ব্যাটসম্যান সুইস হিট করলে আম্পায়ারের উচিত ‘ডেড বল’ ডাকা

একটা সুইস হিট গত সপ্তাহে খ্বু মনোযোগ আকর্ষণ করেছিল। গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের ছক্কা যখন ক্যাবেরার মানুকা ওভালের বব হক স্ট্যান্ডে আছড়ে পরে তখন ক্রিকেট পন্ডিতরা কী ভাবতে পারেন মনে মনে বোঝার চেষ্টা করলাম।

এমনিতে ম্যাক্সওয়েল ডান হাতে ব্যাট করেন। কিন্তু কুলদিপ যাদবের বল ডেলিভারির সময় স্টান্স বদলে কার্যকর বাম-হাতি বনে গিয়েছিলেন তিনি। এরপর হাত আর চোখের ভারসাম্যে বলটা পাঠিয়ে দেন গ্যালারিতে। ম্যাক্সওয়েলের সুইস হিট সর্বোচ্চ পর্যায়ে দক্ষতার সেরা উদাহরণ হতে পারে। কথা সেটা নয়। আমাদের প্রশ্ন হলো ম্যাক্সওয়েলের সুইস হিট বৈধ কি না। আমার মতে উত্তরটা ‘না’ হওয়া উচিত। কেন না হওয়া উচিত এবার সেই ব্যাখ্যাতে আসছি।

আমার মতে ক্রিকেট প্রশাসকদের উচিত এমনভাবে আইন প্রণয়ন করা যাতে খেলাটায় ব্যাট-বলের যৌক্তিক ভারসাম্য বজায় থাকে। খেলার আইন এবং পরিবেশ যদি অন্যায়ভাবে ব্যাটসম্যান বা বোলারের কোনো এক পক্ষকে সাহায্য করে তাহলে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মান নষ্ট হয়। সুইস হিটের ক্ষেত্রে ব্যাটসম্যানের প্রধান উদ্দেশ্যই বোলারের ফিল্ডিং সাজানোর কৌশলকে ভেস্তে দেওয়া। বোলারের ক্ষেত্রে যা হয়, অধিনায়কের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যাটসম্যানের খেলার স্টাইলের কথা মাথায় রেখে সে ফিল্ডিং সাজায়। সুইস হিটের সময় নিজের স্টাইল জেনে-বুঝে বদলে ফেলে ব্যাটসম্যান। প্রশ্ন হলো সেই মুহূর্তে কি ফিল্ডিং বদলের সুযোগ পান বোলার? না। তাহলে কি সুইস হিট ন্যায়সংগত হবে? অবশ্য অতি দক্ষ সুইস হিটার কেবল আইন ভেঙেই হওয়া যায় না। যা হোক তবু কিন্তু বামহাতি ব্যাটসম্যানের আচমকা ডানহাতি বনে যাওয়া কিংবা উল্টোটা ঠিক নীতিসম্মত মনে হয় না।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অত্যন্ত সম্মানিত আম্পায়ার সাইমন টওফেল একবার অনুযোগের সুরে বলেছিলেন ব্যাটসম্যান সুইস হিটের ক্ষেত্রে হাত না পায়ের স্টাইলে বদল আনছেন এটা আম্পায়ারের পক্ষে বিচার করা কঠিন। তাৎক্ষণিক বিচারের ভার আম্পায়ারের ওপর ছেড়ে দেওয়াটা তাকে আরও চাপে ফেলাও। এই যুক্তির সঙ্গে আমি একমত নই। স্কোয়ার লেগ আম্পায়ারের কাজই হলো ব্যাটসম্যানের ওপর নজর রাখা। পা এবং হাতের ব্যবহারে সুইস হিটের সময় ব্যাটসম্যান সহজাত স্টাইলে পরিবর্তন আনছেন কি না লেগ আম্পায়ারের পক্ষে তা লক্ষ করা কঠিন কোনো কাজ নয়। সে ক্ষেত্রে সব দিকে বিবেচনা করে বলটা ‘ডেড’ ঘোষণার মাধ্যমে ব্যাটসম্যানকে রান না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ। ব্যাপারটা আইনের মাধ্যমে করতে পারলে সুইস হিটের মাধ্যমে অন্যায় সুবিধা নেওয়ার প্রবণতা কমবে। সুইস হিটের পক্ষে সাফাই গেয়ে ম্যাক্সওয়েল বলেছিলেন, ‘আইনের মধ্যে থেকেই এভাবে অভিযোজনের মাধ্যমে বছরের পর বছর ধরে বিকশিত হয়েছে ব্যাটিং। আমার মনে হয় বোলারদেরই ভেবে থামানোর (সুইস হিট) উপায় বের করা উচিত।’ 

