আশুড়ার বিল দখল করে ‘পুকুর বাণিজ্য’

দিনাজপুরের বিরামপুর ও নবাবগঞ্জে অবস্থিত উত্তরাঞ্চলের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র আশুড়ার বিল সংস্কারকাজ প্রভাবশালীদের ইন্ধনে অবৈধ দখলদাররা এক মাস ধরে বন্ধ করে রেখেছে। এর নেপথ্যে দুই উপজেলার প্রভাবশালীদের ‘পুকুর বাণিজ্য’ রয়েছে বলে স্থানীয় জনগণ ও প্রশাসনের অভিযোগ।

গত শনিবার আশুড়ার বিলের একাংশ দখল করে পুকুর তৈরির সময় বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পরিমল কুমার সরকার অভিযান চালিয়ে মুক্তার হোসেন (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেন এবং বিল দখল করে চারটি পুকুর খননের কাজ বন্ধ করে দেন।

ওই ঘটনায় বন বিভাগের বিরামপুর বিট কর্মকর্তা আবদুল বারিক বাদী হয়ে বিরামপুর থানায় মামলা করেছেন।

গত শনিবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, বিরামপুরের খানপুর ইউনিয়নের ধানজুড়ি এলাকায় এবং নবাবগঞ্জ উপজেলার গোলাপগঞ্জ ইউনিয়নের খটখটিয়া কৃষ্টপুর এলাকায় বিল দখল করে ভেকু মেশিন দিয়ে পুকুর খননের কাজ চলছে। বিলের মধ্যে আড়াআড়িভাবে মাটি ভরাট করে যে যার মতো দখল করে পুকুর খনন করছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পুকুর বাণিজ্যে জড়িত প্রভাবশালীদের ইন্ধনে অবৈধ দখলদাররা কয়েক মাস আগে আশুড়ার বিলের পানি ধরে রাখার ক্রসড্যাম কেটে দেয়। তিন সপ্তাহ আগে আশুড়ার বিলে পানি ধরে রাখার জন্য ক্রসড্যামের সংস্কারকাজ শুরু করে প্রশাসন। এ সময় স্থানীয় প্রভাবশালীদের ইন্ধনে কতিপয় দখলদার সংস্কারকাজে বাধা দিয়ে সেখানে অবস্থান নেয়। ফলে বিলটি পানিশূন্য হয়ে পড়ে। এরপর পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী স্থানীয় প্রভাবশালী ভূমিদস্যূরা ইচ্ছেমতো বিলের জায়গা দখল করে ভেকু মেশিন দিয়ে দিনরাত পুকুর খননের কাজ করতে থাকে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, নবাবগঞ্জের কহিনুর, রুহুল, রফিকুল, আলতাফ, সামছুল, শাহিনুর; বিরামপুরের মিজানুর, তাইজুদ্দিনসহ কয়েকজন প্রভাবশালী তিন সপ্তাহের মধ্যে আশুড়ার বিল দখল করে ২৬টি পুকুর খনন করেছে।

গত শনিবার দুপুরে ইউএনও পরিমল কুমার সরকারের অভিযানের সময় মুঠোফোনে কহিনুর দাবি করেন, তাদের জমির দলিল রয়েছে। ইউএনও জমির দলিল দেখতে চান। কিছুক্ষণ পরে কহিনুরের স্ত্রী জয়নব বেগম ইউএনওর কাছে এসে জানান, কয়েক বছর আগে বিলের জমিটি বিরামপুরের চুরকুই গ্রামের ইসমাইলের কাছ থেকে ইজারা নিয়েছেন, তাদের কোনো দলিল নেই। আটক মুক্তার হোসেনও জমির কোনো কাগজ দেখাতে পারেননি। 

পরিমল কুমার সরকার জানান, বিল দখল করে পুকুর তৈরির অভিযোগ পেয়ে পুলিশ এবং বন বিভাগের কর্মকর্তাসহ অভিযান চালানো হয়। বিরামপুর অংশে চারটি পুকুর তৈরির কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দখলদারদের অনেকেই দাবি করেছে, সরকারের কাছ থেকে পত্তন নেওয়া জমিতে পুকুর তৈরি করা হচ্ছে। কিন্তু পত্তন নেওয়া জমির শ্রেণি পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই।

নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুন নাহার জানান, আশুড়া বিল উত্তরাঞ্চলের একটি অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র। বিলটি দখল করতে পুকুর বাণিজ্যকারীসহ একটি প্রভাবশালী মহল অবৈধ দখলদারদের নিয়ে ক্রসড্যাম সংস্কারকাজে বাধা দিচ্ছে। সব পুকুর উচ্ছেদ করে অচিরেই বিলের স্বাভাবিক সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনা হবে।

দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মাহমুদুল আলম জানান, বিল দখলকারীরা যত বড় প্রভাবশালীই হোক না কেন সবার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিল, বন দখলকারী ও ইন্ধনদাতাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।