করোনাভাইরাস মহামারীতে বিশ্বে ইতিমধ্যেই পনেরো লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। সংক্রমণ ও মৃত্যু ঠেকাতে বিভিন্ন প্রান্তের বিজ্ঞানী ও চিকিৎসকরা গবেষণা করে যাচ্ছেন। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দুই ওষুধ কোম্পানি ফাইজার ও মডার্না করোনা প্রতিরোধী টিকা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। মডার্নার দাবি, তাদের তৈরি করা টিকা করোনার বিরুদ্ধে ৯৫ শতাংশ কার্যকর। কিন্তু এই টিকা একজন ব্যক্তির শরীরে তিন মাসের জন্য অ্যান্টিবডি তৈরি করতে সক্ষম হবে বলে গত বৃহস্পতিবার এক গবেষণায় বলা হয়েছে।
বার্তা সংস্থা এএফপি ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর অ্যালার্জিস অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিসের (এনআইএআইডি) গবেষকরা মর্ডানার টিকাটি ৩৪ জন প্রাপ্তবয়স্কের ওপর পরীক্ষা করেন। এই স্বেচ্ছাসেবকদের মধ্যে তরুণ এবং বৃদ্ধও রয়েছে। এনআইএআইডি একেবারে শুরু থেকেই এই ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চালায়। নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিনে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, সার্স-কভ-২ ভাইরাসকে মানুষের শরীরে সংক্রমণ ঘটানো থেকে যা থামাতে পারে তা মূলত চাহিদার চেয়ে কম সময় কার্যকর থাকে। আক্রান্তদের শরীরে মর্ডানার টিকা দিলে তা তিন মাসের বেশি সময় কার্যকর থাকে না। মর্ডানার এই টিকার নাম এমআরএনএ-১২৭৩। ২৮ দিনের মধ্যে একজন আক্রান্তকে এই টিকার দুই ডোজ নেওয়ার কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা।
এনআইএআইডি প্রধান অ্যান্থনি ফাউচি ও অন্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মর্ডানার অ্যান্টিবডি শরীরে তিন মাসের বেশি সময় থাকবে না। কিন্তু ওই শরীরে এরপরও ভাইরাস সংক্রমণের চেষ্টা করলে, কোষের স্মৃতি ওই ভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকর হবে। তবে এমন বক্তব্যের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো বৈজ্ঞানিক তথ্য পাওয়া যায়নি।
টেক্সাস এঅ্যান্ডএম ইউনিভার্সিটির ভাইরোলজিস্ট বেঞ্জামিন নিউম্যান বলেন, ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ দেওয়ার পর সংক্রমিতের শরীরে ৯০ দিন অ্যান্টিবডি থাকবে। এরপর তাকে ফের দ্বিতীয় দফায় ডোজ নিতে হবে। তবে তরুণদের মধ্যে অ্যান্টিবডি থাকার সময় বাড়তেও পারে এবং তা নির্ভর করছে ইমিউন সিস্টেমের ওপর।