পুঁজিবাজারের জন্য বিশেষ তহবিল

৭০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে ব্যাংকগুলো

প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের মাধ্যমে পুঁজিবাজারে টানা দরপতন সামাল দিতে চলতি বছর ১০ ফেব্রুয়ারিতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর জন্য বিশেষ তহবিল গঠন করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তহবিলের নীতিমালা অনুযায়ী, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর বিশেষ সুবিধায় প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠনের সুযোগ হয়। তহবিল গঠন সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারির পর ২১টি ব্যাংক বিশেষ তহবিল গঠন করেছে, যার পরিমাণ ২ হাজার ৫০ কোটি টাকা। আর ওই তহবিল থেকে ব্যাংকগুলো বিনিয়োগ করেছে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, করোনার কারণে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি তলানিতে নেমে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ঝুঁকিমুক্ত সরকারি সিকিউরিটিজেই (ট্রেজারি বন্ড ও বিল) সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ করছে। তবে সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ সীমা সংকুচিত হয়ে আসায় বিকল্প বিনিয়োগের অংশ হিসেবে কিছু ব্যাংক পুঁজিবাজারে নিজস্ব পোর্টফোলিওতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। তবে এ ক্ষেত্রে অতিমাত্রায় সতর্কতা অবলম্বন করছে ব্যাংকগুলো। বিনিয়োগের পরিমাণও তুলনামূলক কম।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপন জারির পর প্রায় ১০ মাসে ব্যাংকগুলো বিশেষ তহবিল থেকে ৬৯৭ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। বিশেষ সুবিধায় ৬০টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য তহবিল গঠনের সুযোগ থাকলেও এখন পর্যন্ত মাত্র ২১টি ব্যাংক এ তহবিল গঠন করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, চলতি ফেব্রুয়ারিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রজ্ঞাপন জারির পর গত ১৮ জুন পর্যন্ত ১৪টি ব্যাংক ১ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার তহবিল গঠন করে। পরবর্তী ছয় মাসে আরও সতটি ব্যাংক পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য বিশেষ তহবিল গঠন করে। ফলে গত ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ২১টি ব্যাংক বিশেষ তহবিল গঠন করে, যার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৫০ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংক সহজ শর্তে তহবিল গঠনে ঋণ দেওয়ার সুযোগ দিলেও অধিকাংশ ব্যাংক নিজস্ব উৎস থেকে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য বিশেষ তহবিল গঠন করেছে। এর মধ্যে সোনালী, জনতা, অগ্রণী, ওয়ান, ইউসিবি, এনসিসিবিএল ও মার্কেন্টাইল ব্যাংক প্রতিটি ২০০ কোটি টাকা করে বিশেষ তহবিল গঠন করেছে। এছাড়া এক্সিম ব্যাংক ৮০ কোটি টাকার তহবিল গঠন করেছে। সিটি ব্যাংক পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য ৫০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন করেছে। এর বাইরে রূপালী, ইসলামী, পূবালীসহ আরও ১২টি বাণিজ্যিক ব্যাংক ৫২০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন করেছে। বেশিরভাগ ব্যাংকই নিজস্ব উৎস থেকে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের তহবিল গঠন করেছে।

জানা গেছে, বিশেষ তহবিল থেকে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ করেছে ইউসিবি ও রূপালী ব্যাংক। এ দুটি ব্যাংক বিশেষ তহবিল থেকে প্রায় শতকোটি টাকা করে বিনিয়োগ করেছে। এছাড়া পূবালী ব্যাংক ৭০ কোটি ও জনতা ব্যাংক ৬০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ব্যাংকগুলোর অধিকাংশই বিশেষ তহবিল থেকে নিজস্ব পোর্টফোলিওতে বিনিয়াগ করছে। নীতিমালা অনুযায়ী, বিশেষ তহবিলের ৪০ শতাংশ ব্যাংক তার নিজস্ব পোর্টফোলিওতে বিনিয়োগ করতে পারে।

এদিকে ব্যাংকগুলোর উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ ছাড়াই গত কয়েক মাস ধরে পুঁজিবাজারে চাঙ্গাভাব চলছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ৫১২৩ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। গত লেনদেনও ৮০০ কোটি টাকার বেশি হচ্ছে। ব্যাংকগুলোর বিশেষ তহবিল গঠন ও বিনিয়োগের ধীরগতির মধ্যে কোনো কোনো খাতের শেয়ার অতি মূল্যায়িত হয়ে পড়েছে। অবশ্য ব্যাংক, বস্ত্র, প্রকৌশল, জ্বালানিসহ অধিকাংশ খাত এখনো বিনিয়োগ সীমায় রয়েছে।

তফসিলি ব্যাংকগুলো ট্রেজারি বিল ও বন্ড রেপোর মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সর্বোচ্চ ২০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য বিশেষ তহবিল গঠন করতে পারে। ব্যাংকগুলো চাইলে নিজস্ব উৎস থেকেও এমন তহবিল গঠন করতে পারে। ওই বিশেষ তহবিলের সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ সংশ্লিষ্ট ব্যাংক নিজস্ব পোর্টফোলিওতে ব্যবহার করতে পারবে। পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে গঠন করা বিশেষ তহবিল ২০২৫ সাল পর্যন্ত ব্যবহার করতে পারবে ব্যাংক, যা পুঁজিবাজারে ব্যাংক কোম্পানি আইনের বর্ণিত বিনিয়োগ গণনার বাইরে থাকবে।