মাধুরীর সঙ্গে সম্পর্ক মেনে নেয়নি জাদেজার পরিবার

ক্যারিয়ারের সেরা ফর্মে থাকার সময় অজয় জাদেজার সঙ্গে জড়িয়েছিল মাধুরী দীক্ষিতের নাম। একটি পত্রিকার ফোটোশ্যুট ঘিরে দু’জনের প্রেমের গুঞ্জন গুঞ্জরিত হয়। শোনা গিয়েছিল, অজয় জাদেজার খেলারও ভক্ত ছিলেন মাধুরী। কিন্তু জাদেজার পরিবারের সদস্যরা নাকি মাধুরীর সঙ্গে সম্পর্কের বিপক্ষে ছিলেন। তাই পরিণয় পায়নি দুই জগতের ‍দুই তারার সম্পর্ক।

জাদেজার আগে অবশ্য অনিল কাপুর, সঞ্জয় দত্তের সঙ্গেও মাধুরীর প্রেমের গুঞ্জন শোনা গিয়েছিল। জাদেজার অনুরোধে মাধুরী নাকি হিন্দি ছবিতে তার অভিনয়েরও ব্যবস্থা করে দেন। কিন্তু সে সময় হঠাৎ-ই জাদেজার ব্যাটে রানের খরা দেখা দেয়। ক্যারিয়ারের ব্যাডপ্যাচের মধ্যে জাদেজা আর বলিউড অভিযানে রাজি হননি। সেই শখ অবশ্য পরে পূর্ণ করে নিয়েছিলেন তিনি।

কিন্তু জাদেজা-মাধুরীর সম্পর্কে বাধা হয়ে দাঁড়ায় জাদেজার পরিবার। সিনেমার নায়িকার সঙ্গে ছেলের সম্পর্ক নাকি কিছুতেই মেনে নিতে পারেননি তারা। শোনা যায়, পারিবারিক আপত্তি ছাড়াও ক্রিকেট থেকে জাদেজার নির্বাসনের কোপেও ভেঙে যায় তাদের প্রেম।

ভারতীয় দলে ৮ বছরের ক্যারিয়ারে ১৫ টেস্টে জাদেজার মোট রান ৫৭৬, সর্বোচ্চ ৯৬। উইকেট পাননি একটিও। ১৯৬ ওয়ানডে ম্যাচে রান করেছেন ৫৩৫৯, সর্বোচ্চ ১১৯। উইকেট নিয়েছেন ২০টি। ১৩ ওয়ানডে ম্যাচে তিনি ছিলেন ভারতের অধিনায়কও।

জাদেজার ক্রিকেট জীবন সংক্ষিপ্ত হয়ে যায় নিষেধাজ্ঞার কোপে। ম্যাচ গড়াপেটার অভিযোগে অভিযুক্ত ভারতীয় ক্রিকেটারদের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম। ২০০০ সালে ৫ বছরের জন্য তিনি নির্বাসিত হন সব ধরনের ক্রিকেট থেকে।

নির্বাসনের মেয়াদ শেষে জাদেজা ধীরে ধীরে ফিরে আসেন জীবনের স্বাভাবিক ছন্দে। ২০০১ সালের ৩০ মার্চ তিনি বিয়ে করেন অদিতি জেটলিকে। ভরতনাট্যম শিল্পী অদিতি রাজনীতিক জয়া জেটলির মেয়ে। জয়ার বাবা অশোকও ছিলেন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদে।

পরে ২০০৩ সালে দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশে অজয় জাদেজার উপর থেকে নিষেধাজ্ঞার কোপ উঠে যায়। ঘরোয়া এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার অনুমতি পান তিনি। ২০০৩ সালে তিনি রঞ্জি ম্যাচে খেলেনও।

তবে জাতীয় দলের দরজা তার জন্য আর খোলেনি। ২০০০ সালেই শেষ বারের মতো টেস্ট এবং ওয়ানডে খেলেছিলেন তিনি।

সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা