রাজশাহী জেলা পুলিশের চার সদস্যের মাদক সেবনের প্রমাণ মিলেছে। এ চারজনই জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে কনস্টেবল পদে কর্মরত ছিলেন।
ডোপ টেস্টের প্রতিবেদন পজিটিভ আসার পর বিভাগীয় ব্যবস্থার অংশ হিসেবে তাদের দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত (ক্লোজড) করা হয়েছে।
রাজশাহী জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতেখায়ের আলম দেশ রূপান্তরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জেলা পুলিশের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় দেশের মধ্যে রাজশাহীর বিভিন্ন থানা, ফাঁড়ি ও বিভিন্ন ইউনিটে কর্মরত পুলিশ সদস্যদের মাদকাসক্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। রাজশাহী জেলায় পুলিশ সদস্যদের মাঝে মাদকাসক্তির হার অধিক বিবেচনায় তাদের ডোপ টেস্ট শুরু হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতেখায়ের আলম দেশ রূপান্তরকে জানান, গত সেপ্টেম্বরে রাজশাহী জেলা পুলিশে সন্দেহভাজন মাদকাসক্ত পুলিশ সদস্যদের ডোপ টেস্ট শুরু হয়। এর অংশ হিসেবে ৭ সন্দেহভাজনের ডোপ টেস্ট করার পর চারজনকে শনাক্ত করা হয়। এই চারজনই বিভিন্ন ইউনিটে কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল। ডোপ টেস্টে মাদক গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর সম্প্রতি সাময়িক বরখাস্তসহ তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়।
এই পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, গত রবিবার জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের আরও আট পুলিশ সদস্যের ডোপ টেস্ট করা হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সেসব ফলাফলও ঢাকা থেকে রাজশাহীতে এসে পৌঁছাবে।
জেলা পুলিশের আরেক কর্মকর্তা জানান, গত রবিবার ডোপ টেস্ট করা আটজনের মধ্যে এসআই, এএসআই ও কনস্টেবল রয়েছেন।
এ ছাড়া আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আরও কিছু সন্দেহভাজন পুলিশ সদস্যের ডোপ টেস্ট হবে। রাজশাহী পুলিশ হাসপাতালের একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের নেতৃত্বে ডোপ টেস্ট কমিটি করা হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞ কমিটি প্রথমে ফলাফল ঢাকায় পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠিয়ে থাকে। সেখান থেকে সংশ্লিষ্ট জেলা পুলিশকে ফলাফল জানানো হচ্ছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতেখায়ের আলম বলেন, গণহারে সবার ডোপ টেস্ট করা হচ্ছে না। শুধু যারা সন্দেহভাজন তাদেরই করা হচ্ছে। মুখ, চোখ ও ঠোট দেখেও অনেক সময় সন্দেহভাজন মাদকাসক্তদের প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব। ডোপ টেস্টের সময় তাদের এসব লক্ষণও দেখা হচ্ছে।