মড়ক লাগা এক ইনিংসে লজ্জার রেকর্ড দেখার পর অসহায়ভাবে অস্ট্রেলিয়ার কাছে আত্মসমর্পণ করল ভারত। ‘মহামারী’ যে ক্রিকেট মাঠেও দেখা দিতে পারে দিবা-রাত্রির টেস্টে সেটি হাড়েহাড়ে টের পেল দলটি।
অ্যাডিলেড টেস্টে ৮ উইকেটের এই জয়ে চার ম্যাচের সিরিজে এগিয়ে গেছে টিম পেইনের দল।
ঠিক ৪৬ বছর ৬ মাস আগের এক জুনে ভারত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে যে লজ্জায় পড়েছিল, এই করোনাকালে তা দলটি ছাপিয়ে যায়। বিরাট কোহলিরা শনিবার দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের সর্বনিম্ন ৩৬ রানে অলআউট হন।
১৯৭৪ সালে লর্ডসে দলটি দ্বিতীয় ইনিংসে করেছিল ৪২। মহামারীর বছরে ৩৬।
অথচ এই দিনটা ভারতীয় সমর্থকদের জন্য কতেই না গর্বের। ২০১০ সালের ১৯ ডিসেম্বর টেস্ট ইতিহাসের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে শচীন টেন্ডুলকার ৫০তম সেঞ্চুরি হাঁকান।
ভারত এই টেস্টের প্রথম ইনিংসে ২৪৪ করার পর অস্ট্রেলিয়াকে গুটিয়ে দেয় ১৯১ রানে। ৫৩ রানে পিছিয়ে থাকা অস্ট্রেলিয়ার এখন ছিল ৯০।
১ ওভারে ৯ রান নিয়ে দিন শুরু করা ভারত এলোমেলো হয়ে যায় অস্ট্রেলিয়ান পেসারদের নিখুঁত লাইন-লেংথে।
সফরকারীদের কেউ যেতে পারেননি দুই অঙ্কে, সর্বোচ্চ ৯ রান আসে মায়াঙ্ক আগারওয়ালের ব্যাট থেকে। শুরুতে ছোবল দেন কামিন্স। এরপর হেইজেলউড। লেজটুকু দ্রুত ছেটে দেন তিনিই। তার বোলিং ফিগার ৫-৩-৮-৫।
মাত্র ঘণ্টা খানেক টিকতে পারেন সফরকারীরা। দিনের দ্বিতীয় ওভারে ফিরতি ক্যাচ নিয়ে নাইটওয়াচম্যান জাসপ্রিত বুমরাহকে থামান কামিন্স। ওই ১৫ রানেই এরপর ফিরে যান চেতেশ্বর পুজারা, আগারওয়াল ও অজিঙ্কা রাহানে।
অধিনায়ক কোহলি ৪ করে ফেরার পর মহাবিপদ আরও স্পষ্ট হয়। এরপর চোট পেয়ে শেষ ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ শামি মাঠ ছাড়লে লজ্জার রেকর্ড সঙ্গী হয় টিম ইন্ডিয়ার।
টেস্ট ইতিহাসে এর চেয়ে কম রান আছে কেবল চারটি।
জয়ের টার্গেটে খেলতে নেমে বেশি সময় নেয়নি অস্ট্রেলিয়া। বাজে সময়ের মধ্য দিয়ে যাওয়া জো বার্নসের ফিফটিতে সহজেই সেই লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে স্বাগতিকরা। ম্যাথু ওয়েডের সঙ্গে বার্নসের ৭০ রানের উদ্বোধনী জুটি অজিদের কাজটা সহজ করে দেয়।
৫ চারে ৩৩ রান করা ওয়েডের রানআউটে ভাঙে শুরুর জুটি। মার্নাস লাবুশেনকে দ্রুত ফেরান রবিচন্দ্রন অশ্বিন। স্টিভেন স্মিথকে নিয়ে বাকিটা সহজেই সারেন বার্নস।
ছক্কায় ম্যাচ শেষ করা এই ওপেনার ৬৩ বলে করেন ৫১ রান। ইনিংসে ৭ চারের পাশে ছক্কা ওই একটিই।
দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া পেইন জিতেছেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার। প্রথম ইনিংসে সাতে নেমে খেলেন অপরাজিত ৭৩ রানের ইনিংস। দুই ইনিংস মিলিয়ে গ্লাভসে জমান ৭ ক্যাচ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ভারত ১ম ইনিংস: ২৪৪
অস্ট্রেলিয়া ১ম ইনিংস: ১৯১
ভারত ২য় ইনিংস: (আগের দিন শেষে ৯/১) ২১.২ ওভারে ৩৬ (আগাওয়াল ৯, বুমরাহ ২, পুজারা ০, কোহলি ৪, রাহানে ০, বিহারী ৮, ঋদ্ধিমান ৪, অশ্বিন ০, উমেশ ৪, শামি ১ আহত অবসর; স্টার্ক ৬-৩-৭-০, কামিন্স ১০.২-৪-২১-৪, হেইজেলউড ৫-৩-৮-৫)
অস্ট্রেলিয়া ২য় ইনিংস: (লক্ষ্য ৯০) ২১ ওভারে ৯৩/২ (ওয়েড ৩৩, বার্নস ৫১*, লাবুশেন ৬, স্মিথ ১*; যাদব ৮-১-৪৯-০, বুমরাহ ৭-১-২৭-০, অশ্বিন ৬-১-১৬-১)
ফল: অস্ট্রেলিয়া ৮ উইকেটে জয়ী
সিরিজ: ৪ ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে অস্ট্রেলিয়া
ম্যাচসেরা: টিম পেইন