হেফাজতে ইসলামসহ মৌলবাদী, সাম্প্রদায়িক শক্তিকে সম্মিলিতভাবে চট্টগ্রাম থেকে বিতাড়িত করার ডাক দিয়েছে চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগ। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙচুরের প্রতিবাদে গতকাল বুধবার বিকেলে নগরীর আন্দরকিল্লা মোড়ে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এ ঘোষণা দেন আওয়ামী লীগ নেতারা।
সমাবেশে চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশ যখন উন্নয়নের কাক্সিক্ষত মাইলস্টোন স্পর্শ করতে যাচ্ছে ঠিক তখনই পাকিস্তানি প্রেতাত্মা বিএনপি-জামায়াতের মদদপুষ্ট হেফাজতে ইসলামের নেতা মামুনুল হক জাতির জনকের ভাস্কর্য নিয়ে ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য দিয়ে বিভ্রান্তির অপরাজনীতি চালিয়ে যাচ্ছে। ইসলামের ফতোয়া দিয়ে দেশে অপতৎপরতা সৃষ্টি করছে। তাদের ইন্ধনেই কুষ্টিয়ায় জাতির জনকের ভাস্কর্য ভাঙচুর করা হয়েছে। ধর্মপ্রাণ মানুষকে ধর্মের দোহাই দিয়ে বিভ্রান্ত করা হয় তাহলে আওয়ামী লীগের ঐক্যবদ্ধ শক্তিতে হেফাজতে ইসলাম ও তাদের দোসরদের চট্টগ্রাম থেকে বিতাড়িত করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ প্রতিঘাত সইতে সইতে একটি অর্জন ও সাফল্যের হীরকখ-। মুজিব শতবর্ষে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনা স্বাধীনতার বিরুদ্ধে একটি বড় আঘাত। মুজিব শতবর্ষে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনা স্বাধীনতাবিরোধীদের নীলনকশা। তাই আবার মুক্তিযুদ্ধের হাতিয়ার জেগে উঠুক।’
সভায় চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘একাত্তরে যারা গণহত্যা ও নারী ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত ছিল তারা এ স্বাধীন বাংলাদেশে আবার আঘাত হানতে চায়। তবে মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের মাস এ ডিসেম্বরে ওই পরাজিত শক্তিকে পরাহত করার হিম্মত আমাদের আছে। এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন মানুষকে সচেতন করা। এ সচেতনতাই হচ্ছে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রকে রক্ষা করার কবচ।’
নগর আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ফারুকের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি নঈম উদ্দিন চৌধুরী, অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল, এম জহিরুল আলম দোভাষ, আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিক আদনান, চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক চন্দন ধর, বন ও পরিবেশ সম্পাদক মশিউর রহমান চৌধুরী প্রমুখ। সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি আন্দরকিল্লা চত্বর থেকে মোমিন রোড, চেরাগী পাহাড় মোড়, জামালখান মোড় হয়ে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে গিয়ে শেষ হয়।