পৌর নির্বাচনকে সামনে রেখে সরগরম চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলা। এরই মধ্যে সেখানে বইতে শুরু করেছে নির্বাচনী হাওয়া। নির্বাচনকে সামনে রেখে স্থানীয় চায়ের দোকান ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বইছে ঝড়। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য একাধিক প্রার্থীর প্রস্তুতি অনেকটাই একচেটিয়া। অন্যদিকে নির্বাচন নিয়ে তেমন একটা আগ্রহ দেখা যায়নি বিএনপি, এলডিপি ও ইসলামী ফ্রন্টসহ অন্য দলগুলোর মধ্যে। নির্বাচনের ব্যাপারে এখনো অনেকটাই নীরব তারা। গত কয়েক দিনের পর্যবেক্ষণ ও স্থানীয়দের মতামতের ভিত্তিতে এমন চিত্রই স্পষ্ট হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আসছে ডিসেম্বরেই চন্দনাইশ পৌরসভার নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। সরকারদলীয় সম্ভাব্য প্রার্থীরা এরই মধ্যে পাড়া-মহল্লায় মতবিনিময়, উঠান বৈঠক, গণসংযোগ ও ভোটারদের দোয়া ও সমর্থন চেয়ে পোস্টারিং শুরু করেছেন। দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হওয়ার কারণে মনোনয়ন পেতে মরিয়া হয়ে দৌড়ঝাঁপে ব্যস্ত আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। ইতিমধ্যে তারা কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে ঘরোয়া বৈঠকের পাশাপাশি ওয়ার্ডের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগদান করে গণসংযোগ চালাচ্ছেন। এলাকায় সামাজিক-রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও অংশগ্রহণ বেড়েছে তাদের।
জানা যায়, পুনরায় নৌকা প্রতীকের মনোনয়ন পেতে জোর লবিং চালাচ্ছেন বর্তমান মেয়র মু. মাহাবুবুল আলম খোকা। মনোনয়ন দৌড়ে মাঠে আছেন পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এম. কায়সার উদ্দীন চৌধুরী, গাছবাড়িয়া সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি শেখ টিপু চৌধুরী। এছাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুর রহমান চৌধুরী, মক্কা আওয়ামী ফাউন্ডেশনের সভাপতি মোজাম্মেল হক, প্রবাসী মদিনা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লায়ন আলহাজ রফিকুল ইসলাম রফিকও মাঠে রয়েছেন। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সরব উপস্থিতি দেখা গেলেও বিএনপি, এলডিপি ও ইসলামী ফ্রন্ট থেকে কোনো প্রার্থীই এখনো মাঠে নামেননি। গুঞ্জন রয়েছে, গত নির্বাচনের মতো এবারও বিএনপি প্রার্থী না দিলে শেষ পর্যন্ত এলডিপির সঙ্গে তাদের নির্বাচনী সমঝোতা হতে পারে। যদিও নিজ দলীয় প্রার্থীকেই চাচ্ছেন বিএনপির কর্মী-সমর্থকরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিএনপির সম্ভাব্য মেয়র পদপ্রার্থীর মধ্যে দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র সদস্য ও সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল আনোয়ার চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য আলহাজ সিরাজুল ইসলাম সওদাগরের নাম শোনা যাচ্ছে। অন্যদিকে এলডিপির সম্ভাব্য প্রার্থীর মধ্যে পৌর এলডিপির সভাপতি এম আইনুল কবির জোরালোভাবে নির্বাচনী প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে শোনা যাচ্ছে। তবে দলটি থেকে দুবার নির্বাচিত মেয়র আইয়ুব কুতুবী দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে অবস্থান করায় এবার নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে জানান তার ঘনিষ্ঠরা।