একুশে পদকজয়ী মঞ্চ ও টিভি অভিনেতা, পরিচালক এবং মুক্তিযোদ্ধা আলী যাকের করোনায় আক্রান্ত হয়ে শুক্রবার সকাল পৌনে ৭টায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ২৭ নভেম্বর, শুক্রবার বনানী কবরস্থান মসজিদে জানাজা শেষে তার দাফন সম্পন্ন হয়।
তার স্বজনরা জানান, মৃত্যুর দুদিন আগে আলী যাকেরের শরীরে করোনাভাইরাস সংক্রমণ শনাক্ত হয়। এ কারণে শহীদ মিনারে শেষ শ্রদ্ধার আয়োজন করা হয়নি। আসরের নামাজের পর জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়।
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের অন্যতম ট্রাস্টি আলী যাকেরকে শেষ শ্রদ্ধার জন্য মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রাঙ্গণে নেয়া হয়। সেখানে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিভিন্ন অঙ্গনের মানুষ তার কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়।
এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, ফেরদৌসী মজুমদার, মামুনুর রশীদ, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি সারওয়ার আলী, মফিদুল হক, নাসির উদ্দীন ইউসুফ প্রমুখ। এছাড়াও, আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া দলের পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
পরিবারের পক্ষে তাঁর মরদেহের পাশে স্ত্রী সারা যাকের, ছেলে অভিনেতা ইরেশ যাকের, মেয়ে শ্রিয়া সর্বজয়া উপস্থিত ছিলেন।
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রাঙ্গণে ঢাকা জেলা প্রশাসনের পক্ষে আলী যাকেরের মরদেহে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। সেখানে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ছিল তার মরদেহ। পরে নেয়া হয় তার কর্মস্থল এশিয়াটিকে।
প্রায় চার বছর ধরে ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন আলী যাকের। এ ছাড়া ছিল বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা।
বার্ধক্য ও হার্টের সমস্যাসহ কিছু শারীরিক জটিলতা নিয়ে গত ১৭ নভেম্বর রাজধানীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় আলী যাকেরকে। সেখানে তাকে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল।
১৯৪৪ সালে চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এ নাট্য ব্যক্তিত্ব। আলী যাকের ছিলেন চার ভাই-বোনের মধ্যে তৃতীয়। তার বাবা মোহাম্মদ তাহের ছিলেন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা। বাবার চাকরির বদলি সূত্রে অল্পবয়সে কুষ্টিয়া ও মাদারীপুরে কাটান আলী যাকের।
তিনি নটরডেম কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। আলী যাকের ৮ নং সেক্টরে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করেন।
১৯৭২ সালে তিনি মঞ্চনাটকের দল আরণ্যকে যোগদান করেন। নাট্যকার মুনীর চৌধুরীর বিখ্যাত ‘কবর’ নাটকের মধ্য দিয়ে তিনি প্রথম মঞ্চে উঠেন। পরবর্তীতে নাগরিক নাট্যসম্প্রদায়ে যোগদান করেন। সেখানে তার অভিনীত ‘দেওয়ান গাজির কিসসা’, ‘নুরুল দিনের সারাজীবন’ দেশের মঞ্চনাটকের ইতিহাসে অবিস্মরণীয় হয়ে আছে। টেলিভিশন নাটকে ‘আজ রবিবার’ ও ‘বহুব্রীহি’ দিয়ে তিনি পরিচিত লাভ করেন।
১৯৭৫ সালে নাট্য অভিনেত্রী সারা যাকেরকে বিয়ে করেন। তাদের ছেলে ইরেশ যাকের ও মেয়ে শ্রিয়া সর্বজয়া।
আলী যাকের একুশে পদক, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি পদক, বঙ্গবন্ধু পদক, মুনির চৌধুরী পদক, নরেন বিশ্বাস পদকসহ একাধিক সম্মাননা পান।