নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলায় তালাক দেওয়ায় স্ত্রীকে অ্যাসিড ছুড়ে মুখ ঝলসে দিয়েছেন স্বামী। সোমবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার জোয়াড়ী ইউনিয়নের কামারদহ গ্রামে ওই ঘটনা ঘটে।
পরে গুরুতর অবস্থায় তাকে প্রথমে নাটোর সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়।
সোমবার রাতেই স্বামী আবু তালেবকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আহত নার্গিস আকতার নুপুর কামারদহ গ্রামের আনোয়ার হোসেন তাজেমের মেয়ে এবং আহম্মেদপুর গ্রামের রাহাত আলীর ছেলে আবু তালেবের সাবেক স্ত্রী।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে স্বামীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে তালাক দেন নার্গিস আক্তার। এর জের ধরে গৃহবধূকে অ্যাসিড নিক্ষেপ করে ঝলসে দেন সাবেক স্বামী আবু তালেব। গুরুতর অবস্থায় তাকে প্রথমে নাটোর সদর হাসপাতালে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকায় শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়।
নুপুরের বাবা আনোয়ার হোসেন তাজেম বলেন, আবু তালেব কয়েক বছর ধরে নার্গিসকে বিয়ে করে আমার বাড়িতেই থাকতেন। বিয়ের পর থেকে তাদের মধ্যে প্রায়ই দ্বন্দ্ব-কলহ লেগে থাকত। এ কারণে সাত দিন আগে আমার মেয়ে আবু তালেবকে তালাক দেয়।
‘সোমবার সন্ধ্যার পর নুপুর বাড়ির উঠানে হাঁটাহাঁটি করছিল এ সময় আবু তালেব তার মুখে অ্যাসিড ছুড়ে পালিয়ে যায়। নুপুরের চিৎকারে স্বজনরা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকায় শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়।’
চিকিৎসকের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, নুপুরের মুখের একটি অংশসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ অ্যাসিডে ঝলসে গেছে।
স্থানীয়রা জানান, আবু তালেব ডাকাতিসহ একাধিক মামলার আসামি। বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব-কলহ লেগে থাকত। অতিষ্ঠ হয়ে নুপুর আবু তালেবকে তালাক দিতে বাধ্য হয়েছে।
বড়াইগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে রাতেই অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত আবু তালেবকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়।