ব্রেক্সিট-পরবর্তী বাণিজ্য চুক্তি সংক্রান্ত জটিলতা নিষ্পত্তিতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ও ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন। গত সপ্তাহে উভয় পক্ষের মধ্যে গঠনমূলক আলোচনার প্রেক্ষিতে এই দুই নেতার সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যস্থতাকারী মিশেল বার্নিয়ার জানান, যদি এখনো কোনো উপায় থেকে থাকে, আমরা তা যাচাই বাছাই করে দেখব। অন্যদিকে আইরিশ প্রধানমন্ত্রী মাইকেল মার্টিন আশা করেন, উভয় পক্ষের মধ্যে ঝামেলা ছাড়াই বাণিজ্য চুক্তি হবে।
সমুদ্রে মাছ শিকারের অধিকার, ব্যবসায়ে ভর্তুকি এবং যেকোনো চুক্তি করার ক্ষেত্রে নীতিনির্ধারণী বিষয় কেমন হবে, তা নিয়েই উভয় পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে। কিন্তু জনসন পক্ষ সবসময়ই বলে আসছে তাদের প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের চাওয়া মাত্রাতিরিক্ত। আর ইইউ বলছে, ব্রেক্সিট যেহেতু যুক্তরাজ্যের ইচ্ছের প্রতিফলন, ফলে তাদেরই অতিরিক্ত মূল্য চুকাতে হবে। এ নিয়েই কনজারভেটিভ পার্টির সঙ্গে জনসনের বিরোধ। জনসন চাইছেন যেকোনো মূল্যে ইইউর সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করতে। আর কারজারভেটিভরা বলছেন, বাণিজ্য চুক্তির ক্ষেত্রে আপস করলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে পিছিয়ে পড়বে যুক্তরাজ্য।
গত ৩১ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বের হয়ে আসে যুক্তরাজ্য। কথা ছিল ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের মধ্যে উভয় পক্ষ তাদের মধ্যকার অমীমাংসিত বিষয়াদির সুরাহা করবে। কিন্তু ডেডলাইন চলে এলেও এখনো কোনো সমাধান আসেনি। মধ্যস্থতাকারীদের কাছাকাছি যুক্তরাজ্যের এক সূত্র বিবিসিকে জানায়, দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা যে পর্যায়ে আছে তাতে ইউরোপ চাইছে যুক্তরাজ্যের জলসীমায় আগামী দশ বছরের জন্য তাদের মাছধরার নৌকাগুলো যেন প্রবেশ করতে পারে। টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, এই একটি ইস্যুতেই কোনো আপস করতে চাইছে না ব্রিটিশ সরকার।
বিবিসির রাজনৈতিক প্রতিবেদক লরা কুয়েন্সবার্গ বলছেন, বর্তমান মধ্যস্থতার যে গতি তাতে ইউরোপ আলোচনার মাধ্যমে যুক্তরাজ্যকে পরাজিত করতে চাইছে। উভয় পক্ষের মধ্যেই ব্রেক্সিট-পরবর্তী বাণিজ্য চুক্তি সমাধানের চেয়ে জিততে চাওয়ার প্রবণতা বেশি। অথচ কথা ছিল বাণিজ্য চুক্তিতে উভয় পক্ষই সমানভাবে ছাড় দেবে। লন্ডনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনায় বার্নিয়ার বলেন, ‘আমাদের ধৈর্য ধরতে হবে।’ কিন্তু এই ধৈর্য ধরার ফলে যুক্তরাজ্য পক্ষের বাণিজ্যিকভাবে কোনো সুবিধা আসবে কি-না তা তিনি পরিষ্কার করেননি।
এদিকে ফ্রান্সের ইউরোপবিষয়ক মন্ত্রী বলেছেন, চুক্তিতে (ইইউ-যুক্তরাজ্য) তারা সন্তুষ্ট না হলে ভেটো দেবেন। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন, যুক্তরাজ্যের জলসীমায় মাছ ধরার অধিকার যাতে ইউরোপ না হারায় সেদিকে তিনি লক্ষ রাখবেন। একই সময়ে জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেলের এক মুখপাত্র জানান, আপস করার জায়গা সবসময়ই থাকে।
যুক্তরাজ্যের সাবেক ব্রেক্সিট মন্ত্রী ডেভিস ডেভিস বিবিসি ব্রেকফাস্টকে জানান, ইউরোপের সঙ্গে চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও তা নির্ভর করছে উভয়ের আপসের ওপর। জনসন ও উরসুলার সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছে সবাই। কারণ তাদের এই আলোচনা ব্যর্থ হলে যুক্তরাজ্যের জন্য সামনের রাস্তা বেশ সংকীর্ণ হয়ে যাবে, অর্থাৎ খুব বেশি বিকল্প থাকবে না তাদের হাতে।