এশিয়া থেকে আফ্রিকা সর্বত্রই এখন খাবার সতেজ রাখার জন্য ফ্রিজ ব্যবহার করা হয়। শহরাঞ্চলের বাসাবাড়িতে ফ্রিজ ছাড়া প্রতিদিনকার জীবনযাপন কল্পনাই করা যায় না আজকাল। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এই ফ্রিজই পৃথিবীকে উত্তপ্ত রাখার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে। অথচ প্যারিস চুক্তি থেকে শুরু করে জলবায়ু পরিবর্তন রোধে কাজ করা যাবতীয় সংস্থাগুলোই পৃথিবীকে উত্তপ্ত না করে এগিয়ে যাওয়ার পক্ষে কথা বলছেন।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, সামনের দিনগুলোতে বর্তমান মহামারী প্রশ্নে ফ্রিজ আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ভ্যাকসিন যখন বিতরণ করা শুরু হবে তখন স্বাভাবিক নিয়মেই তা সরবরাহের জন্য অনেক কোল্ড স্টোরেজের দরকার হবে। দেশে দেশে টিকা সংরক্ষণের জন্য বিশাল সব ফ্রিজ তৈরি করা হবে। যেহেতু এই টিকায় মানুষের জীবন বাঁচবে তাই পৃথিবী যতই উত্তপ্ত হোক, ফ্রিজ বসাতে কার্পণ্য করবে না মানুষ।
বৈশ্বিক কার্বন নির্গমনের ১০ শতাংশই আসে ফ্রিজ থেকে। অ্যাভিয়েশন ও জাহাজ শিল্প থেকে যে পরিমাণ কার্বন নির্গমন হয় তা থেকেও বেশি নির্গমন হয় ফ্রিজ থেকে। পৃথিবী যত উত্তপ্ত হচ্ছে ততই ফ্রিজ ও বাসাবাড়ি ঠাণ্ডা রাখার যন্ত্রের ব্যবহার বাড়ছে। বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বের অধিকাংশ ফ্রিজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো চাহিদার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে জোগান দিতে পারছে না। কারণ প্রতিদিনই ফ্রিজ-এসির চাহিদা বাড়ছে। গত তিন দশকে বিশ্বের সরকারগুলো জলবায়ু পরিবর্তন রোধে কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়নি। বর্তমান মহামারী বাস্তবতাতেও যদি সরকারগুলোর চোখ না খোলে তাহলে আরও বড় মহামারী নিকটেই মানুষকে আক্রান্ত করবে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। এখনই ফ্রিজ-এসির বদলে প্রাকৃতিক পন্থা গ্রহণ করে আন্তর্জাতিক জলবায়ু লক্ষ্যমাত্রা পূরণের সময়।
জলবায়ু পরিবর্তন রোধে পৃথিবীর ভোক্তা শ্রেণিরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ভোক্তারা যদি ফ্রিজ-এসির ব্যবহার কমিয়ে প্রাকৃতিক বন্দোবস্তে ফিরতে শুরু করে, তাহলে কার্বন নির্গমনের হার কমে আসবে।
বাজারে যেসব ফ্রিজ আছে তার মধ্যে ক্লোরোফ্লুরোকার্বন (সিএফসি) গ্যাসের ব্যবহার করা হয়। অথচ ১৯৮৭ সালে মন্ট্রিল প্রটোকলে স্বাক্ষর করা দুই শতাধিক দেশ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, পরিবেশের ক্ষতির জন্য দায়ী সিএফসি গ্যাসের উৎপাদন কমানো হবে। কিন্তু ২০২০ সালে এসে দেখা যাচ্ছে, সিএফসি গ্যাসের উৎপাদন কমার বদলে বেড়েছে বহুগুণ বেশি।