[ভুট্টোর শাসনামলে বিরোধী দল প্রধান বালুচ নেতা শেরবাজ খান মাজারির গ্রন্থ ‘এ জার্নি ইনটু ডিজইলুশনমেন্ট’-এর একটি অধ্যায় অনুসরণে লিখিত। আজ থেকে ঠিক ৫০ বছর আগে ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয়েছিল তৎকালীন পাকিস্তানের ঐতিহাসিক সাধারণ নির্বাচন]
আইয়ুব খানের পদত্যাগ ও সামরিক আইনের নবায়নে স্বস্তি ফিরে এলো এবং তা অভিনন্দিত হলো। মাসের পর মাস সহিংস উত্তেজনা বজায় থাকার পর সমর সাজ পরিহিত যোদ্ধারা যখন আবার রাস্তায় টহল দিতে লাগল, দেশে একটি ভীতিকর স্তব্ধ অবস্থা নেমে এলো। বাহ্যত ১৯৫৮-এর সামরিক শাসনের মতো হলেও এবারের পরিস্থিতি কিন্তু সম্পূর্ণ ভিন্ন। আইয়ুব খান। আইয়ুব খান যখন ক্ষমতা দখল করেন তখনকার রাজনৈতিক পদ্ধতিকে হেয় করা হয়েছে এবং রাজনীতিবিদরাও জনগণের কাছে নিন্দিত হয়ে উঠেছিলেন। তখনকার বিরাজমান পরিস্থিতিতিই আইয়ুব খানকে আধিপত্য বিস্তারের এবং জাতীয় বিষয়ে নিজের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সুযোগ করে দিয়েছে। পরিস্থিতি কিন্তু ইয়াহিয়াকে এই সুযোগ দেয়নি। যখন কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে জনগণের বিক্ষোভ ফেনিয়ে উঠছিল, তখন সামরিক একনায়ক হিসেবে ইয়াহিয়া ক্ষমতাসীন হন। জনগণ গণতন্ত্র চেয়েছে, নতুন সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে এর বিরুদ্ধে গিয়ে জনগণের মোকাবিলা করার মতো সামর্থ্য তার ছিল না। ২৬ মার্চ ১৯৬৯ তিনি তার প্রথম বেতার ভাষণেই বলেন : ‘শাসনতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি করা ছাড়া আমার অন্য কোনো উচ্চাশা নেই।’ তিনি মনে করেন গঠনমূলক রাজনৈতিক কর্মকা-ের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচিত গণপ্রতিনিধির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের পূর্বশর্ত হচ্ছে একটি সৎ প্রশাসন প্রতিষ্ঠা করা। যারা গণপ্রতিনিধি নির্বাচিত হবেন তাদের দায়িত্ব হবে একটি কার্যকর সংবিধান প্রণয়ন করা, যে সংবিধান ক্ষুব্ধ মানুষের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক সমস্যাগুলোর সমাধান দেবে।
১৯৬৯-এর ১ এপ্রিল ইয়াহিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন শুরু করলেন। রাষ্ট্রপ্রধান হওয়া ছাড়াও তিনি সেনাবাহিনীর কমান্ডার ইন চিফ এবং প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের দায়িত্বও তার হাতে থাকল। জেনারেল পীরজাদা হলেন প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) কদিনের মধ্যেই সানডে স্টাইমস তাকে বলল ‘ডি-ফ্যাক্টো’ প্রাইম মিনিস্টার। পিএসওর অধীনে দুজন ব্রিগেডিয়ার (পরে মেজর জেনারেল হিসেবে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) একজনের দায়িত্ব সামরিক আইনবিষয়ক, অন্যজনের বেসামরিক বিষয়। ইয়াহিয়া সরকারের মন্ত্রী জি ডব্লিউ চৌধুরী বললেন, এই দুজন অফিসার হয়ে উঠলেন ‘সুপার সেক্রেটারি’।
লিগাল ফ্রেমওয়ার্ক অর্ডারে যে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে, তাতে একই সঙ্গে মুজিবকে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করা হয়েছে আবার ‘ছয় দফা’র ধারও কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এর ভেতরে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরস্পরবিরোধিতা এবং কিছু ভ্রান্তি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে নতুন সংবিধান পাস করার জন্য অন্তত কত ভাগ পরিষদ সদস্যের