সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে ১০ টাকা কেজি দরের চাল পাচারের সময় প্লাস্টিকের ২৮ বস্তা চালসহ চার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালককে আটক করেছে এলাকাবাসী।
উপজেলার কৈজুরি ইউনিয়নের জগতলা বাজার সংলগ্ন বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধের উপর থেকে বুধবার সন্ধ্যায় তাদের আটক করা হয়।
আটকরা হলেন- উপজেলার গালা ইউনিয়নের ভেড়াকোলা গ্রামের তোকান মোল্লার ছেলে আবু সাঈদ (৪৯), জাকির মোল্লার ছেলে শওকত মোল্লা (১৮), মোস্তোফা প্রামাণিকের ছেলে মতিউর রহমান (২০) ও আব্দুল লতিফ প্রামাণিকের ছেলে মুছা প্রামানিক (২২)।
খবর পেয়ে শাহজাদপুর থানা-পুলিশ ও শাহজাদপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাসুদ হোসেন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে চালগুলো জব্দ করেন।
এ ছাড়া ৪ অটোচালককে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যান। আটকদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কৈজুরি ইউনিয়ন পরিষদের পেছনের গরুরহাট এলাকার কৈজুরি ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ রমজান আলীর ছেলে ধান-চাল ব্যবসায়ী আব্দুল মতিনের গুদাম থেকে আরও ৩ বস্তা চাল ও ৩৬টি খালি বস্তা জব্দ করেন। মোট চালের পরিমাণ ১ হাজার ৫২৬ কেজি।
এ বিষয়ে আটক অটো চালকরা জানান, অটোরিকশা প্রতি ২৫০ টাকা ভাড়ায় তারা এ চাল ধান-চাল ব্যবসায়ী আব্দুল মতিনের গুদাম থেকে উপজেলার গালা ইউনিয়নের ভেড়াকোলা গ্রামের ফেয়ার প্রাইজের চালের ডিলার মৃত হামিদ আলীর ছেলে আমিন উদ্দিনের বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছিলেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছামাত্র এলাকাবাসী বিষয়টি টের পেয়ে ওই চালসহ তাদের আটক করে।
এ বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক মনিরুল হক বলেন, থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
এ বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদ হোসেন বলেন, এ ঘটনায় শাহজাদপুর উপজেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক মনিরুল হক বাদী হয়ে শাহজাদপুর থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
এ বিষয়ে শাহজাদপুর থানার ওসি শাহিদ মাহমুদ খান বলেন, আটক চাল ও ৪ অটো চালক থানা হেফাজতে রয়েছে। এ বিষয়ে মামলা হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য, শাহজাদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক নূর হোসেন সৈকত বলেন, এই চাল চুরির সঙ্গে শাহজাদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কৈজুরি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম সরাসরি জড়িত। চাল চুরির অপরাধে তার বিরুদ্ধে এলাকাবাসী একাধিকবার বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও মিটিং করেছে। তারপরেও প্রশাসন তার বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় একের পর এক এই চুরির ঘটনা ঘটছে।