পদ্মায় ফেরি ডুবির ঘটনায় চালকের বুদ্ধিমত্তা ও সাহসী সিদ্ধান্তে রক্ষা পেয়েছে ১৯টি যানবাহন, ৪ শতাধিক মানুষ।
রবিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাণীগঞ্জ নামের একটি ডাম্ব ফেরি ৭টি ট্রাক, ৫টি যাত্রীবোঝাই বাস ও ৭টি ছোট গাড়ি নিয়ে মাওয়ার শিমুলিয়া ঘাট থেকে ছেড়ে যায়। ফেরিটিতে যাত্রী ও কর্মীসহ চার শতাধিক মানুষ ছিল।
রাত এগারোটার দিকে পদ্মা সেতু সংলগ্ন হাজরা চ্যানেলের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর সেতু স্থাপনের কাজে ব্যবহৃত ড্রেজারের পাইপের সঙ্গে প্রবল বেগে ধাক্কা খায় ফেরিটি।
শব্দের উৎস খুঁজতে গিয়ে ফেরিটির চালক ফজলুল করিম দেখতে পান ফেরির তলা ফেটে প্রবল বেগে পানি প্রবেশ করছে। প্রাথমিকভাবে সাব মার্সিবল পাম্প দিয়ে পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।
তিনি জানান, পরিস্থিতি দেখে বুঝতে পারি হাতে সময় কম। যেকোনো সময় ফেরি ডুবে যেতে পারে। এ অবস্থায় ফেরির কর্মচারীদের বালি, কম্বল যা কিছু আছে সেগুলো দিয়ে যতটা সম্ভব পানি প্রবেশ ঠেকাতে নির্দেশ দিই। এরপর দ্রুত গতিতে ঘাটের দিকে রওনা হই।
ফজলুল করিম বলেন, তখনো ঘন কুয়াশা না পড়ায় ২০ মিনিটের মধ্যে বাংলাবাজার ঘাটে পৌঁছে যাই ফেরিটি নিয়ে। ততক্ষণে ফেরির ওপরে পানি উঠতে শুরু করেছে। কিন্তু তিনি কোন যাত্রীকে এ বিষয়ে কিছু জানাননি।
একে একে সব গাড়ি আনলোড করার পর তিনি ঘাটের উল্টো পাশেই ফেরিটি নোঙর করা হয়। ফেরির কর্মী ও পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। মধ্যরাতে সম্পূর্ণ ফেরিটির নব্বই শতাংশ ডুবে যায়।
চালক মো. ফজলুল করিম বলেন, আমার জীবনে এমন অভিজ্ঞতা এটাই প্রথম। আমার মাথাতে এটাই ছিল যে ঘাবড়ানো যাবে না। আমি ধৈর্য হারাই নাই আর জাহাজের কোন যাত্রীকে বুঝতে দিই নাই যে এই ঘটনা ঘটেছে। কেউ বুঝেও নাই, কত বড় বিপদ থেকে আল্লাহয় আমাদেরে বাঁচাইছে।
উল্লেখ্য, ডুবে যাওয়া রাণীগঞ্জ একটি ডাম্ব ফেরি। এই ফেরির নিজস্ব ইঞ্জিন নেই, যানবাহন ওঠানোর পর অন্য একটি জাহাজ ফেরিটিকে ঠেলে নিয়ে যায়।
ব্রিটিশ শাসনামলে এই মডেলের ফেরিগুলোর প্রচলন হয়। যার কিছু এখনো পদ্মা নদীতে মুন্সিগঞ্জের মাওয়া ও শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তের মধ্যে চলাচল করে। রাণীগঞ্জ ফেরিটির বয়স অন্তত ষাট বছর হবে।
ফেরিটি এখন নদীর কিনারে অর্ধনিমজ্জিত অবস্থায় আছে। এটি তুলে আনার জন্য ঘটনাস্থলে উদ্ধারকারী জাহাজ নির্ভীক কাজ করছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।
সূত্র: বিবিসি বাংলা।