বগা ঘাটে লঞ্চ ভিড়ছে না ৯ দিন, যাত্রীদের ভোগান্তি

পটুয়াখালীর বাউফলের বগা পন্টুনে গত নয় দিন ধরে ঢাকা-পটুয়াখালী রুটে চলাচলকারী কোনো ডাবল ডেকার (দোতলা) লঞ্চ ভিড়ছে না। গত ১৬ নভেম্বর থেকে এই অচলাবস্থা শুরু হয়। ঢাকাগামী বা ঢাকা থেকে আসা যাত্রীদের ট্রলারে করে নদী পার হয়ে (অপর পাড়ে) পাশের উপজেলার (দুমকি) চরগরবদী ঘাট থেকে লঞ্চে উঠতে হচ্ছে এবং একই ভাবে ট্রলারে করে নদী পার হয়ে বাউফল উপজেলায় আসতে হচ্ছে। এতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন যাত্রীরা।  

বগা লঞ্চঘাটের ইজারাদার সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন ঢাকার সদরঘাট থেকে পটুয়াখালীর উদ্দেশে তিনটি দোতলা লঞ্চ ছেড়ে আসে এবং পটুয়াখালী থেকে ঢাকার উদ্দেশে তিনটি লঞ্চ ছেড়ে যায়। রোটেশনে মোট ১১টি লঞ্চ এই রুটে চলাচল করে। প্রতিটি লঞ্চ বাউফলের বগা লঞ্চঘাটে বিরতি দেয়। ওই লঞ্চঘাট থেকে প্রতিদিন শত শত যাত্রী ঢাকার উদ্দেশে যান এবং একই ভাবে ঢাকা থেকে আসেন।

সম্প্রতি ঢাকা-বগা-পটুয়াখালী রুটে ‘রয়েলক্রুজ’ নামের একটি বিলাসবহুল দোতলা লঞ্চ চলাচল শুরু করে। লঞ্চটি অন্য লঞ্চের চেয়ে অনেক কম ভাড়ায় যাত্রী আনা-নেওয়া করে। অন্য লঞ্চে ডেকে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা ভাড়ার স্থলে রয়েলক্রুজ ২০ থেকে ৫০ টাকা নিচ্ছে। যাত্রীদের এমন সুবিধা দেওয়ায় অল্পদিনে রয়েলক্রুজ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এতে ক্ষুব্ধ হন অন্য লঞ্চের মালিক ও সুপারভাইজার।

ফলে গত ১৬ নভেম্বর থেকে বগাঘাটে (রয়েলক্রুজ ব্যতীত) সব লঞ্চ ভিড়ানো বন্ধ করে দেয়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন লঞ্চের আসা-যাওয়ার শত শত যাত্রী। ঢাকাগামী বা ঢাকা থেকে আসা যাত্রীদের ট্রলারে করে নদী পার হয়ে পাশের উপজেলার (দুমকি) চরগরবদী ঘাট থেকে লঞ্চে উঠতে হচ্ছে এবং একই ভাবে ট্রলারে করে নদী পার হয়ে বাউফল উপজেলায় আসতে হচ্ছে। এতে যাত্রীরা যেমন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন, অপরদিকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাতের বেলা শিশু-বৃদ্ধরা নদী পাড়ি দিচ্ছেন।

যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা লঞ্চগুলো প্রতিদিন রাত ৩ থেকে সাড়ে ৩টার মধ্যে চরগরবদী ঘাটে আসে। গভীর রাতে নদী পার হয়ে বাউফল আসা অনেক ঝুঁকির ব্যাপার। তাছাড়া পটুয়াখালী থেকে ছেড়ে আসা লঞ্চগুলোও সন্ধ্যা ৭টা থেকে সাড়ে ৭টার মধ্যে ঘাটে আসে। তখনো নদী পারাপার অনেক ঝুঁকির।

বগা লঞ্চঘাটের সুপারভাইজার জুয়েল জানান, কোনো ধরনের নোটিস ছাড়াই লঞ্চগুলোর বগা পন্টুনে ভেড়ানো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে যাত্রীরা ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন। পাশাপাশি ঘাট ইজারাদারকেও লোকসান গুনতে হচ্ছে।

পটুয়াখালী বিআইডব্লিউটিএর সহকারী পরিচালক খাজা সাদিকুর রহমান বলেন, লঞ্চ মালিকদের কোনো অভিযোগ থাকলে লিখিতভাবে জানাতে এবং বগা পন্টুনে লঞ্চ ভেড়ানোর জন্য বলেছি।