সম্মতি দরকার, তা নির্দিষ্ট করা হয়নি। সংবিধান গৃহীত হতে সাধারণত দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন লেগে থাকে আর তা করতে হলে পাকিস্তানের উভয় অংশের সদস্যদের মধ্যে আলোচনা, সম্মতি ও অংশগ্রহণ অনিবার্য হয়ে উঠবে। কিন্তু ‘এলএফও’ ঘোষণায় ইয়াহিয়া বললেন, জাতীয় পরিষদে পাকিস্তানের সব অঞ্চলের জনগণের কল্যাণের দিকে লক্ষ রেখে উদ্ভূত পদ্ধতি নতুন সংবিধান পাসের জন্য অবলম্বন করা হবে। তাতে কেবল সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় সংবিধান গৃহীত হওয়ার একটি সুযোগ সৃষ্টি হলো। এটাই ইয়াহিয়া খানের একটি বড় ভ্রান্তি হিসেবে চিহ্নিত হলো, যার পরিণতি হবে মারাত্মক।
ইতিহাসের এই ঘটনাক্রম যারা লিপিবদ্ধ করেছেন তাদের প্রশ্ন এটা কি আসলে ভুল, না ইচ্ছাকৃত উদ্দেশ্যমূলক ভ্রান্তি যে, সংবিধান পাসের প্রক্রিয়া নিয়ে তর্কবিতর্ক করতে করতে নির্বাচিত গণপ্রতিনিধিরা ১২০ দিন পার করে দেবেন আর তখন ‘এলএফও’র শর্ত অনুযায়ী পরিষদ বাতিল হয়ে যাবে। ইয়াহিয়া কেবিনেটের মন্ত্রী জি ডব্লিউ চৌধুরী পরে লিখেছেন, ইয়াহিয়ার ‘ইনার কেবিনেট’-এর জান্তা সদস্যরা সংবিধান পাসের জন্য অন্তত ষাট ভাগ সদস্যের সম্মতির ওপর জোর দিয়েছিলেন; কিন্তু দক্ষ সঞ্চালক ইয়াহিয়া খান শেষ মুহূর্তে এই দায় নিজে না নিয়ে পরিষদের ওপর চাপিয়ে দেন। চৌধুরী বলেছেন, ‘মুজিব চাননি এই সিদ্ধান্ত ইয়াহিয়া খানের কাছ থেকে আসুক, বরং তা চলে যাক পরিষদের হাতে যেখানে স্পষ্টত বাঙালিদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকবে। এই গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে ইয়াহিয়া মুজিবের চাওয়াকে কবুল করে নিলেন এবং এ কারণে পশ্চিম পাকিস্তানের নেতাদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়লেন।’ মুজিবের প্রতি ইয়াহিয়ার ‘নমনীয় নীতি’ সামরিক জান্তার অন্য সদস্যদের মোটেও সন্তুষ্ট করতে পারল না। জেনারেল তামিদ ও তার ঘনিষ্ঠ সারথি জেনারেল গুলের মতো শরণ ক্ষুব্ধ হলেন আর জেনারেল পীরজাদা যদিও তার সহকর্মীদের অপছন্দ করতেন, নিরপেক্ষ একটি ভাবমূর্তি ধরে রাখার পথ অবলম্বন করলেন। এ অবস্থায় এটা স্পষ্ট বোঝা গেল ইয়াহিয়া খান মুজিবের ওপর সম্পূর্ণ আস্থা রাখলেন যে, তিনি ছয় দফা নিয়ে সমঝোতা করবেন। সরকারি তথ্য মতে এটা স্পষ্ট যে, ছয় দফা নিয়ে দেশের সর্বোচ্চ আমলাদের দুজন ব্রিগেডিয়ারের করিডরে এবং সর্বময় ক্ষমতাধর পিএসওর অফিসে ধরনা দিয়ে পড়ে থাকার মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো। প্রেসিডেন্টকে দেখা তাদের জন্য একটি দুর্লভ ব্যাপার হয়ে উঠল। পাকিস্তানের ইতিহাসে এই প্রথম সিভিল সার্ভিসকে এতটা নিচে নামিয়ে দেওয়া হলো। এটা বেশ স্পষ্ট হয়ে উঠল এই শাসকরা আমলাদের সঙ্গে পার্টনারশিপে আগ্রহী নয়। পীরজাদা বললেন, ‘আগেরবার সবকিছুই বেসরকারি আমলারা করেছে আর দোষ হয়েছে আমাদের। এবার আমরাই সব করব, আর কৃতিত্বটাও আমরাই নেব।’
