দেশের শতভাগ এলাকা আগামী জুনের মধ্যে বিদ্যুতায়নের আওতায় আসবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর উত্তরায় রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) ট্রেনিং ইনস্টিটিউট ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, রিহ্যাব ট্রেনিং ইনস্টিটিউট কারিগরি কাজে দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে কাজ করবে।
উত্তরা ১৭ সেক্টরের ‘কে’ ব্লকের ৮ নম্বর সড়কে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রিহ্যাব সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিন কাজল।
রিহ্যাব সহসভাপতি (ফিন্যান্স) প্রকৌশলী মোহাম্মদ সোহেল রানার উপস্থাপনায় এতে বক্তব্য দেন রিহ্যাব সিনিয়র সহসভাপতি নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন, সহসভাপতি কামাল মাহমুদ, রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খাঁন মুকুল এবং রিহ্যাব ট্রেনিং ইনস্টিটিউট স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ড. প্রকৌশলী মাসুদা সিদ্দিক রোজী প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে রিহ্যাবের সাবেক নেতা, পরিচালক এবং সদস্য প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। আগামীতে রিহ্যাব ট্রেনিং ইনস্টিটিউট একটি বিশ্ববিদ্যালয় রূপে আত্মপ্রকাশ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন রিহ্যাব নেতারা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, গ্রিড এলাকায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন হয়েছে। এটি মোট জনগণের ৯৮ শতাংশ। বাকি ২ শতাংশ পাহাড় বা চর এলাকায় বাকি। আগামী জুনের মধ্যেই দেশ শতভাগ বিদ্যুতের আওতায় আসবে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয়েছে, বড় বড় প্রকল্পের কাজ হচ্ছে। মাতারবাড়ীতে প্রায় সাত বিলিয়ন ডলারের কাজ চলছে অথচ আমাদের জনবল সেখানে নেই। সেখানকার প্রায় প্রতিটি জনবল জাপান ও ফিলিপাইনের। আমাদের দক্ষ জনশক্তির প্রয়োজন খুব বেশি। ভালো ম্যানেজমেন্টের অভাব রয়েছে। আমাদের পায়রা পাওয়ার প্ল্যান্টের কাজ শেষ হলেও সেটি চালানোর মতো দক্ষ জনশক্তি নেই। সব কর্মী দেশের বাইরে থেকে আসা।
নসরুল হামিদ বলেন, রিহ্যাব ট্রেনিং ইনস্টিটিউট ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মধ্য দিয়ে রিহ্যাব নির্মাণ শিল্পে দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে আরও একধাপ এগিয়ে গেল।
তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশে নির্মাণ শিল্পে দক্ষ জনশক্তির প্রচুর অভাব রয়েছে। আমাদের অনেক প্রকল্পে বিদেশিরা অল্প সময়ে কাজ শেষ করে দিচ্ছে কিন্তু দক্ষ জনশক্তির অভাব থাকায় আমাদের নিজ দেশের লোকদের দিয়ে প্রকল্প শেষ করতে দীর্ঘ সময় লাগছে। কনস্ট্রাকশন ম্যানেজমেন্ট এ আমাদের আরও এগিয়ে যেতে হবে।
আবাসন খাতের বিষয়ে তিনি বলেন, গ্রাহক টাকা দিয়ে বছরের পর বছর ঘুরেও প্লট বা ফ্ল্যাট বুঝে পাচ্ছেন না। গ্রাহকের এ হয়রানি দূর করতে দেশের আবাসন খাতকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে হবে। এ কাজে মূল ভূমিকা রাখতে পারে রিহ্যাব। এতে গ্রাহকদের হয়রানি কমবে আবার শৃঙ্খলাও তৈরি হবে। বিদেশের দক্ষ প্রকৌশলীরা দুই বছরে ২০ তলা বিল্ডিংয়ের কাজ শেষ করে। কিন্তু আমাদের দক্ষ জনবল না থাকায় সেই কাজ করতে কয়েক বছর লেগে যায়। রিহ্যাব ট্রেনিং ইনস্টিটিউট এ ড়্গেত্রে বড় ভূমিকা পালন করতে পারে। প্রয়োজনে বিদেশ থেকে ট্রেইনার এনে আমাদের জনবলকে এ ইনস্টিটিউটে প্রশিক্ষণ দেওয়া যেতে পারে।
ভালো প্রযুক্তি ব্যবহার করে সাশ্রয়ী মূল্যে কীভাবে মজবুত কাঠামো তৈরি করা যায় সেদিকে নজর দেওয়ার আহ্বান জানান বিদুৎ প্রতিমন্ত্রী।
সভাপতির বক্তব্যে রিহ্যাব সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিন কাজল বলেন, দিনটি রিহ্যাবের জন্য অনেক বড় একটি আনন্দের এবং অর্জনের। নিজস্ব ২৪ কাঠা জমিতে রিহ্যাব ট্রেনিং ইনস্টিটিউট ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হচ্ছে আজ। এ কাজে বিভিন্ন সময়ে যারা সহযোগিতা করেছেন তাদের ধন্যবাদ জানান তিনি।
রিহ্যাব ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের বিস্তারিত তুলে ধরে রিহ্যাব সভাপতি বলেন, এখন পর্যন্ত পাঁচটি ট্রেডে তিন মাসব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থী প্রশিক্ষণ নিয়েছে। এখান থেকে প্রশিক্ষণ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে গড়ে প্রায় ৮৫ শতাংশের ওপরে বিভিন্ন নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে।
বেকার সমস্যা সমাধানে কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম বলে মত দেন তিনি।