‘হোয়াইট পেপার’ নিয়ে ইরাকিদের হাহাকার

ইরাকে আগামী অর্থবছরে সম্ভাব্য বাজেটের একটি খসড়া সম্প্রতি ফাঁস হওয়ার পর আতঙ্ক তৈরি হয়েছে দেশটির জনগণের মধ্যে। ওই খসড়া বাজেটে ইরাকি দিনারের অবমূল্যায়ন এবং অর্থনৈতিক সংকট কাটাতে সরকারি চাকুরেদের বেতন কমানোর কথা বলা হয়েছে। কয়েক দশক ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের ডলারের বিপরীতে ধুঁকছে ইরাকি দিনার। ২০২১ সালের বাজেট চূড়ান্ত করার আগে এর অবমূল্যায়ন বিষয়ে বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে আলোচনায় রয়েছে দেশটির সরকার।

খসড়া বাজেটে এক ডলারের বিপরীতে ইরাকি মুদ্রার মান ১ হাজার ৪৫০ দিনার করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ইরাকের কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্ধারিত ডলারের মূল্য ১ হাজার ১৮২ দিনার। ইরাক সরকারের ‘হোয়াইট পেপার’ নামে পরিচিত অর্থনৈতিক সংস্কার নীতিতে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কমানোরও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বেতন বাবদ খরচ জিডিপির ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১২ শতাংশে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে দেশটির সরকার।

খসড়া বাজেটে এ ধরনের প্রস্তাবের খবরে রীতিমতো হাহাকার করছেন ইরাকিরা। এটি বাস্তবায়িত হলে অর্থনৈতিক টানাপড়েন অনেক বেড়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। আলি কাদিম নামে ৫০ বছর বয়সী এক শিক্ষক বলেন, ইরাকে শ্রমশক্তির বড় অংশই সরকারি চাকরিজীবী। আমরা মধ্যবিত্ত, কিন্তু সরকারের সিদ্ধান্ত আমাদের সবচেয়ে দরিদ্র শ্রেণিতে নামিয়ে আনবে। তিনি বলেন, আমি দুটি ঋণ পরিশোধ করছি, যার পেছনে বেতনের তিনভাগই চলে যায়। সরকারের এসব সিদ্ধান্তের পর জানি না কতটা আয় থাকবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খসড়া বাজেট নিয়ে সমালোচনা হওয়ায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে ইরাকের অর্থ মন্ত্রণালয়। তাদের দাবি, এ ধরনের সমালোচনা আইনপ্রণেতাদের নিরপেক্ষ বিবেচনায় বাধা সৃষ্টি করবে। একাধিক কর্মকর্তা ফাঁস হওয়া খসড়া বাজেটের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তবে তাদের ধারণা, ওই খসড়ায় পরিবর্তন আনা হতে পারে। বিশেষ করে, নির্বাচনের আগে এ ধরনের প্রস্তাবে সরকারবিরোধী ক্ষোভ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আগামী জুনেই ইরাকের সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা।

তবে ইরাকি অর্থ মন্ত্রণালয় বলেছে, বাজেট প্রস্তুতকরণ একটি জটিল প্রক্রিয়া। এতে অনেক সময় প্রয়োজন হয়। অপরিণত খসড়া বাজেট মিডিয়ায় ফাঁস করে দেওয়া একেবারেই দায়িত্বহীন একটি কাণ্ড।