ইউক্রেন, ফিনল্যান্ড, বসনিয়া-হার্জেগোভিনা ও কাজাখস্তান। কাতার বিশ্বকাপে ইউরোপীয় বাছাইপর্বে গতবারের চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের ‘ডি’ গ্রুপের প্রতিপক্ষ। আপাত দৃষ্টিতে খুব সহজ প্রতিপক্ষ দুইবারের চ্যাম্পিয়নদের। হোম অ্যান্ড অ্যাওয়েতে ৮টি ম্যাচ। গতবারের তুলনায় অনেক সহজ। ২০১৮’র বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ৬ দলের ৯ গ্রুপের প্রতিযোগিতায় ফ্রান্স ছিল ‘এ’ গ্রুপে। প্রতিপক্ষ ছিল সুইডেন, নেদারল্যান্ডস, বুলগেরিয়া, লুক্সেমবার্গ ও বেলারুশ। কঠিন লড়াইয়ে ১০ ম্যাচে ২৩ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপসেরা হয় ফ্রান্স। ১৯ পয়েন্ট হয় দুই দলের সুইডেন ও নেদারল্যান্ডসের। গোল গড়ে পিছিয়ে থাকায় বাদ পড়ে ২০১০-এর রানার্সআপ, ২০১৪-র সেমিফাইনালিস্ট নেদারল্যান্ডস। এবার নেদারল্যান্ডস খেলবে তুরস্ক, নরওয়ে, মন্টেনেগ্রো, লাটভিয়া ও জিব্রাল্টার সঙ্গে।
সেসব মাথায় রেখেই এবারের ইউরোপিয়ান বাছাইপর্বটা এমন করা হয়েছে, যাতে বড় দলগুলোর সুযোগ থাকে বেশি। গতবার ৫৪ দল ৯ গ্রুপে ভাগ হয়ে খেলে প্রথমপর্ব, যেখান থেকে গ্রুপ চ্যাম্পিয়নরা সরাসরি উঠে যায় রাশিয়া বিশ্বকাপ চূড়ান্তপর্বে। সেরা ৮ গ্রুপ রানার্সআপ ৪টি প্লে-অফ খেলে যোগ দেয় আগের ৯ দলের সঙ্গে।
এবার বাছাইপর্বটা করা হয়েছে এমন ইউরোপের ৫৫ দলকে ভাগ করা হয়েছে ১০ গ্রুপে। ৫টি গ্রুপ ৫ দলের। বাকি ৫ গ্রুপ ৬ দলের। গ্রুপ চ্যাম্পিয়নরা উঠে যাবে কাতার বিশ্বকাপ চূড়ান্তপর্বে। রানার্সআপ ১০ দল এবং নেশন্স লিগ সেরা দুই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন মিলে ১২ দল তিনটি প্লে-অফ চক্রে খেলবে। সেখান থেকে সেরা ৩টি দল যোগ দেবে আগেই চূড়ান্তপর্ব নিশ্চিত করা ১০ দেশের সঙ্গে।
এই মুহূর্তে ফিফা র্যাংকিংয়ের সেরা দল বেলজিয়াম খেলবে ‘ই’ গ্রুপে ওয়েলস, চেক প্রজাতন্ত্র, বেলারুশ ও এস্তোনিয়ার সঙ্গে। গ্রুপ ‘আই’তে হ্যারি কেইনের ইংল্যান্ডের সঙ্গে লড়াই হবে রবার্ট লেভানডোস্কির পোল্যান্ডের। আপাত দৃষ্টিতে সহজ মনে হলেও পোল্যান্ড কঠিন লড়াই উপহার দিতে পারে। ১৯৭৩ সালে পোল্যান্ডের সঙ্গে বাছাই পর্বে ১-১ গোলে ড্র করায় ১৯৭৪ সালে বিশ্বকাপ খেলতে ব্যর্থ হয় ইংল্যান্ড। এবারের গ্রুপে আরও আছে হাঙ্গেরি, ১৯৫৩ সালে যাদেরকে গোনায় না ধরে বড় মাশুল দিয়েছিল ইংল্যান্ড। বাছাইপর্বে ওয়েম্বলিতে ৩-৬ গোলে হেরে গিয়েছিল। ‘ম্যাচ অব দ্য সেঞ্চুরি’ আখ্যা দেওয়া হয় সে ম্যাচকে।
ইংল্যান্ড ম্যানেজার গ্যারেথ সাউথগেটও স্বীকার করেছেন, ‘পোল্যান্ড অনেক ভালো দল। হাঙ্গেরিও সম্প্রতি নেশন্স লিগের শীর্ষ লিগে উঠে এসেছে। গ্রুপ পর্বে আমাদের জন্য ওই দুটি ম্যাচ কঠিন হবে।’ গ্রুপে ইংল্যান্ডের বাকি তিন প্রতিপক্ষ আলবেনিয়া, অ্যান্ডোরা এবং সান মারিনো।
ইউক্রেনের সঙ্গে ফ্রান্সের ম্যাচ দিয়ে ২৪ মার্চ শুরু হবে বাছাইপর্ব। শেষ হবে পরবর্তী মার্চে। রাশিয়া বিশ্বকাপে দলকে চ্যাম্পিয়ন করা কোচ দিদিয়ের দেশম বলেছেন, ‘সফরটা অনেক লম্বা হবে। সূচি পেতে আমাদের আরও কিছু দিন অপেক্ষা করতে হবে। তবে প্রতিপক্ষকে দুর্বল ভেবে খুশি হওয়ার কিছু নেই। বরং সম্মান দেখানো উচিত।’
করোনার কারণে ইউরো-২০২০ এক বছর পিছিয়ে যাওয়ায় ২০২১ সালটা ইউরোপীয় দলগুলোর জন্য কঠিন এক বছর হতে যাচ্ছে। ১১ জুন থেকে ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ খেলার আগেই বিশ^কাপ বাছাইপর্ব শুরু করে দিতে হবে তাদের।