ধ্রুপদী টিভি শো স্কিপিতে দেখা যায়, অত্যন্ত বুদ্ধিমান ক্যাঙ্গারুর সঙ্গে কথা বলছে এক শিশু। যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ান গবেষকদের মতে, আমরা যেমনটি চিন্তা করে থাকি, এটি এখন আর কোনো কল্পকাহিনী নয়। বিপদে পড়লে নিজ থেকে ক্যাঙ্গারুরা মানুষের কাছে সাহায্য চায় এবং সহায়তায় এগিয়েও আসে। নতুন এ ধারণা এতদিনের গৃহপালিত প্রাণীর আচরণকে চ্যালেঞ্জ করছে বলে খবর দিয়েছে বিবিসি।
গতকাল বুধবার দি ইউনিভার্সিটি অব রোহেম্পটন ইন লন্ডন এবং দি ইউনিভার্সিটি অব সিডনি প্রকাশিত গবেষণায় আরও বলা হয়, মানুষের ভাষা বুঝে নিজ থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম ক্যাঙ্গারু। এটি পূর্ব ধারণার চেয়ে উচ্চতর চিন্তার নির্দেশক। গবেষকরা একটি বক্সে খাবার রেখে বন্দি ক্যাঙ্গারুদের ওপর নজর রাখেন। কিন্তু তারা এটি খুলতে না পেরে মানুষের সাহায্য চায়।
গবেষণার আইরিশ সহ-লেখক ড. আলেকজান্দ্রা গ্রিন বলেন, ‘বক্সটি খুলতে না পেরে হাল ছেড়ে দেয়নি ক্যাঙ্গারুরা। এর পরিবর্তে বেশিরভাগ ক্যাঙ্গারু সংশ্লিষ্ট গবেষকদের দিকে তাকায় এবং তারা বিশেষ অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে নির্দেশ দিলে তারা আবারও বক্সের কাছে ফিরে যায়। মূলত এটি ছিল সাহায্য সংক্রান্ত নির্দেশনা।’ তিনি আরও বলেন, ‘এদের মধ্যে কেউ কেউ এগিয়ে এসে আঁচড়ানো এবং হাই তুলে দৃষ্টি কাড়ার চেষ্টা করে। এরপর তারা বক্সের দিকে ফিরে যায়, যার মাধ্যমে মূলত তারা সেটি খোলার বিষয়ে মানুষের সাহায্য চাইছিল।’
গবেষণার মূল লেখক ড. অ্যালান ম্যাকএলিগোট জানান, মানুষের কাছে এক ধরনের বিশেষ ‘আচরণভঙ্গির’ মাধ্যমে সাহায্য চাওয়ার ঘটনা তারা কেবল গৃহপালিত প্রাণীর মধ্যে হাজার বছর ধরে দেখে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘গবেষণায় ক্যাঙ্গারুর মধ্যে যে ধরনের বৈশিষ্ট্য পাওয়া গেছে, তা সাধারণত আমরা কুকুর, ঘোড়া ও ছাগলের মধ্যে পেয়ে থাকি।’ আলেকজান্দ্রা গ্রিন জানান, গবেষণাটি সৃষ্টি জগতের বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে আন্তঃযোগাযোগের ক্ষেত্রে যথেষ্ট মেধাশক্তিকে প্রকাশ করে।
যদিও গবেষণাটি হয়েছে খুবই ক্ষুদ্র পরিসরে, বিভিন্ন স্থান থেকে আনা ১১টি ক্যাঙ্গারুর ওপর। কিন্তু অ্যালান ম্যাকএলিগোটের মতে, গর্ভধারণ করে এমন প্রাণীদের ওপর এটিই প্রথম গবেষণা। এটি মানুষের সঙ্গে ক্যাঙ্গারুর মতো প্রাণীদের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে ইতিবাচক চিন্তাকে এগিয়ে নেবে। একই সঙ্গে পৃথিবী থেকে প্রাণিকুলের শিক্ষা গ্রহণের বিষয়টি স্পষ্ট করছে।