হাসপাতালে শয্যা না পেয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধার মারা যাওয়ার অভিযোগ

গাজীপুরে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শয্যা ও চিকিৎসা না পেয়ে এক মুক্তিযোদ্ধা মারা যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক ফকির (৮৫) গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলার খোদাদিয়া গ্রামের বাসিন্দা। এ ঘটনায় জেলার মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।

মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক ফকিরের ছেলে মামুন ফকির জানান, মহান বিজয় দিবসের আগের দিন মঙ্গলবার বেলা সোয়া ১২টার দিকে গুরুতর অসুস্থ তার বাবাকে চিকিৎসার জন্য তার স্বজনেরা গাজীপুরে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। এ সময় সেখানে কোন চিকিৎসক ছিলেন না। একপর্যায়ে তার বাবাকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।

ভর্তির পর হাসপাতালের কেবিনে বা ওয়ার্ডে শয্যা দিতে বললে জরুরি বিভাগ থেকে জানানো হয় হাসপাতালের কোনো শয্যা খালি নেই। মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় দিলে তাকে কর্তব্যরত নার্সরা হাসপাতালের বারান্দায় মেঝেতে একটি চাদর বিছিয়ে দেন। হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত রোগী নিয়ে হাসপাতালের বারান্দায় অবস্থান করার মতো পরিবেশ ও হাসপাতালে চিকিৎসক উপস্থিত না থাকায় হাসপাতাল থেকে তার বাবাকে কাপাসিয়ায় বাড়ি নিয়ে আসা হয়।

চলে আসার আগে হাসপাতাল থেকে জানানো হয়, বিজয় দিবসের দিনও তাকে চিকিৎসা দেওয়ার মতো ‘বড় ডাক্তার’ হাসপাতালে থাকবে না।

মামুন ফকির আরও বলেনন, শুক্রবার সকাল ১০টায় তার বাবা বাড়িতে মারা গেছেন। তাজউদ্দীন হাসপাতালে চিকিৎসা না পেয়ে আমরা আব্বাকে বাড়িতে নিয়ে আসি। বৃহস্পতিবার বাবাকে পপুলার হাসপাতালে নেওয়ার কথা ছিল। তার আগেই মৃত্যুবরণ করেন।

তিনি জানান, তার বাবা একজন হৃদ্‌রোগে রোগী ছিলেন। কাপাসিয়া থেকে তার বাবাকে মঙ্গলবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ওই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর তার বাবাকে চিকিৎসা দেওয়ার মতো চিকিৎসক ছিলেন না। তার বাবা যে মুক্তিযোদ্ধা তার প্রমাণপত্র চায় হাসপাতাল। পরে মোবাইল ফোনে তোলা সনদের কপি দেখানো হয়।  

এ বিষয়ে গাজীপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক জেলা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা সাবেক এমপি কাজী মোজাম্মেল হক জানান, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা বিজয়ের মাসেও হাসপাতালে চিকিৎসা না পাওয়া দুঃখজনক ঘটনা। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে অবশ্যই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।

হাসপাতালের পরিচালক ডা. হাফিজুর রহমান জানান, বিষয়টি তিনি বৃহস্পতিবার শুনেছেন। বিস্তারিত জেনে এ ব্যাপারে কারও কোন দায়িত্বে অবহেলা থাকলে তার বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক তপন কান্তি সরকার বলেন, জরুরি বিভাগ কখনো ডাক্তার ছাড়া থাকে না। হয়তো ওই মুক্তিযোদ্ধা যখন গেছেন তখন জরুরি কোন কাজে হাসপাতালের অন্যত্র ছিলেন। হাসপাতালে একজন মাত্র নিউরো সার্জন আছেন ।  

বুধবার হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের পুরুষ ওয়ার্ডের দায়িত্ব পালন করেছিলেন সিনিয়র নার্স নিপা দাস, সুমা ও তানিয়া।

নার্স নিপা জানান, এ রোগী তাদের ওয়ার্ডে আসেননি।

হাসপাতালের ভর্তি রোগী কীভাবে হাসপাতাল ছেড়ে যায়- জানাতে চাইলে ওই নার্স জানান, হয়তো কাগজপত্র নিয়ে জরুরি বিভাগ থেকেই উনি চলে গেছেন। আমাদের ওয়ার্ডে ওনার কোন কাগজপত্র জমা দেওয়া হয়নি।