নাটোর চলনবিলের দেশি মাছের শুঁটকি দেশের চাহিদা মিটিয়ে এখন বিদেশে ও রপ্তানি হচ্ছে। বাংলাদেশি শুঁটকির চাহিদা ভারতে অনেক বেশি। সিংড়া অঞ্চলের দেশীয় শুঁটকির স্বাদে-ঘ্রাণে অতুলনীয় বেশি থাকায় সারাদেশে এর কদর রয়েছে। নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের পাশে সিংড়ার উপজেলার নিংগইন এলাকা শুঁটকির জন্য খ্যাত। ওই এলাকায় ৪টি চাতাল গড়ে উঠেছে ।
নাটোর চলনবিলে নিংগইন এলাকার কোল ঘেঁষে গড়ে উঠেছে ওই শুঁটকিপল্লী। এতে কাজ করছেন শত শত নারী-পুরুষ শ্রমিক। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চার চাতালের মাছ কাটা-বাছাইয়ের শ্রমিকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। বাঁশের মাঁচায় ছৈই-এ ঢাকা চালার নিচে স্তূপ করে রাখা আধা-শুকনো দেশীয় চিংড়ি, টেংরা, পুঁটি, খলসে, বাতাসি, চেলা, মলা, টাকি, বাইম, শোল, বোয়াল, গজার, মাগুর, শিং, কৈসহ বাহারি দেশীয় মাছের শুঁটকি। কয়েক বছর আগের তুলনায় এবার শুঁটকির চাহিদা ও মাছের উৎপাদন বেশি।
জানা যায়, চলনবিলে মাছের সংকট এবার কম, তবু শুঁটকি তৈরিতে খরচ হচ্ছে। মাছ বেশি বা কম হোক শ্রমিকদের নির্ধারিত টাকাই মজুরি দিতে হয়। সব মিলিয়ে শুঁটকি তৈরিতে লাভের মুখ দেখছে তারা। চলনবিলের মাছের পাশাপাশি দক্ষিণাঞ্চল থেকেও অল্পকিছু মাছ আসে ওই শুঁটকি পল্লীতে। এখানে প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ মণ শুঁটকি বিক্রি হয়। এছাড়া রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, দিনাজপুর, কক্সবাজার, রাজশাহী, কুষ্টিয়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকাররা এখান এসে শুঁটকি কিনে নিয়ে বিক্রি করেন। মাছভেদে প্রতিকেজি শুঁটকির দাম ৩০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা দরে খুচরা ও পাইকারি হিসেবে বিক্রি হয়।
এখানে পুরুষ শ্রমিকের পাশাপাশি মহিলা শ্রমিকরাও কাজ করছেন। মহিলারা দিনপ্রতি ১৫০ টাকা মজুরিতে আধাবেলা মাছ কাটেন। কেউ বা মাছ কাটার পর কিছু বাড়তি টাকার বিনিময়ে চাতালের মাঁচাগুলোতে মাছ রোদে শুকাতে দেন, ঘণ্টায় ঘণ্টায় উল্টে-পাল্টে বা শুঁটকি বাছাই করেন। শীত মৌসুমে শুঁটকিপল্লীতে কাজ করেই তাদের বাড়তি জীবিকা নির্বাহ করে। বিলের মাছগুলো কিনে বাইরের বাজারে চড়া দামে বিক্রি করে। এবছর শুঁটকি চলে যাচ্ছে ভারতে সহ নানা দেশে।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোল্লাহ ওয়ালীউল্লাহ বলেন, চলনবিলে মাছের উৎপাদন বিগত দিনের চেয়ে ভালো। গত বছর ২১০ মে. টন শুঁটকি উৎপাদন হয়েছে। এবার উৎপাদন আরও বাড়বে। তিনি আরও বলেন, শুঁটকি শ্রমিক ও মালিকদের আমরা প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছি। মৎস্য বিভাগ এ বিষয়ে সজাগ আছে।