিত করেছিলেন ডায়ানা। তিনি এই রোগে আক্রান্তদের শরীর স্পর্শ করার পাশাপাশি তাদের আলিঙ্গনও করেছিলেন। সাধারণ মানুষের কাছে যা ছিল অকল্পনীয় এক ব্যাপার।
ডায়ানার উপাখ্যান এখানেই শেষ নয়। তবে বাকি উপাখ্যানে চোখ রাখতে হলে দর্শকদের অবশ্যই দ্য ক্রাউনের পরবর্তী সিজনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।