মোহাম্মদ নাঈমের দাপুটে সেঞ্চুরিতে ১৯৪ রানের লক্ষ্যটা প্রায় ছুঁয়ে ফেলেছিল বেক্সিমকো ঢাকা। ভাগ্য অবশ্য এদিন বরিশালের পক্ষে ছিল বলা চলে। উত্তেজনা ছড়ানো ম্যাচে ২ রানের রোমাঞ্চকর জয় পেয়েছে দলটি।
যে জয়ে চতুর্থ দল হিসেবে প্লে-অফ নিশ্চিত হয়েছে বরিশালের। পাঁচ দলের আসরে প্রথম পর্ব থেকে ছিটকে গেছে মিনিস্টার গ্রুপ রাজশাহী।
মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাট করতে নেমেছিল বরিশাল। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৩ উইকেটে ১৯৩ রান করে দলটি। জবাবে ৬ উইকেটে ১৯১ রানে থেমেছে ঢাকার ইনিংস।
রান তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই বিস্ফোরক খেলতে থাকেন নাঈম। টুর্নামেন্টে ছন্দে ছিলেন না। আগের সাত ম্যাচে সর্বোচ্চ ইনিংস ছিল- ৪০। তবে ঢাকা আস্থা হারায়নি ২১ বছর বয়সী ব্যাটারের ওপর। নাঈম এদিন সেই আস্থার প্রতিদান দিলেন সেঞ্চুরিতে। নাজমুল হোসেন শান্ত ও পারভেজ হোসেন ইমনের পর টুর্নামেন্টে তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে করলেন সেঞ্চুরি।
তবে অন্য প্রান্তে নাঈম যোগ্য সহায়তা পেয়েছেন কেবল ইয়াসির আলির কাছ থেকে। পাঁচ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ইয়াসিরও ঝড় তোলেন। নাঈম-ইয়াসিরে বরিশালের বোলাররা ছিল দিশেহারা।
১৮তম ওভারে ম্যাচের বাঁক বদল। নাঈমকে ফিরিয়ে দেন সুমন খান। আর রান আউট হয়ে ফিরে যান ইয়াসির। ১৮.৩ ওভারের মধ্যে ঢাকা যদি ম্যাচটা জিতত তবে বরিশাল ছিটকে জেতে। সেটি না হওয়ায় জয় নিশ্চিত হওয়ার আগেই বরিশালের প্লে-অফ নিশ্চিত হয়ে যায়। ছিটকে যায় রাজশাহী।
নাঈম ৬৪ বলে ৮ চার ও ৭ ছক্কায় ১০৫ রান করেছেন। ইয়াসির ২৮ বলে ১ চার ও ২ ছক্কায় করেন ৪১ রান। বরিশালের পক্ষে সোহরাওয়ার্দী শুভ সর্বাধিক ৩ উইকেট নিয়েছেন। হেরেও ম্যাচসেরা হয়েছেন নাঈম।
এর আগে বরিশালের হয়ে মিরপুরে ঝড় তুলেছিলেন আফিফ হোসেন ও তৌহিদ হৃদয়। আফিফ ২৫ বলে ১ চার ও ৫ ছক্কায় করেন অপরাজিত ৫০ রান। অন্যদিকে ২২ বলে ২ চার ও ৪ ছক্কায় ৫১ রান করেন তৌহিদ হৃদয়। শেষ ৬ ওভারে ৮৯ রান যোগ করেছেন এই দুজন।
ওপেনার সাইফ হাসান পেয়েছেন ফিফটি। ৪৩ বলে ৮ চারে ৫০ রানের ইনিংস খেলেছেন তিনি। এ ছাড়া অধিনায়ক তামিম ইকবাল ১৭ বলে ১৯, পারভেজ হোসেন ইমন ১৩ বলে ১৩ রান করেন।
ঢাকার পক্ষে একটি করে উইকেট নিয়েছেন রুবেল হোসেন, আল-আমিন ও মুক্তার আলি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ফরচুন বরিশাল
১৯৩/৩ (২০ ওভার) (সাইফ ৫০, আফিফ ৫০*, তৌহিদ ৫১*; রুবেল ১/২৮)।
বেক্সিমকো ঢাকা
১৯১/৬ (২০ ওভার, লক্ষ্য ১৯৪) (মোহাম্মদ নাঈম ১০৫, ইয়াসির আলি ৪১; সোহরাওয়ার্দী ৩/১৩)
ফল: বরিশাল ২ রানে জয়ী
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: মোহাম্মদ নাঈম।