নগদ প্রণোদনায় রেমিট্যান্সে ঊর্ধ্বগতি তৈরি হয়েছে, তা ধরে রাখতে এ সংক্রান্ত নীতিমালা আরও সহজ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে রেমিট্যান্স প্রদানকারী ব্যাংক রেমিটারের কাগজপত্র নিজ দায়িত্বেই যাচাই করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রণোদনার অর্থ ছাড় করার জন্য রেমিট্যান্স আহরণকারী ব্যাংকের কাছে ‘কনফার্মেশন’ পাঠাবে। তার ভিত্তিতে রেমিট্যান্স আহরণকারী ব্যাংক রেমিট্যান্স প্রদানকারী ব্যাংক বরাবর প্রণোদনার টাকা ছাড় করবে। গতকাল এ সংক্রান্ত একটি নতুন নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এতদিন রেমিট্যান্স আহরণকারী ব্যাংক রেমিটারের কাগজপত্র যাচাই করত। রেমিটার যার নামে রেমিট্যান্স পাঠাতেন, তিনি প্রথমে রেমিটারের কাগজপত্র রেমিট্যান্স প্রদানকারী ব্যাংকে জমা দিতেন। রেমিট্যান্স প্রদানকারী ব্যাংক ওই কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করার জন্য রেমিট্যান্স আহরণকারী ব্যাংকে পাঠাত। রেমিট্যান্স আহরণকারী ব্যাংক সেগুলো পরীক্ষা করে রেমিট্যান্স প্রদানকারী ব্যাংকে কনফার্মেশন দেওয়ার পর প্রণোদনার টাকা পেতেন সুবিধাভোগীরা। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে অনেক সময় লেগে যেত। সেই সময় কমিয়ে এনে রেমিট্যান্সের প্রণোদনার টাকা যাতে দ্রুততম সময়ে সুবিধাভোগীরা পান, তা নিশ্চিত করতে গতকাল নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বর্তমানে বৈধ উপায়ে রেমিট্যান্স পাঠানোর বিপরীতে প্রণোদনা বা নগদ সহায়তা প্রদানে বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী, পাঁচ হাজার ডলার বা পাঁচ লাখ টাকার বেশি রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে ২ শতাংশ প্রণোদনা সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে রেমিটারের কাগজপত্রাদি বিদেশের এক্সচেঞ্জ হাউজ থেকে পাঠানোর বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
গতকালের নির্দেশনায় সেই যাচাই পদ্ধতি সহজ করে বলা হয়েছে, দুই শতাংশ প্রণোদনা সহায়তা গ্রহণের জন্য প্রাপক তার ব্যাংক (প্রদানকারী ব্যাংক) শাখায় রেমিটারের কাগজপত্র জমা দেবেন। রেমিট্যান্স প্রদানকারী ব্যাংক রেমিটারের কাগজপত্র নিজ দায়িত্বে যাচাই করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রণোদনা সহায়তা ছাড়করণের জন্য রেমিট্যান্স আহরণকারী ব্যাংকের কাছে কনফার্মেশন পাঠাবে। ওই কনফার্মেশনের ভিত্তিতে রেমিট্যান্স আহরণকারী ব্যাংক রেমিট্যান্স প্রদানকারী ব্যাংক বরাবর প্রণোদনা সহায়তা ছাড় করবে। রেমিট্যান্স আহরণকারী এবং প্রদানকারী ব্যাংক একই হলে রেমিট্যান্সের প্রাপক থেকে রেমিটারের কাগজপত্র সংগ্রহ এবং ওই কাগজপত্র যাচাই রেমিট্যান্স আহরণকারী ব্যাংক নিজেই সম্পাদন করবে। এ নির্দেশনা ২০১৯ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হবে।
দেশে বৈধপথে রেমিট্যান্স পাঠাতে প্রবাসীদের উৎসাহী করতে ২০১৯ সালের ১ জুলাই থেকে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা দিচ্ছে সরকার। এক্ষেত্রে পাঁচ হাজার ডলার বা পাঁচ লাখ টাকার কম রেমিট্যান্স পাঠালে প্রণোদনার জন্য কোনো কাগজপত্র জমা দিতে হয় না। সরকারি এই প্রণোদনার পর থেকে রেমিট্যান্সে উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে, যা করোনা মহামারীর মধ্যেও অব্যাহত রয়েছে।
সদ্য শেষ হওয়া নভেম্বর মাসে ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। সবমিলিয়ে চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) ১ হাজার ৯০ কোটি ৪৪ লাখ (১০.৯০ বিলিয়ন) রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৪১ দশমিক ৩২ শতাংশ বেশি। বাংলাদেশের ইতিহাসে পাঁচ মাসে রেমিট্যান্সে এত বেশি প্রবৃদ্ধি আগে কখনই হয়নি। ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১৮ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স আসে। এ হিসাবে গত অর্থবছরের ৬০ শতাংশ রেমিট্যান্স এই পাঁচ মাসেই চলে এসেছে।