৪০ লাখ মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) কিনবে সরকার। একই সঙ্গে ৪০ লাখ লেমিনেশন ফয়েলও কেনা হবে। পাসপোর্ট ও লেমিনেশন ফয়েল সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। গতকাল বুধবার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ভার্চুয়াল বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। এরপর অনুষ্ঠিত হয় সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক। বৈঠকে ১২৭ কোটি ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে চার ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সভার পর সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আবু সালেহ মোস্তফা কামাল।
অতিরিক্ত সচিব আবু সালেহ মোস্তফা কামাল বলেন, অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় চার মিলিয়ন মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) বুকলেট এবং চার মিলিয়ন লেমিনেশন ফয়েল সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে কেনার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সুরক্ষা ও সেবা বিভাগের অধীন ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর এগুলো সংগ্রহ করবে।
করোনা মহামারীতে পাসপোর্টের চাহিদা কমেছে। তাহলে কেন সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে পাসপোর্ট কেনা হচ্ছে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এখন চাহিদা কম থাকলেও সরকারের লক্ষ্য ছিল ই-পাসপোর্ট চালু করা। কিন্তু করোনার কারণে তা দেরি হয়েছে। এ কারণে আবার ৪০ লাখ এমআরপি পাসপোর্ট কিনতে হচ্ছে।
সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে ১২৭ কোটি ৮ লাখ ৮৮ হাজার ৯৮ টাকা ব্যয়ে চার ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে। অতিরিক্ত সচিব ড. আবু সালেহ মোস্তফা কামাল বলেন, সভায় রংপুর মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের (ইউনিট-৩) ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সরবরাহকারীর কাছ থেকে ১৭ হাজার ৪০ কিলোমিটার সংযোগ তার কেনা হবে। এজন্য ব্যয় হবে ৪৭ কোটি ১০ লাখ ৫ হাজার ৮২০ টাকা।
তিনি বলেন, সভায় ৩৫ কিলোমিটার ১১ কেভি ও ৩৩ কেভি আন্ডারগ্রাউন্ড কেব্ল সরবরাহের জন্য সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবিএস কেব্ল লিমিটেডের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। এতে ব্যয় হবে ১৬ কোটি ৫২ লাখ ৭৮ হাজার ৫০০ টাকা।
এছাড়া ২৯৫ কিলোমিটার সংযোগ তার কেনার একটি দরপ্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এজন্য ব্যয় হবে ২ কোটি ৫৬ লাখ ৩ হাজার ৮৯৫ টাকা। সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান পারটেক্স কেব্ল লিমিটেড এ কেব্ল সরবরাহ করবে।
তিনি আরও বলেন, হবিগঞ্জের শাহজীবাজারে ৩৩০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্রের গ্যাস টারবাইন ইউনিট ১ ও ২-এর পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য খুচরা যন্ত্রাংশ কেনা ও বিশেষজ্ঞ সেবাসংক্রান্ত ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ভারতীয় প্রতিষ্ঠান মেসার্স বিএইচইএল-জিই গ্যাস টারবাইন সার্ভিসেস প্রাইভেট লিমিটেডের কাছ থেকে এ সেবা নেওয়া হবে। এজন্য ব্যয় হবে ৬০ কোটি ৮৯ লাখ ৯৯ হাজার ৮৮৬ টাকা।