দায়সারা ভাবে মহীয়সী নারী বেগম রোকেয়ার জন্ম ও প্রয়াণ দিবসে উন্মুক্ত হয়েছে তার ভাস্কর্য। বুধবার রংপুর নগরীর শালবন ইন্দ্রার মোড়ে নির্মিত বেগম রোকেয়ার ভাস্কর্যটি উন্মুক্ত করা হয়।
এর ভাস্কর অনীক রেজা জানান, সিটি করপোরেশন থেকে তাকেই ভাস্কর্যটি উন্মুক্ত করার জন্য বলা হয়। এ জন্য ছোট পরিসরে তিনি ভাস্কর্য উন্মুক্ত করার প্রস্তুতি নেন।
এ সময় সরকারি বেগম রোকেয়া কলেজ ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক এবং রংপুরের কয়েকজন সাংস্কৃতিক কর্মী, কবি ও লেখক উপস্থিত ছিলেন।
তবে সিটি করপোরেশনের ব্যয়ে এটি নির্মিত হলেও উদ্বোধনের সময় তাদের কেউ উপস্থিত ছিলেন না। তারা উপস্থিত না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেকে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রংপুর নগরের শালবন ইন্দ্রার মোড়ে বিগত সিটি মেয়র সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টুর আমলে বেগম রোকেয়ার ভাস্কর্য নির্মাণকাজের উদ্বোধন হয়েছিল। এরপর ধীর গতিতে চলা নির্মাণকাজ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। মাটি থেকে শুধু উঁচু বেদি তৈরির পর কয়েকটি ইটের পিলার ছাড়া তখন আর কিছুই ছিল না। অযত্ন-অবহেলায় পড়ে থাকা বেদিটি ভরে ছিল ধুলোবালি আর বিভিন্ন ফেস্টুন পোস্টারে।
তারা জানান, মুখ থুবড়ে পড়ে থাকা বেদিটি দেখে হতাশ হয়েছিলেন স্থানীয় এলাকাবাসীসহ শিক্ষার্থীরা। বিভিন্ন মহল থেকে তখন ওই ভাস্কর্য নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার দাবি জোরালো হয়। অবশেষে বছর তিনেক বন্ধ থাকার পর আবারও শুরু হয় নির্মাণকাজ।
‘আলোকবর্তিকা’ ভাস্কর্যটি ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। এর উচ্চতা মাটি থেকে ২০ ফুট। এর মধ্যে শুধু পাথর-কংক্রিট থেকে বেরিয়ে আসা রোকেয়ার প্রতিকৃতি লম্বায় প্রায় ১২ ফুট। আর বেদির চারদিক জুড়ে রয়েছে ৫০ স্কয়ার ফুট জায়গা।
বুধবার বেগম রোকেয়ায় জন্ম ও প্রয়াণ দিবসে এটি উদ্বোধ করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রংপুরের স্থানীয় প্রশাসন, রংপুর সিটি করপোরেশন মেয়র এমনকি কোনো সরকারি কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন না ।
উপস্থিত না থাকার বিষয়টি জানতে সিটি করপোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফাকে কয়েক বার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।