নতুন শাসকের শাসনের ভিত্তি জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তারা তারা এবং নৌ ও বিমানবাহিনী প্রধান মন্ত্রণালয়গুলো ভাগাভাগি করে নিল। পীরজাদা ছাড়া জেনারেলদের মধ্যে যাদের গুরুত্ব ছিল তারা হলেন হামিদ খান, ওমর, মিঠা এবং সামরিক গোয়েন্দা পরিচালক আকবর। সিভিলিয়ানদের মন্ত্রী পদে গ্রহণ করতে তাদের আরও চার মাস লেগে যায়। এটা বলা যুক্তিযুক্ত যে, পূর্বসূরি আইয়ুব খানের মতো সশস্ত্র বাহিনীর ওপর তার একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ ছিল না। এটা বরং বলা মানানসই হবে যে, তিনি ছিলেন সামরিক জান্তার প্রধান। নিজের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করার প্রয়োজন হয়, তিনি বোধ করেন অথবা নিজের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করার সামর্থ্য তার ছিল না। পরের মাসগুলোতে কজন জেনারেল যেমন পীরজাদা, হামিদ, ওমর তাদের গোপন ব্যক্তিগত এজেন্ডা নিয়ে পছন্দের রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে দেন-দরবার শুরু করে দিল। সামরিক রাজত্বের ভয়ংকর পতন ঘটল, কিন্তু অনেক প্রশ্নের সম্পূর্ণ উত্তর মিলল না। যে ট্র্যাজিক পরিণতি পাকিস্তানকে ছিন্নভিন্ন করে ফেলল, তার জন্য সেনা জান্তার মধ্যে কে দায়ী? সম্ভবত এর সবচেয়ে নিরাপদ এবং যথার্থ উত্তর হবে তারা সবাই। পূর্ব পাকিস্তানের বিস্ফোরণোন্মুখ রাজনৈতিক পরিস্থিতির মুখোমুখি নিজের সার্বিক অদক্ষতা, তাদের রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ ও ষড়যন্ত্র এবং বুদ্ধিবৃত্তির নিম্নমান প্রমাণ করেছে যে, তারা সংকট মোকাবিলার উপযুক্ত ছিলেন না।
ক্ষমতায় আসীন হয়েই ইয়াহিয়া দেশের রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় বসলেন। তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলাপ হওয়ার কথা মুজিবের সঙ্গে, তিনি বাঙালিদের প্রতিনিধিত্ব করেন এবং এখন বাঙালিরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, যেসব প্রশ্নে পশ্চিম পাকিস্তান ভুল বুঝছে মুজিব তার ছয় দফা সংশোধন করবেন কি না তা নির্ধারণ করা এ নিয়ে সামরিক জান্তার কোনো মাথাব্যথা নেই। ১৯৬৯-এর নভেম্বরে আসন্ন রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় দুটো বড় ধরনের ঘোষণা দিলেন ইয়াহিয়া খান। তিনি বলেছেন, রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেই এই পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্রথমটি হচ্ছে পশ্চিম পাকিস্তানকে এক ইউনিট বিবেচনার পূর্ব সিদ্ধান্ত বাতিল, দ্বিতীয়টি হচ্ছে ইয়াহিয়া সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী একজন-এক ভোট পদ্ধতি চালু। এতে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে এতদিনকার পদ্ধতিগত রাজনৈতিক সমতার সমাপ্তি ঘটল। পূর্ব পাকিস্তানে লোকসংখ্যা বেশি, গণপরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রতিনিধিত্বের সম্ভাবনা তাদেরই নির্ধারিত হয়ে গেল। ১৯৫৬ সালের সংবিধান চালু হওয়ার পর থেকে বাঙালিরা বঞ্চিত হয়ে আসছিল। ইয়াহিয়া সম্ভবত বুঝতে পেরেছিলেন বাঙালিদের আর বঞ্চিত অবস্থায় রাখা যাবে না আর সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রতিনিধিত্ব তাদের নেতৃত্বের ক্ষোভ প্রশমন করবে। এই সিদ্ধান্তের অন্য ব্যাখ্যাও রয়েছে। সামরিক জান্তা মনে করত নির্বাচন এলে অনেক রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ ঘটবে, কোনো দলেরই ক্ষমতা গ্রহণ ও নির্দেশনা দেওয়ার মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকবে না। কাজেই উদ্যোগ গ্রহণের দায় প্রেসিডেন্টের ওপরই থাকবে এবং তার নিয়ন্ত্রণেই কোয়ালিশন সরকার গঠিত হবে। এই ধারণা এটাই প্রমাণ করে সামরিক জান্তা পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের সঠিক গোয়েন্দা প্রতিবেদন পায়নি আর যদি পেয়ে থাকে তাহলে তারা এতই নির্বোধ ছিল যে, বাস্তবতার চিত্র তারা অনুধাবন করতে পারেনি।
