সৌদি-কাতারের বিরোধ মেটাতে তৎপর ট্রাম্প-জামাতা কুশনার

সৌদি আরব ও কাতারের মধ্যে বিরোধ মেটাতে দেশ দুইটিতে সফরে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শীর্ষ উপদেষ্টা এবং তার জামাতা জেরার্ড কুশনার।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম রয়টার্স, অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এ খবর দিয়েছে কাতারভিত্তিক আলজাজিরা। 

ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসে ইসরায়েলের সঙ্গে কয়েকটি আরব রাষ্ট্রের সম্পর্ক স্বাভাবিককরণ এবং আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন হয়। এর পেছনে জেরার্ডের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হয়ে থাকে।

যুক্তরাষ্ট্রে আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ ক্ষমতায় আছেন ট্রাম্প। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের দুই দেশের মধ্যে বিরোধ মেটানোকে প্রাধান্য দিচ্ছে ওয়াশিংটন।

মার্কিন প্রশাসনের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা সূত্রে রবিবার বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, এ সপ্তাহে সৌদি আরব ও কাতার সফরে যাচ্ছেন কুশনার।

সৌদি শহর নিওমে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হবেন তিনি। এরপর কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।

রাজনীতি বিষয়ক মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানায়, বিরোধ মিটিয়ে সৌদি এবং কাতারের নেতাদের এক করতে চান কুশনার এবং একাধিক বিষয়ে উভয়ের মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন করতে চান তিনি।

ফিলিস্তিন মুক্তি আন্দোলন হামাস ও মিসরের ইসলামপন্থী দল মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে সম্পর্ক রাখায় কাতারের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদকে সহায়তার অভিযোগ আনে সৌদি আরব।

দেশটি সঙ্গে যোগ দেয় সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও মিসর। ২০১৭ সালে কাতারের ওপর অবরোধ আরোপ করে আরব দেশগুলো।

যদিও কাতার তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছে। অভিযোগ করে, সৌদি নেতৃত্বে আরব দেশগুলোর এ অবরোধ কাতারের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত।

এদিকে এক সৌদি শীর্ষ কর্মকর্তা প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান গত মাসে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে চলে আসা এ বিরোধ অবসানে কিছু অগ্রগতি হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, একটি সমাধানের পথ খুঁজছে রিয়াদ।

একইভাবে কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুলরহমান আল থানি জানান, মধ্যপ্রাচ্য সংকটে কারও সাফল্য নেই। দোহা আশা করছে, যে কোনো মুহূর্তে এটির অবসান হবে।

মার্কিন নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা রবার্ট ও’ব্রেইন এ মাসের শুরুতে জানান যে, মধ্যপ্রাচ্যের সংকট সমাধানকে প্রাধান্য দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। জানুয়ারিতে ট্রাম্প ক্ষমতা ছাড়ার আগে সৌদির সঙ্গে কাতারের বিরোধ মেটানো সম্ভব হতে পারে।