করোনা পরিস্থিতির মধ্যে বায়ো-বাবলে ঢিমেতালে শুরু হয়েছিল বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপ। ফাইনালেও উত্তেজনার তেমন দেখা মেলেনি। শুরুতে মনে হয়েছিল বঙ্গবন্ধু কাপ টি-টোয়েন্টি আসরের ভাগ্যেও তেমন কিছু লেখা আছে কি না। লো স্কোরিং ম্যাচ, নামীদের ব্যর্থতা, হয়তো কমিটমেন্টের অভাব কিংবা এতদিন পর মাঠে ফিরে খেলোয়াড়রা ঠিক নিজেদের পুরোটা দিতে পারছিলেন না। কিন্তু ৫ দলের এই টি-টোয়েন্টি আসর শেষটায় এসে বেশ জমে উঠেছে। রোমাঞ্চ আর উত্তেজনা আলো ছড়াচ্ছে। সেই উত্তেজনার পারদ আজ আরও ওপরে উঠে যেতে পারে।
মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ মহাতারকাদের জোর লড়াই। বাঁচা-মরার লড়াই। দুপুর সাড়ে ১২টায় এলিমিনেটরে বেক্সিমকো ঢাকা খেলবে একরাত আগেই বিপুল উত্তেজনা ছড়িয়ে শেষ চারে উঠে আসা ফরচুন বরিশালের বিপক্ষে। এই ম্যাচে হেরে যাওয়া দলের টুর্নামেন্ট শেষ। আর জেতা দল খেলবে প্লে-অফের প্রথম কোয়ালিফায়ারে পরাজিত দলের সঙ্গে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার। বিকেল সাড়ে ৫টায় প্রথম প্রথম কোয়ালিফায়ারে শ্রেষ্ঠত্ব দেখিয়ে আসা গাজী গ্রুপ চট্টগ্রামের প্রতিপক্ষ মাশরাফী, সাকিব, মাহমুদউল্লাহদের সবচেয়ে আলো ঝলমলে দল জেমকন খুলনা। এই ম্যাচের জয়ী দল সরাসরি ১৮ তারিখের ফাইনালে খেলবে।
চট্টগ্রামের গাজীরা তুখোড় পারফরম্যান্সে এই পর্যন্ত উঠে এসেছে। ৮ ম্যাচের ৭টিতেই জয় তাদের। ধারেকাছে নেই জেমকন খুলনা। ৮ ম্যাচের অর্ধেকটাতে জয়, অর্ধেকটাতে হার। খুব আলো ছড়ানো পারফরম্যান্স নেই। এমনকি মাশরাফীকে দলে টানার পরও। কিন্তু যেখানে মাশরাফী, সাকিব, মাহমুদউল্লাহদের মতো কিংবদন্তি সেখানে চট্টগ্রামের বিপক্ষে তারা যেকোনো কিছু ঘটিয়ে ফেললেও বিস্মিত হওয়ার কিছু থাকবে না। কিন্তু লিটন দাস, সৌম্য সরকার, মোহাম্মদ মিঠুন, মোসাদ্দেক হোসেন কিংবা মোস্তাফিজুর রহমান, যুব বিশ্বকাপজয়ী ফাস্ট বোলার শরীফুল ইসলাম, স্পিনার তাইজুল ইসলামদের মতো খেলোয়াড়দের বিপক্ষে লড়াইটা কোনোভাবে সহজ হওয়ার সুযোগ নেই।
ওদিকে খুলনায় তো ইমরুল কায়েসের মতো ৩৩ বছর বয়সী টপ অর্ডার অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান আছেন। খুব বড় রান হচ্ছে না। কিন্তু দলের প্রয়োজনে বেশ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। পারিবারিক কারণ ও টুর্নামেন্টের নিয়মের কারণে শেষ ম্যাচটা খেলতে পারেননি। চট্টগ্রামের বিপক্ষে ‘ডু অর ডাই’ ম্যাচের আগে ইমরুল আত্মবিশ্বাসকে সঙ্গী করেই চ্যালেঞ্জের মতো করে জানালেন, ‘মানসিকভাবে সবাই খুব ভালো আছি। কারণ সেমিফাইনাল খেলছি। আমরা দু’নম্বর দল হয়েছি। আমরা দুটো সুযোগ পাচ্ছি।’ পেছনের কথা টেনে বললেন, ‘হ্যাঁ, গাজী আমাদেরকে দুইবার হারিয়েছে অবশ্যই। তারা আমাদের চেয়ে ভালো ক্রিকেট খেলেছে। কিন্তু ওদের সঙ্গে আমরা যে ভুলগুলো করেছি তা নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। ওই জায়গাগুলোতে যদি আমরা ভুল না করি ইনশাআল্লাহ আমরা আবার ভালোভাবে কামব্যাক করতে পারব।’
সতীর্থদের নিয়ে কাল মিরপুরে বৈঠকে বসেছিলেন সাকিব। সেমির মতো পর্যায়ে এসে প্রথম দলের সঙ্গে নিজেদের এতটা পার্থক্য বুঝি মেনে নিতে পারেননি। অপশনাল প্র্যাকটিসের বদলে দীর্ঘক্ষণ দলকে নিয়ে বৈঠক করে ফিরে গেছেন বাংলাদেশের সেরা অলরাউন্ডার। সঙ্গে মনে করিয়ে দিয়ে গেছেন, যেকোনো মূল্যে সরাসরি ফাইনালে যেতে হবে দলকে।
মিঠুন-সাকিবদের আগে দুপুরে এলিমিনেটরে ঢাকা-বরিশাল মুখোমুখি। একদিন আগেই মাত্র ২ রানে বরিশালের কাছে হেরেছে ঢাকা। সেই আফসোস কোচ খালেদ মাহমুদ সুজনের কণ্ঠে, ‘যদি আর দুইটা রান করতে পারতাম তাহলে হয়তোবা কোয়ালিফায়ারে খেলতাম।’ তবে বিষয়টা মেনে নিয়ে সুজন বললেন আশার কথা, ‘কিন্তু কোয়ালিফায়ারে খেললেও আপনাকে ম্যাচ জিততে হবে, ফাইনালে যেতে হবে। চ্যাম্পিয়ন হতে হলে আবার ম্যাচ জিততে হবে। আমরা একটা বেশি ম্যাচ খেলছি। কিন্তু আমরা যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী কালকে (শনিবার) যে ভুলগুলো করেছি সেই ভুলগুলো যদি আমরা কাটিয়ে উঠতে পারি আমি মনে করি আমরা বেটার সাইড।’
তামিমের করোনা হয়নি
রাতের একটা খবর সুসংবাদ হয়ে এলো ফরচুন বরিশালের জন্য। তারা জানিয়েছে, ‘তামিম ইকবালের কভিড-১৯ টেস্ট নেগেটিভ এসেছে।’ তার মানে বরিশালের অধিনায়ককে আজ এলিমিনেটরে পাওয়া যাচ্ছে।
তামিম অন্যদের সঙ্গে টুর্নামেন্টের শুরু থেকে রাজধানীর একটা হোটেলে জৈবিক পরিবেশেই আছেন। কিন্তু শনিবার রাতে জানা যায় তার মধ্যে করোনার উপসর্গ দেখা যাচ্ছে। ঠাণ্ডা ও দুর্বলতায় ভুগছিলেন। সতর্কতা হিসেবে ৩৩ বছর বয়সী বাংলাদেশের ইতিহাসের সেরা ওপেনার তামিম নিজে থেকেই হোটেলে আইসোলেশনে থাকেন।
তামিম করোনায় আক্রান্ত হলে খবরটা আসলে বাংলাদেশের ক্রিকেটের এবং বিসিবির জন্য ভালো হতো না। কারণ, করোনা পরিস্থিতিতে বিসিবি ৩ দলের ওয়ানডে টুর্নামেন্টের পর এই টি-টোয়েন্টি আসরের লিগ পর্বও খুব সাফল্যের সঙ্গে পার করেছে। জানুয়ারিতে উইন্ডিজের তিন সংস্করণের ক্রিকেট খেলতে আসার কথা। কিন্তু তামিমের সংশয় জাগানো খবরটা প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছিল বিসিবির বায়ো-বাবল পরিবেশকে। তার ওপর একই হোটেলে এই আসরের ৫ দলের সব খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও সংশ্লিষ্টরা থাকেন। তাদের সঙ্গেও তো সংযোগ ঘটেছে তামিমের। কভিড-১৯ ব্যবস্থা পরিচালনা নিয়ে তাই সেই প্রশ্ন এড়িয়ে বড় স্বস্তিতে এই মুহূর্তে বিসিবি।
তামিমের অবর্তমানে শনিবার ঢাকার বিপক্ষে ফিল্ডিংয়ে নেতৃত্ব দেওয়া মেহেদী হাসান মিরাজ গতকাল একটি ভিডিও বার্তায় বলছিলেন, ‘আমাদের জন্য কাল (আজ) খুব গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। আমরা অনেক ভালো প্রস্তুতি নিয়েছি। আর যেহেতু শেষ ম্যাচে (যেভাবে) আমরা জিতেছি তাই আমরা দলের সবাই আত্মবিশ্বাসী আছি। এখন তো খেলা ডু অর ডাই। আমরা জিতলে সেমিফাইনালে খেলব, হারলে বিদায়। তাই আমরা সবাই চ্যালেঞ্জ নিয়েই খেলব।’