কূটনীতিকদের রহস্যময় রোগ

কিউবা, চীন ও রাশিয়ার কর্মরত যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকরা অনেক দিন ধরেই রহস্যময় রোগে আক্রান্ত হচ্ছিলেন। সম্প্রতি ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সে গত শনিবার প্রকাশিত এক রিপোর্টে এ রহস্যময় রোগের পেছনে মাইক্রোওয়েভ হামলাকে দায়ী করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সিএনএন, বিবিসি ও দ্য গার্ডিয়ানের মতো আন্তর্জাতিক মিডিয়াগুলো।

রিপোর্টে বলা হয়, ‘রহস্যময় রোগের শিকার সব কূটনীতিকই “রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি”র শিকার। ঘটনাটির তদন্ত কমিটি বলছে, আক্রান্ত ব্যক্তিদের শরীরে মাইক্রোওয়েভের উপস্থিতি পাওয়া গেছে, যা সাধারণ কোনো মানুষের শরীরে থাকার কথা নয়। কোনো একজনকে টার্গেট করে এ মাইক্রোওয়েভ হামলা চালানো হলেই রহস্যময় এমন মাথাব্যথার উপসর্গ দেখা দেয়।’

এ রোগে আক্রান্তদের শরীরে মাইক্রোওয়েভের কারণে প্রাথমিক কী উপসর্গ দেখা যায়, তা জানা যায়নি। কিন্তু দ্বিতীয় ধাপের উপসর্গের প্রথমেই আছে মাথাব্যথা ও দুর্বলবোধ করা। কাজের প্রতি অনীহা সৃষ্টি হওয়ার দ্বিতীয় ধাপের চূড়ান্ত পর্যায়ের উপসর্গ। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ওই কূটনীতিকদের উদ্দেশ্য করে নিয়মিতই এ মাইক্রোওয়েভ হামলা চালানো হয় কি না এমন কোনো সিদ্ধান্তে উপনীত হননি বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু অসৎ উদ্দেশ্যেই যে ওই মাইক্রোওয়েভ হামলা চালানো হয় তা নিশ্চিত করা হয়েছে রিপোর্টে।

এমন উপসর্গ নিয়ে অসুস্থ হওয়ার ঘটনা প্রথম ঘটে হাভানায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে ২০১৬-১৭ সালে। দূতাবাসের কর্মচারীরা ও তাদের আত্মীয়স্বজন ক্রমাগত ক্লান্তি নিয়ে অভিযোগ করেন। ক্লান্তি ছাড়াও তাদের চুল পড়ে যেতে শুরু করে, রাগ বৃদ্ধি পাওয়া ছাড়াও মাথার মধ্যে কুয়াশার অনুভূতি হয়। এসব উপসর্গকে বলা হচ্ছিল ‘হাভানা সিনড্রোম’। যুক্তরাষ্ট্র সরকার ওই মাইক্রোওয়েভ হামলার জন্য কিউবা প্রশাসনকে দায়ী করে। যদিও হাভানা কর্র্তৃপক্ষ ওই দাবি প্রত্যাখ্যান করে যা দুই দেশের মধ্যকার উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেয়।

২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের এক বিশেষজ্ঞ তার গবেষণায় কিউবায় অবস্থারত কূটনীতিকদের মস্তিষ্কের অস্বাভাবিকতার বিষয়টি বৈজ্ঞানিক প্রমাণ প্রকাশ করেন। এরপরই কানাডাও হাভানা থেকে তাদের ১৪ নাগরিককে দেশে ফিরিয়ে আনে। ওই নাগরিকদেরও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকদের মতো উপসর্গ ছিল। শুধু কিউবায় নয়, চীনে কর্মরত যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকদের ক্ষেত্রেও একই উপসর্গ দেখা গেছে। ২০১৮ সালে চীনের গুয়ানঝৌ থেকে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক কূটনীতিককে ফিরিয়ে আনে যুক্তরাষ্ট্র। সবচেয়ে ভয়ানক বিষয়, উপসর্গ থাকা ওই ব্যক্তিদের দেশে ফিরিয়ে আনার পরও তাদের শরীর আগের অবস্থায় ফিরে আসেনি। অনেকেই দীর্ঘমেয়াদি সমস্যায় ভুগছেন। ব্যক্তিভেদে এ সমস্যার মাত্রাও বিভিন্ন হচ্ছে।