এই দুটি প্রধান সিদ্ধান্ত নিয়ে ইয়াহিয়া এবং তার সামরিক জান্তা ৩০ মে ১৯৭০ লিগাল ফ্রেমওয়ার্ক অর্ডার (এলএফও) জারি করল। এলএফওর গুরুত্বপূর্ণ আদেশগুলো হচ্ছে :
১. ৩১৩ আসনের জাতীয় পরিষদ হবে, যার শতকরা ৫৪ ভাগ অর্থাৎ ১৬৯ সদস্যপদ পূর্ব পাকিস্তানের জন্য নির্ধারিত থাকবে। ২. নির্বাচিত সদস্য কেবলমাত্র অধিবেশন শুরু হওয়ার পর স্পিকারের কাছে লিখিত নোটিস দিয়ে পদত্যাগ করতে পারবেন। ৩. পরিষদ ১২০ দিনের মধ্যে নতুন সংবিধান প্রণয়নের কাজ সমাপ্ত করবে, অন্যথায় পরিষদ বিলুপ্ত ঘোষিত হবে। ৪. নবপ্রণীত সংবিধানের আওতায় প্রদেশসমূহের (পূর্ব পাকিস্তান, পাঞ্জাব, সিন্ধু, বালুচিস্তান এবং উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ) মধ্যে এবং প্রদেশের অভ্যন্তরে অঞ্চলসমূহের মধ্যে বৈষম্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঘোচানোর আইনগত ও অন্যান্য পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
তা ছাড়া এলএফও দেশের ভৌগোলিক ও জাতীয় সংহতি রক্ষার দায়িত্ব ফেডারেল সরকারকে দিয়েছে এবং রাষ্ট্রের অখ-তার কোনো ক্ষতি সাধন না করে প্রদেশসমূহকে সর্বোচ্চ স্বায়ত্তশাসন প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে। সমঝোতা হতে পারে এবং তাতে সমন্বয় সাধন করা সম্ভব। এলএফও ও সাধারণ নির্বাচন নিয়ে ইয়াহিয়ার যে কার্যক্রম তাতে পূর্ব পাকিস্তানের সমস্যা নিরসনে ইয়াহিয়া আন্তরিক নন, এটা মনে হওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না।...
ইয়াহিয়া এবং সামরিক জান্তার ধরে নেওয়ার কথা যে, পূর্ব পাকিস্তানে আওয়ামী লীগ বেশ লক্ষণীয় একটি বিজয় অর্জন করবে, কিন্তু এই বিজয় যে এতটা বিস্ময়কর হবে এবং কার্যত পূর্ব পাকিস্তানের সব আসনই পেয়ে যাবে তাদের কেউই তা এতটুকুও আঁচ করতে পারেননি। (অনেক বছর পর ২০১৭ সালে ডক্টর ফরিদ মালিক লিখেছেন পাকিস্তানের ইতিহাসে একমাত্র অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে ১৯৭০ সালের ডিসেম্বরে। এটিই একমাত্র বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন।)
সত্তরের নির্বাচনের ফলাফল সারসংক্ষেপ : নির্বাচনের তারিখ : ৭ ডিসেম্বর ১৯৭০;
ভোটার উপস্থিতি : ৬৩ শতাংশ; সরাসরি নির্বাচনে মোট আসন : ৩০০; সংখ্যাগরিষ্ঠতা ও সরকার গঠনে প্রয়োজন : ১৫১; মনোনীত নারী আসন : ১৩; আওয়ামী লীগের প্রাপ্ত আসন : ১৬০+৭টি নারী আসন; পাকিস্তান পিপলস পার্টির আসন : ৮১+৬টি নারী আসন; নির্বাচনে মোট বৈধ প্রার্থী : ১৫৭৯ জন।
পূর্বাঞ্চলে পাকিস্তান মুসলিম লীগের তিন দল (কাউন্সিল, কনভেনশন ও কাইয়ুম), জামায়াতে ইসলামী, নেজামে ইসলামী এবং ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি কোনো আসন পায়নি। পাকিস্তান ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট নুরুল আমিন নান্দাইল আসন থেকে নির্বাচিত হন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মেজর রাজা ত্রিদিব রায় পার্বত্য চট্টগ্রামের আসনটি লাভ করেন। ১৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ জেতে ২৮৮টিতে, স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জিতেন ৭টিতে এবং পিডিপি ২টি, নেজামে ইসলামী ১টি, জামায়াতে ইসলামী ১টি এবং পাকিস্তান মুসলিম লীগ কনভেনশনপন্থিরা ১টি আসন লাভ করেন।
সত্তুরের এই নির্বাচনের ফলাফলই কার্যত বাংলাদেশের স্বাধীনতার ম্যান্ডেট প্রদান করে।
লেখক সরকারের সাবেক কর্মকর্তা ও কলামনিস্ট
momen98765@gmail.com