ফিনল্যান্ডের উত্তরে বাল্টিক সাগর উপকূলের কাছের ছোট্ট শহর, নাম লি। শহরের চরিত্রও নামের মতো সহজ-সরল। কয়েকটা রাস্তা, দুটি সুপার মার্কেট এবং জনসংখ্যা ১০ হাজারেরও কম। লি গোটা ইউরোপের সবচেয়ে পরিবেশবান্ধব এলাকাগুলোর অন্যতম। সেখানে কার্বন নির্গমন ৮০ শতাংশ কমানো সম্ভব হয়েছে। ছোট এই শহরটি এখন হয়ে উঠেছে পরিবেশবান্ধব শহরের রোল মডেল। গত ১০০ বছরে শহরটির বনাঞ্চলের কোনো গাছ কাটা হয়নি। জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়েচে ভেলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শহরটির মানুষ অনেক দিন ধরে নিজস্ব প্রচেষ্টায় কার্বন নির্গমন কমিয়ে পরিবেশবান্ধব পথে এগিয়ে চলেছেন। তারা সরকারের ওপর দায় না চাপিয়ে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার অনেক দায় নিজেদের কাঁধে নিয়েছেন।
পরিবেশবাদী সংগঠনের প্রতিনিধি লিনা ভুয়োটোভেসি বলেন, আমরা একেবারে প্রকৃতির মাঝে বাস করি। নিজেদের খাদ্য উৎপাদন করা আমাদের জন্য জরুরি। জঙ্গল ও প্রকৃতির সঙ্গে সংযোগও এর চাবিকাঠি। আমরা জানি যে, জলবায়ু পরিবর্তন আসতে চলেছে না, ইতিমধ্যেই এসে গেছে। আমরা এটাও বুঝেছি যে, পরিবর্তনের দায় শুধু ওপর মহলে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না, আমাদেরকেও সেই পরিবর্তনের অংশ হতে হবে।
লিনা বলেন, আমাদের এখানে পরিবর্তনের শুরুটা স্কুল-কিন্ডারগার্টেনের থেকে। একটি প্রকল্পের আওতায় শিশুদের পানি ও বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিষয় সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়ে। বড় হলে তারা সেই আলোকেই নিজের অভ্যাস গড়ে তোলে।
গত দশ বছর ধরে লি শহরের বাসিন্দারা নিজেদের জ্বালানির ব্যবহার অর্ধেক কমিয়ে এনেছেন। শিশুরা টাকা বাঁচিয়ে খেলনা, গাছপালা কিনছে।
শহরের চারপাশে নির্মল প্রকৃতি এবং ইউরোপের অন্যতম বড় জলাভূমি রয়েছে। অনেক শতাব্দী ধরে সেখানে জ্বালানির উৎস হিসেবে পিট বা ঘাস জ্বালানো হতো। কিন্তু ইউহা হুলকোনামের এক ব্যক্তি জলাভূমির বড় অংশ কিনে নিয়ে সেগুলোকে সংরক্ষিত এলাকা করে তুলেছেন। তার মতে, প্রত্যেক মানুষ ও প্রত্যেক পরিবার সাধ্যমতো নিজস্ব দায়িত্ব পালন করলে তবেই পরিবর্তন সম্ভব। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সাহায্য করতে হলে ছোট-বড় সব রকম পদক্ষেপ নিতে হবে।