যুক্তরাষ্ট্রে গত ৩ নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের চেয়ে বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন। তার জয়ের বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ার পরও নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ আনেন বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। শুধু অভিযোগ এনেই ক্ষান্ত হননি তিনি। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে মামলাও করেছেন। তবে মামলা করেও শেষ রক্ষা হয়নি ট্রাম্পের। চার অঙ্গরাজ্যে নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করার জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রচারণা শিবিরের করা মামলা খারিজ করে দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। চলতি সপ্তাহে টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে ওই মামলাটি করা হয়।
সেখানে বলা হয়েছেÑ জর্জিয়া, মিশিগান, পেনসিলভানিয়া এবং উইসকনসিনে নির্বাচনের ফলাফল বৈধ নয়। ওই চারটি অঙ্গরাজ্যেই জো বাইডেন বিজয়ী হয়েছেন। এই মামলায় ১৯ অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল এবং কংগ্রেসের ১২৭ জন রিপাবলিকান সদস্যের সমর্থন ছিল। কিন্তু গত শুক্রবার সুপ্রিম কোর্ট মামলা খারিজ করার কারণ হিসেবে বলেছে, এই মামলা করার ক্ষেত্রে টেক্সাসের কোনো আইনি সক্ষমতা নেই। আদালত বলছে, যখন অন্য একটি অঙ্গরাজ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে তখন টেক্সাসের ওই নির্বাচনে কোনো বিচারিক আগ্রহ থাকতে পারে না। এ ছাড়া আদালতের পক্ষ থেকে ট্রাম্পকে নির্বাচনের ফলাফল পাল্টানোর পদক্ষেপ থামাতে বলা হয়েছে।
এই আদেশ ট্রাম্পের জন্য আরও একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, এর আগে তিনি কোনো তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই বলেছিলেন নভেম্বরের নির্বাচনের ফলাফল সুপ্রিম কোর্টের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। তার আগে পেনসিলভানিয়াতে জো বাইডেনের জয়ের বিরুদ্ধে করা আরও একটি মামলা খারিজ করেছে আদালত।
নির্বাচনের পর থেকেই ট্রাম্প এবং তার সমর্থকরা নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তুলে কয়েক ডজন মামলা করেছেন। কিন্তু কোনো মামলাতেই জো বাইডেনের জয়কে উল্টে দেওয়া সম্ভব হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের ইলেকটোরাল কলেজ ভোটে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন ট্রাম্পের চেয়ে অনেক বেশি ব্যবধানে এগিয়ে আছেন। জো বাইডেন মোট ইলেকটোরাল ভোট পেয়েছেন ৩০৬টি। অপরদিকে ট্রাম্প পেয়েছেন মাত্র ২৩২টি। দেশব্যাপী ট্রাম্পের চেয়ে জনগণের ভোটেও বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন বাইডেন। তিনি ট্রাম্পের চেয়ে ৭০ লাখ ভোট বেশি পেয়েছেন। আর কয়েক দিন পরেই যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে কে জয়ী হয়েছেন তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে। আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর নির্বাচনী ফল পাল্টাতে ট্রাম্পের আর কিছু করার থাকবে না।