দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের নতুন রোগী শনাক্ত ও মৃত্যু অব্যাহত রয়েছে। ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে শনাক্ত প্রায় অপরিবর্তিত থাকলেও মৃত্যু কমেছে। প্রায় তিন সপ্তাহ পর দৈনিক মৃত্যু ২০-এর নিচে নেমেছে। গতকাল শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ১৯ জন করোনা রোগীর মৃত্যু হয়েছে, যা গত ২১ দিনের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে সর্বশেষ গত ২০ নভেম্বর ২৪ ঘণ্টায় ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এ নিয়ে দেশে করোনায় সর্বমোট মৃত্যু ৭ হাজার থেকে মাত্র ১৪ জন কম। বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ১ হাজার ৮৮৪ জন নতুন করোনা রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। এদিন ১৬ হাজারের বেশি পরীক্ষায় প্রায় সাড়ে ১১ শতাংশ হারে রোগী শনাক্ত হয়।
গতকাল ছিল দেশে প্রথম করোনা শনাক্তের পর ২৭৯তম দিন। অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সারা দেশে ১৪০টি পরীক্ষাগারে করোনার নমুনা পরীক্ষা চলমান রয়েছে। এর মধ্যে আরটি-পিসিআর ১১২, জিন-এক্সপার্ট ১৮ ও র্যাপিড অ্যান্টিজেন ১০টি। এসব পরীক্ষাগারে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে শুক্রবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত) ১৬ হাজার ৬৪৪টি নমুনা সংগৃহীত হয়। পরীক্ষা করা হয় ১৬ হাজার ৩২৩টির। এর মধ্যে জিন-এক্সপার্ট ৬৮ ও অ্যান্টিজেন পরীক্ষা হয়েছে ৬১টি। বাকিগুলো হয়েছে আরটি-পিসিআর পরীক্ষা। এসব পরীক্ষায় ১ হাজার ৮৮৪ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়। শনাক্তের হার ছিল ১১ দশমিক ৫৪ শতাংশ। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৯ রোগীর মৃত্যু হয়েছে এবং বাসা ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও ৩ হাজার ৮৬৬ রোগী সুস্থ হয়েছে।
এতে বলা হয়, দেশে গতকাল পর্যন্ত অ্যান্টিজেন টেস্টসহ ২৯ লাখ ৪৪ হাজার ২৫২টি নমুনা পরীক্ষায় ৪ লাখ ৮৭ হাজার ৮৪৯ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে মারা গেছে ৬ হাজার ৯৮৬ এবং সুস্থ হয়েছে ৪ লাখ ১৪ হাজার ৩১৮ জন। বাকিরা চিকিৎসাধীন। এ পর্যন্ত যত পরীক্ষা হয়েছে তার বিপরীতে রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৬ দশমিক ৫৭ শতাংশ। শনাক্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত মৃত্যুহার ১ দশমিক ৪৩ ও সুস্থতার হার ৮৪ দশমিক ৯৩ শতাংশ।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে পুরুষ ১৩ ও নারী ৬ জন। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১২, চট্টগ্রামে ৪ এবং রাজশাহী, বরিশাল ও রংপুরে ১ জন করে মারা গেছে। মৃতদের মধ্যে ষাটোর্ধ্ব ১১, ৫১-৬০ বছরের ২, ৪১-৫০ বছরের ৪, ৩১-৪০ বছরের ১ এবং ২১-৩০ বছরের ছিল ১ জন। ১৯ জনের সবাই হাসপাতালে মারা গেছে।
অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে করোনায় এ পর্যন্ত মৃতদের মধ্যে পুরুষ ৫ হাজার ৩৩৯ ও নারী ১ হাজার ৬৪৭ জন। শতকরা হিসাবে পুরুষ ৭৬ দশমিক ৪২ ও নারী ২৩ দশমিক ৫৮ ভাগ। বিভাগগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৭৯৫ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এছাড়া চট্টগ্রামে ১ হাজার ৩০১, খুলনায় ৫০৫, রাজশাহীতে ৪১৭, রংপুরে ৩১৩, সিলেটে ২৭৩, বরিশালে ২৩০ এবং সর্বনিম্ন ১৫২ জন মারা গেছে ময়মনসিংহ বিভাগে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৯৭ রোগীকে আইসোলেশনে ও ৮৪৫ জনকে কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আইসোলেশনে ১২ হাজার ৬১০ ও কোয়ারেন্টাইনে আছে ৪১ হাজার ৬৫৪ জন। সারা দেশে কভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলোতে ১০ হাজার ৪৫২টি সাধারণ বেডের মধ্যে গতকাল রোগী ভর্তি ছিল ২ হাজার ৯২৪টিতে। বাকিগুলো খালি ছিল। এছাড়া ৫৬৭টি আইসিইউর মধ্যে রোগী ভর্তি ছিল ৩৩৫টিতে।