ভ্যাটের হার কমানোর দাবি ব্যবসায়ীদের

ভ্যাটের (মূল্য সংযোজন কর) হারে কয়েকটি স্তর করা হলেও এখনো সর্বোচ্চ হার ১৫ শতাংশ। পৃথিবীর অন্যান্য দেশের তুলনায় এই হার বেশি বলে দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন ব্যবসায়ীরা। গতকাল জাতীয় ভ্যাট দিবসের অনুষ্ঠানেও ইস্যুটি আলোচনায় এসেছে। একই সঙ্গে ভ্যাট প্রদানের প্রক্রিয়া সহজ করা তথা আন্তর্জাতিক মানদন্ডে উন্নীত করা ও অটোমেশনের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।

ব্যবসায়ীদের দাবি, ভ্যাটের আওতা বাড়ানোর পাশাপাশি ১৫ শতাংশ হার থেকে কমানো হোক। ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম বলেন, আওতা বাড়লে ট্যারিফ (ভ্যাটের হারকে ইঙ্গিত করে) কমিয়ে আনতে হবে। অর্থমন্ত্রী এ বিষয়ে আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন। আশা করছি এনবিআর (জাতীয় রাজস্ব বোর্ড) কমিয়ে আনবে। একই ইস্যুতে শীর্ষ ভ্যাট প্রদানকারী হিসেবে সম্মাননা প্রাপ্ত বার্জার পেইন্ট বাংলাদেশ লিমিটেডের প্রধান ও ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বারের প্রেসিডেন্ট (এফআইসিসিআই) রূপালী হক চৌধুরীও বলেন, করের পরিধি বাড়বে এবং হার কমবে বলে আশা করছি। আমরা কর দিচ্ছি। এই প্রক্রিয়া সহজ করার মাধ্যমে আপনারা (এনবিআর) আমাদের সাহায্য করুন।

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় রাজস্ব ভবনে ছোট পরিসরে ভ্যাট দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিমের সভাপতিত্বে এতে ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও এনবিআর কর্মকর্তারা তাদের মতামত তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে শীর্ষ ৯ ভ্যাট পরিশোধকারী প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা জানানো হয়।

এনবিআর চেয়ারম্যান করদাতাদের আস্থা তৈরির লক্ষ্যে কর প্রদানপ্রক্রিয়া সহজ করতে এনবিআর কাজ করছে উল্লেখ করে অটোমেশনে গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, অটোমেশনের মাধ্যমে সঠিক রাজস্ব আদায় করতে পারি। এ জন্য অনেকগুলো কাজ করছি। আরও করা হবে। এ ছাড়া রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, করোনার কারণে অনেক খাতের আয় একেবারেই কমে গেছে। নইলে আরও ভালো রাজস্ব আদায় হতো। এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন এনবিআর সদস্য সৈয়দ গোলাম কিবরীয়া, মাসুদ সাদিক, আলমগীর হোসেন প্রমুখ।

৯ প্রতিষ্ঠান পেল শীর্ষ ভ্যাট প্রদানকারীর সম্মাননা : জাতীয় পর্যায়ে ৯টি শীর্ষ ভ্যাট প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা জানিয়েছে এনবিআর। সম্মাননাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান হলো পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালস, বার্জার পেইন্টস, কেয়ার ইলেকট্র্রনিকস, হ্যামকো করপোরেশন, সিমেন্স বাংলাদেশ, ইউনিমার্ট, সামিট কমিউনিকেশন্স, কাতার এয়ারওয়েজ ও চিটাগাং ওয়্যারহাউজেস।