বিশ্বজুড়ে আবারও ভয়ংকর হতে শুরু করছে মহামারী করোনাভাইরাস। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে এ ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে সাত কোটি সাত লাখ। এ মহামারীতে আক্রান্ত হয়ে বিশে^ মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১৫ লাখ ৯০ হাজার। বিশে^র বিভিন্ন দেশে শুরু হওয়া করোনার দ্বিতীয় ঢেউ প্রবল হওয়ায় এখন দিনে গড়ে ৬ লাখের বেশি করোনা রোগী শনাক্ত হচ্ছে। আর মৃত্যু হচ্ছে ১০ হাজারের মতো মানুষের। গতকালের আগে থেকে টানা তিন দিন ১২ হাজারের বেশি মৃত্যু দেখল বিশ^।
এবারের ঢেউয়ের বেশির ভাগই যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র আর ইউরোপের ওপর দিয়ে। তবে তুলনামূলক খারাপ অবস্থা ইউরোপেরই বেশি; বিশেষ করে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্যের অবস্থা খুবই নাজুক। এর মধ্যে আসছে বড়দিন। এ অবস্থায় করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে ফ্রান্সে নতুন করে আবার রাতে কারফিউ জারি হচ্ছে। বিবিসি অনলাইনের এক প্রধানমন্ত্রী জিন ক্যাসেক্স বলেছেন, অক্টোবরের শেষ দিকে লকডাউন আরোপের পর সরকার যেভাবে আশা করেছিল, সংক্রমণের হার তত দ্রুত কমছে না। পরিকল্পনামাফিক বাড়িতে থাকার আদেশ ১৫ ডিসেম্বর থেকে তুলে নেওয়া হবে। তবে রাত ৮টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত কারফিউ শুরু হবে। নতুন বছরের প্রথম দিন উদযাপন উপলক্ষেও এ বিধিনিষেধ জারি থাকবে। ওই দিন রাতে জমায়েত নিষিদ্ধ থাকবে।
সরকারের শর্ত হচ্ছে, প্রতিদিন করোনা শনাক্ত পাঁচ হাজারের কম হলে বিধিনিষেধ শিথিল করা হবে। তবে এখনো প্রতিদিন ১০ হাজারের ওপরে করোনা শনাক্ত হচ্ছে।
ক্যাসেক্স বলেন, আমরা এখনো করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের শেষ দেখিনি। ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল, তত দূর যেতে পারিনি। আমাদের প্রতিরক্ষা এখন শিথিল করতে পারি না। আমাদের লক্ষ্য ঠিক রাখতে হবে। আগামী কয়েক সপ্তাহ আরও সতর্ক থেকে পথ খুঁজতে হবে।
জাদুঘর, সিনেমা, থিয়েটার ও খেলার বিভিন্ন কেন্দ্র মঙ্গলবার খোলার কথা থাকলেও তা আরও তিন সপ্তাহ বন্ধ রাখতে হচ্ছে। ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত রাত্রিকালীন কারফিউ চলবে। ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত রেস্তোরাঁ ও পানশালাগুলো বন্ধ থাকবে।
এদিকে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের সংখ্যা ও প্রাণহানির পরিসংখ্যান রাখা ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্যানুযায়ী, শুক্রবার পর্যন্ত বিশে^ করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ৭ কোটি ৭ লাখ ১১ হাজার ৩৬৮ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ১৫ লাখ ৮৮ হাজার ২৪৭ জনের। আর সুস্থ হয়েছে ৪ কোটি ৯১ লাখ ৩৯ হাজার ৫৫৮ জন।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী করোনায় এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ও মৃত্যু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। তালিকায় শীর্ষে থাকা দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনায় সংক্রমিত হয়েছে ১ কোটি ৬০ লাখ ৩৯ হাজার ৩৯৩ জন। মৃত্যু হয়েছে ২ লাখ ৯৯ হাজার ৬৯২ জনের। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ভারতে এখন পর্যন্ত সংক্রমিত হয়েছে ৯৭ লাখ ৯৬ হাজার ৯৯২ জন এবং মারা গেছে ১ লাখ ৪২ হাজার ২২২ জন।
তৃতীয় অবস্থানে থাকা লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিলে এখন পর্যন্ত ৬৭ লাখ ৮৩ হাজারের বেশি মানুষ সংক্রমিত হয়েছে। মৃত্যু হয়েছে ১ লাখ ৭৯ হাজার ৮০০ জনের। চতুর্থ অবস্থানে থাকা রাশিয়ায় করোনায় সংক্রমণের সংখ্যা ২৫ লাখ ৬৯ হাজার ১২৬ জন। আর মৃত্যু হয়েছে ৪৫ হাজার ২৮০ জনের। পঞ্চম স্থানে থাকা ফ্রান্সে এখন পর্যন্ত করোনায় সংক্রমিত হয়েছে ২৩ লাখ ৩৭ হাজার ৯৯৬ জন। এর মধ্যে মারা গেছে ৫৬ হাজার ৯৪০ জন।
গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান থেকে করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরু হয়। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশসহ বিশে^র ২১৮টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে কভিড-১৯।