অবৈধভাবে চলছে ১৭ ক্লিনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার

অনিয়ম আর অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে চলছে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় বেসরকারিভাবে গড়ে ওঠা বিভিন্ন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। যত্রতত্র গড়ে ওঠা ১৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে হাতে গোনা মাত্র কয়েকটির অনুমোদন থাকলেও এগুলোর হালনাগাদ নবায়ন নেই। অথচ বছরের পর বছর এসব অবৈধ প্রতিষ্ঠান তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

একই ল্যাবে পরপর দুদিন নমুনা পরীক্ষার ফল ভিন্ন ভিন্ন পাওয়া, ল্যাব পরিবর্তন করার পর ফলাফল বদলে যাওয়া ও প্যাথলজি রিপোর্টে চিকিৎসকের ভুয়া সই ব্যবহারের মতো ঘটনা ঘটছে কোনো কোনো ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। প্রশাসনের কড়া অবস্থান এবং অভিযানে সনদধারী টেকনোলজিস্টবিহীন রিপোর্ট প্রদান ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বৈধ কাগজপত্র না থাকা কিংবা থাকলেও হালনাগাদ না করার বিষয়টি উঠে এসেছে।

গত মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার বারশত আইডিয়াল ক্লিনিক ও বটতলী জনসেবা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালিয়ে প্রতিষ্ঠান দুটি সিলগালা করে দেয় উপজেলা প্রশাসন। চিকিৎসক, নার্স, টেকনিশিয়ান ছাড়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমোদন না নিয়ে কার্যক্রম চালানোর অভিযোগে ইউএনও শেখ জোবায়ের আহমেদ এ অভিযান চালান। এদিকে অভিযানের খবর পেয়ে এসএমএ পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কর্মকর্তারা প্রতিষ্ঠানে তালা দিয়ে পালিয়ে যান।

উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য বলছে, উপজেলা সদর, চাতরী চৌমুহনী বাজার, কালাবিবি দীঘির মোড়, বটতলী রুস্তমহাট, বারশত কালীবাড়ি, বন্দর সেন্টার ও মহাল খান বাজারে ১৭টি বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। এর মধ্যে পপুলার, শাহ মোহছেন আউলিয়া, স্টার ল্যাব, দি ল্যাব এইড ও সাইনিং ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অনুমোদন থাকলেও হালনাগাদ নবায়ন করা নেই। বাকি ১২টির মধ্যে ৫টি প্রতিষ্ঠান নতুন করে অনুমোদনের জন্য অনলাইনে আবেদন করে রেখেছে। বাকি ৭টি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার চলছে অনুমোদন ছাড়াই।

এ ধরনের ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সেবার মান নিয়ে রোগীদের অভিযোগের শেষ নেই। স্বাস্থ্য বিভাগে লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেই বছরের পর বছর লাইসেন্সবিহীনভাবে ব্যবসা চালিয়ে আসছে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, যেসব প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন রয়েছে, সেগুলোও যথাযথ নিয়ম মানছে না। সার্বক্ষণিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, ডিপ্লোমাধারী নার্স রাখা ও অন্যান্য শর্ত না মেনেই বিভিন্ন ক্লিনিক চলছে।  কোনো কোনো ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত টেকনিশিয়ান ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবু জাহিদ মোহাম্মদ সাইফউদ্দীন বলেন, আনোয়ারার ১৭টি বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। অনুমোদনবিহীন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অভিযান চলমান রয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ জোবায়ের আহমেদ বলেন, ইতিমধ্যে অভিযান চালিয়ে অনুমোদনহীন দুটি প্রতিষ্ঠান সিলগালা করা হয়েছে। বাকি ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতেও অভিযান চালানো হবে। চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন সেখ ফজলে রাব্বি দেশ রূপান্তরকে বলেন, আনোয়ারায় অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর একটি তালিকা হাতে পেয়েছি। উপজেলা প্রশাসনের সহায়তা নিয়ে এগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।