অক্সফোর্ডের টিকা দরিদ্রদের ভরসা

ফাইজার ও মডার্নার টিকার সফলতার পর করোনার প্রতিরোধ প্রশ্নে বিশ্ববাসীর মধ্যে আশার সঞ্চার হচ্ছে। ফাইজার ৯০ শতাংশ ও মডার্না ৯৫ শতাংশ কার্যকর, এমনটা বলা হচ্ছে। আগামী বছরের শুরু নাগাদ কোম্পানি দুটি তাদের তৈরি করা টিকা বাজারে আনতেও শুরু করবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত যে তথ্য আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছে, সেখানে বলা হচ্ছে এই দুই টিকা যাবতীয় উৎপাদনই যাবে উন্নত ও ধনী দেশগুলোতে। ফাইজারের প্রথম কয়েক কোটি টিকার ডোজ তো যুক্তরাষ্ট্রেই যাবে সবার আগে। এমনকি মডার্নার টিকাও ইতিমধ্যে কিনে নিয়েছে বেশ কয়েকটি ধনী রাষ্ট্র। ধনী রাষ্ট্রগুলোয় করোনামুক্ত করার পর দরিদ্র দেশগুলোর কাছে টিকা আসতেও পারে আবার না-ও আসতে পারে। আর এলেও তা দামের কারণে দরিদ্রদের নাগালের বাইরেই থাকার আশঙ্কা বেশি।

এমন অবস্থায় দরিদ্র দেশগুলোর জন্য আশার আলো দেখাচ্ছে অক্সফোর্ডের টিকা। অক্সেফোর্ডের অ্যাস্ট্রাজেঙ্কার তৃতীয় ট্রায়াল শেষে ফলাফল খুব জলদিই প্রকাশ করা হবে। এই টিকা বিশে^র নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশগুলোর মানুষের চাহিদা মেটাবে এমনটা বলা হচ্ছে। অক্সফোর্ড বিশ^বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের তৈরি টিকার ৪০ শতাংশই যাবে দরিদ্র দেশগুলোতে।

ফাইজার ও মডার্নার টিকার চেয়ে কম দাম হবে অ্যাস্ট্রা টিকার। ওই দুই টিকার তুলনায় পরিবহন ও সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও অ্যাস্ট্রা টিকার সুবিধা বেশি। কিন্তু ফাইজার ও মডার্নার টিকার মতো অ্যাস্ট্রা টিকা যদি কার্যকরী না হয়, তাহলে বিশে^র দরিদ্র দেশগুলোকে আরও কঠিন মূল্য চুকাতে হবে এই মহামারীতে। কারণ দেশগুলো অ্যাস্ট্রা টিকার ওপরই সবচেয়ে বেশি ভরসা করছে। গ্লোবাল হেলথ সেন্টারের সহকারী নির্বাহী পরিচালক সুরি মুন টাইমস অব ইন্ডিয়াকে বলেন, ‘অ্যাস্ট্রা টিকার ওপর অনেকে ভরসা করে আছেন। এর সংখ্যা বিশাল।’

এদিকে গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের কর্র্তৃপক্ষের কাছে টিকার অনুমোদন চেয়ে আবেদন করেছে ফাইজার। ধারণা করা হচ্ছে, মধ্য ডিসেম্বরের মধ্যেই এই অনুমোদন মিলবে ফাইজারের। আর অনুমোদনের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তারা ব্যাপক মাত্রায় টিকা ছাড়তে শুরু করবে। ফাইজারের টিকা মানুষের দেহে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে বিশ^বাসীও তাকিয়ে থাকবে অ্যাস্ট্রাজেঙ্কা, নোভাভ্যাক্স ও জনসন অ্যান্ড জনসনের টিকার দিকে। অনুমোদনের পর টিকা কত দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছাবে এবং এর পদ্ধতি কী হবে তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়েছে মানুষের মধ্যে।

কেল ইউনিভার্সিটি অব ইংল্যান্ডের সংক্রমণ রোগ বিশেষজ্ঞ মার্ক একলেস্টন বলেন, ‘বিশ্বের অধিকাংশ জনগণই দরিদ্র ও মধ্য আয়ের দেশের বাসিন্দা। মহামারীর এই সমস্যা শুধু আমাদের নয়। বিশ্বের অধিকাংশ মানুষের কাছেই এটা বিরাট বড় সমস্যা।’ বিশ্ববাসীর কাছে টিকা পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ কোভ্যাক্স। এই প্রকল্পের আওতায় একাধিক দেশ ইতিমধ্যেই ৭০০ মিলিয়ন ডোজ টিকা প্রাপ্তি নিশ্চিতে পদক্ষেপ নিয়ে রেখেছে। এমন পদক্ষেপের অংশ হিসেবে ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট অক্সফোর্ডের টিকার উৎপাদন তাদের দেশে করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ভারতে এর উৎপাদন হওয়ায় অক্সফোর্ডের প্রতি ডোজ টিকার দাম পড়বে প্রায় তিন ডলার। গত সপ্তাহেই কোভ্যাক্স জোটে যুক্ত হয়েছে গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লেইন ও সানোফি। অ্যাস্ট্রার প্রথম চালানের ৩ দশমিক ২ বিলিয়ন ডোজ শুরুর দিকে আসবে যুক্তরাজ্য থেকে। এই টিকাগুলো লাতিন আমেরিকা, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া ও পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোতে যাবে।