৪ ডিসেম্বর ম্যাচের আগে বাংলাদেশের জন্য যা অনুপ্রেরণা, কাতারের জন্য তা শিক্ষা। বলছি, বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে গত বছরের কাতার বনাম ভারতের সেই গোলশূন্য ড্র ম্যাচের কথা।
নিজেদের চেনা মাঠ আর দর্শকদের সামনে ভারতের গোলমুখ ভাঙতে না পারায় রীতিমতো লজ্জায় পড়েছিল ২০২২ বিশ্বকাপের আয়োজকরা। গোলবারের নিচে সেদিন যেন চীনের প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিল ভারতের গোলরক্ষক গুরপ্রিত সিং। ২০১৯-এর ১০ সেপ্টেম্বরের সেই ম্যাচটা এখনো ভুলতে পারেননি কাতারের মিডফিল্ডার কারিম বৌদিয়াফ। তাই তো বাংলাদেশকে একটুও হালকাভাবে নিতে চান না ফ্রান্সে জন্ম নেওয়া এই ফুটবলার। কারণ বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বের টিকিট পেতে বাংলাদেশের কাছ থেকে পুরো তিন পয়েন্ট নিতে চায় কাতার। কারিমের মতো এই লক্ষ্য পুরো কাতার দলের। বাংলাদেশকে তাই একটু আলাদাভাবে দেখছেন কারিম বৌদিয়াফ। কারণ আলজেরিয়ান বংশোদ্ভূত ফ্রান্সে জন্ম নেওয়া এই মিডফিল্ডার কাতারের জার্সিতে এখন পর্যন্ত যে পাঁচটি গোল করেছেন তার শেষটি এসেছে বাংলাদেশের বিপক্ষে ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে। কারিম বৌদিয়াফের সেই শেষ মুহূর্তের গোলেই কর্দমাক্ত মাঠে ২-০ গোলের জয় পেয়েছিল কাতার।
বাংলাদেশকে হারিয়ে তিন পয়েন্ট নিতে যেমন মরিয়া কাতারিয়ানরা, তেমনি দোহায় বসবাস করা বাংলাদেশিরা মরিয়া একটা টিকিটের জন্য। যদিও আয়োজক কাতার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এরই মধ্যে ঘোষণা দিয়েছে, ম্যাচ ভেন্যু দোহার আবদুল্লাহ বিন খলিফা স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতার ২০ শতাংশ টিকিট ছাড়া হবে। সেই হিসাবে ১ হাজার ৮০০ দর্শক মাঠে বসে দেখতে পারবেন কাতার আর বাংলাদেশের মধ্যকার এই ম্যাচ।
তবে সেই ভাগ্যবান ১৮০০ জনের একজন হতে রীতিমতো হাহাকার চলছে কাতারের প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে। এখানে অবশ্য টিকিট পাওয়ার পদ্ধতিটা বাংলাদেশের মতো নয়। বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই কি-না, টিকিট মিলছে শুধু অনলাইনে।
অন্যদিকে হতাশা তৈরি হয়েছে এই ম্যাচ কাভার করতে আসা বাংলাদেশি সাংবাদিকদের মধ্যে। কারণ দুজন ছাড়া আজও হোটেলের বাইরে যাওয়ার অনুমতি পাননি বাকিরা। তবে আজ নাকি বিশেষ ব্যবস্থায় প্রি ম্যাচ প্রেস কনফারেন্স আর প্র্যাকটিস কাভার করার ব্যবস্থা করবে স্বাগতিক কিউএফএ। শেষ পর্যন্ত সত্যি কাল (আজ) বাইরে যেতে পারব কি-না, অপেক্ষায় আছি আমরা সবাই।