প্রোস্টেট গ্রন্থির বৃদ্ধি

প্রোস্টেট মানবদেহের ছোট গ্রন্থি, যা পুরুষদের মূত্রথলির ঠিক নিচে থাকে। প্রোস্টেট ঘিরে রাখে প্রস্রাবের পথ বা মূত্রনালিকে। সাধারণত এটির আকৃতি প্রায় একটি আখরোটের মতো। সব পুরুষেরই প্রোস্টেট থাকে, তবে মধ্য বয়সে এটি সাধারণত বড় হতে শুরু করে। কখনো কখনো বয়সের সঙ্গে প্রোস্টেট অতিরিক্ত বড় হতে পারে এবং এটা প্রস্রাবের পথকে বাধা দেয়। প্রোস্টেট গ্রন্থি স্বাভাবিকের চেয়ে বড় হওয়াকে বলে ‘হাইপারট্রফিক’ এবং এই অবস্থাকে বলে বিনাইল  প্রোস্টেটিক হাইপারট্রফি (বিপিএইচ)। তবে প্রোস্টেট বড় হওয়া মানেই প্রোস্টেট ক্যানসার নয়। এটি পরে ক্যানসারে রূপান্তরিত হতে পারে বা ক্যানসারের সম্ভাবনাকে বাড়াতে পারে।

জটিলতা

প্রোস্টেট গ্রন্থির বৃদ্ধির চিকিৎসা না করালে মারাত্মক জটিলতা দেখা দিতে পারে। এই গ্রন্থি বড় থাকলে তা মূত্রথলি থেকে প্রস্রাব বের হতে বাধা দেয়। ফলে মূত্রথলিতে বাড়তি চাপ পড়ে। এ চাপ প্রস্রাবকে মূত্রনালির মধ্য দিয়ে পেছন দিকে ও কিডনিতে ঠেলে দেয়। এতে করে সেই মূত্রনালির ও কিডনি বড় হয়ে যায়। একসময় কিডনি তার কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলে। মূত্রথলির দেয়াল দুর্বল হয়ে বারবার ইনফেকশন বা সংক্রমণ হয়, যা কিডনিতে ছড়িয়ে তা বিকল করে দিতে পারে।

লক্ষণ ও উপসর্গ

           প্রোস্টেটের বৃদ্ধির ফলে পুরুষদের মূত্রত্যাগে সমস্যা দেখা দেয়, কারণ মূত্রনালি সরু হয়ে যায়।

           বারবার মূত্রত্যাগ, মূত্রের বেগ ধরে রাখতে না পারা। বিশেষ করে রাতের বেলায়।

           অসম্পূর্ণ মূত্রত্যাগের অনুভূতি হওয়া।

           প্রস্রাবের ধারা আটকে যাওয়া।

   প্রস্রাব করার সময় ব্যথা হওয়া।

কারণ

প্রোস্টেট গ্রন্থির বৃদ্ধি হওয়ার কারণ মূলত বার্ধক্য। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে টেস্টিকুলার কোষ এবং হরমোনগুলোর পরিবর্তনের ফলে প্রোস্টেট গ্রন্থি বড় হয়।

রোগ নির্ণয়

আল্ট্রাসনোগ্রাম করে রোগ নির্ণয় করা হয়। এ ছাড়া এমআরআই, সিটি স্ক্যান প্রভৃতি পরীক্ষা করা হয় সমস্যা নিশ্চিত করার জন্য। চিকিৎসা প্রোস্টেট গ্রন্থি ছোট করার জন্য ওষুধ দেওয়া হয়। ওষুধ সেবনে প্রস্রাবের সমস্যা কমে যায়। আর এতেও ভালো না হলে অপারেশন করতে হয়। কখনো কখনো প্রোস্টেটের একটি অংশ বাদ দিয়ে দিতে হয়। তবে অপরেশনের পরও পুনরায় এ গ্রন্থি বড় হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই নিয়মিত ওষুধ সেবন করতে হয়। তবে কোনো ওষুধই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া গ্রহণ করা যাবে না। প্রোস্টেট গ্রন্থির বৃদ্ধিজনিত কারণে প্রস্রাবের যে অসুবিধা হয় তা থেকে বাঁচতে কিছু নিয়ম মানা যায়। যেমন : রাতে ঘুমানোর আগে বেশি পানি পান না করা। চা কফি কম পান করা। অ্যালকোহল গ্রহণ থেকে বিরত থাকা প্রভৃতি।