খুলনার দাকোপ উপজেলার চালনা পৌরসভা নির্বাচনে প্রার্থীদের প্রচারণায় উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীসহ নির্বাচনের চার মেয়র প্রার্থীর পক্ষে মাঠে নেমেছেন কর্মী-সমর্থকরা। এ পৌরসভায় হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ধারণা করছেন ভোটাররা। নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ২৮ ডিসেম্বর চালনা পৌরসভায় ভোট। তবে পৌরবাসী বলছেন, মূল লড়াই হবে বর্তমান আর সাবেক মেয়রের মধ্যে।
চালনা পৌর নির্বাচন সূত্র জানায়, ২০০৪ সালের ১৩ নভেম্বর প্রতিষ্ঠিত চালনা পৌরসভায় তৃতীয়বারের মতো নির্বাচন হতে যাচ্ছে। এবার ১ লাখ ৩ হাজার ৫৮ জন ভোটার ইভিএমে ভোট দেবেন। ৯ দশমিক ৪৯ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে গঠিত পৌরসভাটি ইতিমধ্যে দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত হয়েছে। চালনা পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী সনত কুমার বিশ্বাস বর্তমান পৌরসভা মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সর্বশেষ ২০১৯ সালের উপজেলা নির্বাচনে এ পৌরসভা ভোটকেন্দ্রে নৌকার প্রার্থী ১ হাজার ২০০ ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেন। সাবেক মেয়র অচিন্ত্য কুমার মন্ডলের সঙ্গে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। অন্যদিকে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী আবুল খায়ের খান ২০০৪ সালে পৌরসভায় প্রথম প্রশাসক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। ২০১১ সালের পৌরসভা নির্বাচনে তিনি বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থী অচিন্ত্য কুমার মন্ডলের থেকে মাত্র ১৬৭ ভোট কম পেয়েছিলেন।
উপজেলা আওয়ামী লীগ সূত্র জানায়, এবারের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে গত নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থী চালনা পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সনত কুমার বিশ্বাসকে। তাকে একক প্রার্থী হিসেবে দাকোপ উপজেলা ও চালনা পৌর আওয়ামী লীগের যৌথ সভায় অনুমোদন করা হয়েছে।
উপজেলা বিএনপি সূত্র জানায়, দাকোপ উপজেলা বিএনপির যৌথ সভায় দলের উপজেলা কমিটির সভাপতি ও সাবেক পৌর প্রশাসক আবুল খায়ের খানকে একক প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। তবে গত ১০ বছরে পৌরসভা এলাকায় বিএনপির সাংগঠনিক তৎপরতা কম থাকায় প্রতিদ্বন্দ্বিতায় টিকে থাকতে প্রচারণায় তাকে অনেক বেশি সক্রিয় হতে হবে।
পৌরবাসী জানান, প্রার্থী ৪ জন হলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা বর্তমান ও সাবেক মেয়রের মধ্যে। কারণ সনত কুমার বিশ্বাস আওয়ামী লীগের প্রার্থী। দলের একটি বড় অংশ তার জন্য কাজ করবে। তাছাড়া দলীয় প্রভাব তো রয়েছেই। অন্যদিকে সাবেক মেয়র ড. অচিন্ত্য কুমার মন্ডল আওয়ামী লীগের সাবেক সাংসদ ননী গোপাল মন্ডলের অনুসারী। ফলে আওয়ামী লীগের একটি অংশ তার প্রচারণায় কাজ করছে। তাছাড়া তিনি চালনা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ। এর আগে দীর্ঘদিন তিনি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ছিলেন। দীর্ঘদিন শিক্ষকতার কারণে পৌর এলাকায় তার সাবেক ও বর্তমান অনেক শিক্ষার্থী। এ কারণে তার সুবিধাও বেশ। অন্যদিকে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় না থাকায় বিএনপি নেতাকর্মীরা তেমনভাবে মাঠে নেই। এ ছাড়া, স্বতন্ত্রপ্রার্থী গৌতম কুমার রায় একজন ধর্ম প্রচারক। তিনি হঠাৎ করে প্রার্থী হয়েছেন।
সনত কুমার বিশ্বাস বলেন, আওয়ামী লীগ কখনো ভয়ভীতি ও হুমকি দেয় না। তবে, অচিন্ত্য কুমার মন্ডল বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কিত আমরা।