দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণে মৃত্যুর ঘটনা হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, শেষ দুই সপ্তাহে দেশে করোনায় মোট মৃত্যুবরণ করেছেন ৪০৭ জন রোগী। যেখানে আগের দুই সপ্তাহে মৃত্যু হয়েছিল ২৫০ জনের। অর্থাৎ শেষ দুই সপ্তাহে ১৫৭ জনের মৃত্যু বেশি হয়েছে, যা ৬২ দশমিক ৮০ শতাংশ। এ ছাড়া শেষ এক সপ্তাহে আগের সপ্তাহ থেকে মৃত্যু বেড়েছে প্রায় ৩০ শতাংশ এবং শনাক্ত বেড়েছে প্রায় ৪ শতাংশ। গতকাল শনিবার অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শেষ সপ্তাহে (২২-২৮ নভেম্বর) আগের সপ্তাহ থেকে পরীক্ষা শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ, শনাক্ত ৩ দশমিক ৭৪ শতাংশ, সুস্থ ৬ দশমিক ৫৭ শতাংশ এবং মৃত্যু ২৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ বেড়েছে। শেষ সপ্তাহে মৃত্যুবরণ করেছেন ২৩০ জন, আর আগের সপ্তাহে মৃত্যু হয়েছিল ১৭৭ জনের।
এদিকে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ৩৬ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর। এদিন মৃতদের মধ্যে ৩০ জনই ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা। অন্যদিকে গত ছয় দিন টানা দুই হাজারের বেশি করে রোগী শনাক্তের পর গতকাল তা দুই হাজারের নিচে নেমেছে। অধিদপ্তরের তথ্যমতে, শেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ১ হাজার ৯০৮ জন নতুন করোনা রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। এদিন প্রায় ১৪ হাজার পরীক্ষায় ১৩ দশমিক ৬২ শতাংশ হারে রোগী শনাক্ত হয়।
গতকাল ছিল দেশে প্রথম করোনা শনাক্তের পর ২৬৬তম দিন। অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সারা দেশে ১১৮টি পরীক্ষাগারে করোনার নমুনা পরীক্ষা চলমান। এসব পরীক্ষাগারে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (শুক্রবার দুপুর ১২টা থেকে শনিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত) ১৩ হাজার ৭১৮টি নমুনা সংগৃহীত হয়। আগের কিছু নমুনাসহ পরীক্ষা করা হয় ১৪ হাজার ১২টি। এসব পরীক্ষায় ১ হাজার ৯০৮ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়। শনাক্তের হার ছিল ১৩ দশমিক ৬২ শতাংশ। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩৬ রোগীর মৃত্যু হয়েছে এবং বাসা ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও ২ হাজার ২০৯ রোগী সুস্থ হয়েছে।
এতে বলা হয়, দেশে গতকাল পর্যন্ত ২৭ লাখ ৪৩ হাজার ৫৯২টি নমুনা পরীক্ষায় ৪ লাখ ৬০ হাজার ৬১৯ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে মারা গেছে ৬ হাজার ৫৮০ এবং সুস্থ হয়েছে ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৮৮৫ জন। বাকিরা চিকিৎসাধীন। এ পর্যন্ত যত পরীক্ষা হয়েছে তার বিপরীতে রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৬ দশমিক ৭৯ শতাংশ। শনাক্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত মৃত্যুহার ১ দশমিক ৪৩ ও সুস্থতার হার ৮১ দশমিক ৬০ শতাংশ।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে পুরুষ ২৮ ও নারী ৮ জন। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৩০, খুলনায় ৩ এবং চট্টগ্রাম, বরিশাল ও রংপুরে ১ জন করে মারা গেছে। মৃতদের মধ্যে ষাটোর্ধ্ব ২৩, ৫১-৬০ বছরের ১০, ৪১-৫০ বছরের ১, ২১-৩০ বছরের ১ এবং ১১-২০ বছরের ছিল ১ জন। ৩৬ জনের সবাই হাসপাতালে মারা গেছে।
অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে করোনায় এ পর্যন্ত মৃতদের মধ্যে পুরুষ ৫ হাজার ৫২ ও নারী ১ হাজার ৫২৮ জন। শতকরা হিসাবে পুরুষ ৭৬ দশমিক ৭৮ ও নারী ২৩ দশমিক ২২ শতাংশ। সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫১৭ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ১ হাজার ২৫৪, খুলনায় ৪৯৫, রাজশাহীতে ৪০১, রংপুরে ২৯৮, সিলেটে ২৬৪, বরিশালে ২১৯ ও ময়মনসিংহে সর্বনিম্ন ১৩২ জন মারা গেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৭১ রোগীকে আইসোলেশনে ও ৬৫৭ জনকে কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আইসোলেশনে ১২ হাজার ৮০৫ ও কোয়ারেন্টাইনে আছে ৪০ হাজার ৮৮৩ জন। সারা দেশে কভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলোতে ১১ হাজার ৩৩৮টি সাধারণ বেডের মধ্যে গতকাল রোগী ভর্তি ছিল ২ হাজার ৯৯৮টিতে। বাকিগুলো খালি ছিল। এ ছাড়া ৫৪৭টি আইসিইউর মধ্যে খালি ছিল ২৪০টি।