অবশ্যই সুইস হিট থামানোর উপায় বোলারেরই বের করা উচিত। এটা তারা খুব সহজেই করতে পারে বল করার আগে ব্যাটসম্যানের পায়ের দিকে লক্ষ রেখে। যখন সুইস হিটের জন্য ব্যাটসম্যান দাঁড়ানোর ভঙ্গিতে পরিবর্তন আনবে তখন বল না করলেই হয়। কিন্তু এটা করলে ওভার রেট স্লো হবে। খেলার গতি কমবে। যদিও গা ছাড়া স্বভাবের প্রশাসকদের শিক্ষা দেওয়ার জন্য বোলারদের ওটাই করা উচিত। অবশ্য প্রশাসকের যদি উদ্দেশ্য হয় বোলারদের মার খাইয়ে দর্শকদের খুশি করা আর বিনোদন দেওয়া তাহলে কিছু করার নেই। এভাবে চলতে থাকলে বোলাররাও একসময় অনেক হয়েছে বলে আইন নিজের হাতে তুলে নিতে বাধ্য হবে।

আগের অনেক প্রশাসক ব্যাট-বলের ভারসাম্য আনতে আইন বানিয়ে উদাহরণ তৈরি করেছেন। বোলিংয়ের সহজ বিবর্তনের দিকে তাকালেও সেটা বোঝা যাবে। আন্ডার আর্ম থেকে সাইড আর্ম হয়ে আজকের ওভার আর্ম ডেলিভারির কথায় আমি বলতে চাইছি। এই পরিবর্তন বোলারের দিকে ঝুঁকে থাকা গেমে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ভারসাম্য এনেছিল। ক্রিকেটে ব্যাটিংয়ের প্রতি অতিষ্ঠ হয়ে বোলারদের যুদ্ধ ঘোষণারও নজির আছে। বডি লাইন সিরিজ যেমন। তবে বডি লাইন, চাকিং এবং বল টেম্পারিংয়ের বিপক্ষে আইন করে, প্রতিবাদ করে, এখন খেলাটাই পুরো ব্যাটসম্যানদের অনুকূলে চলে গেছে।

গ্লেনকে বলছি, উদ্বিগ্ন হয়ো না, ইতিহাসে বোলারদের ঘুরে দাঁড়ানোর অনেক প্রমাণ আছে। সুইস হিটের উত্তরও তারা একদিন বের করবে। কিন্তু তাতে ক্রিকেটের উন্নতি হবে কি না সেটাই আসল প্রশ্ন। আমার মতে দাঁড়ানোর ভঙ্গিতে বদল না এনে রিভার্স সুইপ এবং রিভাম্প শট খেলা পর্যন্ত ঠিক আছে। কিন্তু সুইস হিটে যা করা হয় সেটা প্রতিদ্বন্দ্বিতার ভারসাম্যই বদলে দেয়, যা অন্যায়।

* ক্রিকইনফোতে প্রকাশিত কলাম থেকে অনূদিত

 ইয়ান চ্যাপেল : অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক