সিরাজগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ আদালতের এজলাসে দাঁড়িয়ে বিচারকের সামনেই সোমবার দুপুরে মোক্তার হোসেন (৩৫) নামের এক আসামি বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।
তিনি সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার পাঙ্গাসী ইউনিয়নের মিত্রতেঘরি গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে। তাকে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্ত্রীর দায়ের করা মামলায় দুপুরে তিনি আদালতে হাজিরা দিতে এসেছিলেন। মামলার শুনানি চলাকালে বিচারকের সামনেই এজলাসে দাঁড়িয়ে হঠাৎ করেই তিনি বিষপান করেন। বিচারক তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার নির্দেশ দেন।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ কোর্ট পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ বলেন, আসামি মোক্তার হোসেন হঠাৎ পকেট থেকে কীটনাশক পানে অসুস্থ হয়ে পড়লে বিচারকের নির্দেশে তাকে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ওই আদালতের এপিপি অ্যাডভোকেট আনোয়ার পারভেজ লিমন বলেন, আদালতে স্বেচ্ছায় হাজিরা দিতে এসেছিলেন মোক্তার হোসেন। শুনানি চলাকালে হঠাৎ করে তার হাত থেকে একটি প্লাস্টিকের বোতল পড়ে যায়। বোতল থেকে পানির মতো কীটনাশক মেঝেতে গড়িয়ে পড়ে। আসামি মোক্তার অসুস্থ হয়ে পড়েন। তখন বিচারক আব্দুল্লাহ আল-মামুন তাকে হাসপাতালে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তিনি কীটনাশক পান করেছেন কিনা, সেটা আমাদের চোখে পড়েনি।
আদালতের অপর এপিপি অ্যাডভোকেট কায়সার আহমেদ লিটন বলেন, এর আগের তারিখেও তিনি হাজিরা দিতে এলে বিচারক জামিন বাতিলের আদেশ দেওয়ার পর আসামি আদালত প্রাঙ্গণেই আপত্তিকর আচরণ করেন। পরে আদালত তাকে জামিন দিয়েছিলেন। এবারেও এ ধরনের ঘটনা ঘটান।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. ফয়সাল আহমেদ জানান, মোক্তার হোসেন জমিতে ব্যবহৃত কীটনাশক পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। তাকে পুলিশ পাহারায় এ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে তার অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে।